শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২০ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ জুলাই, ২০২১ ২৩:১৭

ভয়ংকর ক্রিস্টাল মেথের গডফাদাররা কোথায়

মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম

ভয়ংকর ক্রিস্টাল মেথের গডফাদাররা কোথায়
Google News

নেশার জগতের নতুন সংযোজন ক্রিস্টাল মেথ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে কয়েক মাসে গ্রেফতার হয়েছেন কয়েকজন বাহক। কিন্তু জব্দ করা ক্রিস্টাল মেথ পাচারের ‘বস’রা ধরা পড়ছেন না। প্রশাসনের মতে, ক্রিস্টাল মেথ পাচারের ডনরা ‘কাট আউট’ পদ্ধতি অনুসরণ করার কারণে হদিস মিলছে না তাদের।

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মুজিবুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, পাচার চক্রের হোতারা মাদক বহন করেন না। ‘ক্রিস্টাল মেথের চালানের ক্ষেত্রে কিছু কৌশল অবলম্বন করে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বহন করা হচ্ছে। তাই হোতাদের গ্রেফতারের আওতায় আনা যাচ্ছে না। আমরা ক্রিস্টাল মেথের যে দুটি মামলা তদন্ত করছি তার হোতাদের বের করার চেষ্টা চলছে।’

র‌্যাব-৭ সহকারী পরিচালক নুরুল আবছার বলেন, বাহককে ধরার সঙ্গে সঙ্গে ক্রিস্টাল মেথের চালানের মূল ব্যক্তিদেরও গ্রেফতারের প্রচেষ্টা থাকে। কিন্তু তারা পাচারের সময় নানান কৌশল অবলম্বন করার কারণে ক্রিস্টাল মেথের সঙ্গে তাদেরও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার অভিযানে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ‘কক্সবাজার ভিত্তিক ইয়াবা পাচার চক্রের কয়েকজন হোতা দেশে ক্রিস্টাল মেথ পাচারে জড়িত। তারা ইয়াবার রুট দিয়েই ক্রিস্টাল মেথ নিয়ে আসছেন। ক্রিস্টাল মেথ পাচারের জন্য ‘কাট আউট’ পদ্ধতি অনুসরণ করছে। তাই বহনকারী ক্রিস্টাল মেথের ক্রেতা-বিক্রেতা কারোর নাম জানে না। বাহকদের মোবাইল নম্বর কিংবা বিশেষ কোড দেওয়া হয়। তাই, বাহক গ্রেফতার হলেও হোতারা থাকছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।’

অনুসন্ধানে জানা যায়, ক্রিস্টাল মেথ সেবকদের কাছে এটা আইস নামে বেশি পরিচিত। দেখতে স্বচ্ছ এ মাদকের কার্যকারিতা ইয়াবার চেয়ে শতগুণ বেশি। সিনথেটিক স্টিমুল্যান্ট জাতীয় এ মাদক মুখ, ধোঁয়া এবং ইনজেকশনের মাধ্যমে গ্রহণ করা যায়। গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই নার্ভ সার্কুলেশন বেড়ে যায়। তাই মাদক সেবনকারীদের কাছে দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে ভয়ঙ্কর এ মাদক। ক্রিস্টাল মেথ দামি মাদক হলেও দ্রুতই জায়গা করে নিয়েছে নেশার জগতে। তাই দামি এ মাদকের গ্রহণকারীদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইয়াবার বিকল্প হিসেবে অনেকে গ্রহণ করছে আইস। তাই ইয়াবা পাচার চক্রের হোতারা ইয়াবার রুটকে ব্যবহার করে মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া এবং ফিলিপাইন থেকে নিয়ে আসছে ক্রিস্টাল মেথের চালান। গত কয়েক মাসে মিয়ানমার হয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাচার হওয়ার পথে বেশ কয়েকটি চালান জব্দ করেছে প্রশাসন।

৪ মার্চ কক্সবাজারের টেকনাফে অভিযান চালিয়ে ক্রিস্টাল মেথের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় চালান জব্দ করেছে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। ওই অভিযানে দুই কেজি ক্রিস্টাল মেথসহ একজন ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়। এ চালান আটক হওয়ার পর চার মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও এখনো গ্রেফতার হননি এ চালানের হোতা। ২৫ ফেব্রুয়ারি নগরীর খুলশী থানাধীন মোজাফফরনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৪০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথসহ দুজনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে সিএমপির খুলশী থানা। মামলার অগ্রগতি নিয়ে খুলশী থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘এ চালানের হোতাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’ একইভাবে ১৩ জুলাই নগরে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১ কেজি ক্রিস্টাল মেথসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। ১৭ জুন চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের মইজ্জ্যারটেক এলাকায় অভিযান চালিয়ে ক্রিস্টাল মেথসহ একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ১ মে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশ অংশে অভিযান চালিয়ে ক্রিস্টাল মেথসহ একজনকে গ্রেফতার করে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের চট্টগ্রাম জেলা অঞ্চল। এ তিন চালানের বাহক গ্রেফতার হলেও ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন চালানের হোতা।