মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা

করোনার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ডেঙ্গু

দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আগস্টে ভয়াবহ পরিস্থিতির শঙ্কা

জয়শ্রী ভাদুড়ী

প্রতিদিন আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। মৌসুম আসতেই করোনার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। দেশে গতকাল করোনায় সর্বোচ্চ ২৪৭ জন মারা গেছেন, আক্রান্ত হয়েছেন ১৫ হাজার ১৯২ জন। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গতকাল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১২৩ জন। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আগস্টে ডেঙ্গু পরিস্থিতি খারাপের শঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মশা বিশেষজ্ঞ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, জুনের শুরুতে আমরা দেখেছি, এডিস মশার ঘনত্ব অনেক বেশি। সেই অনুযায়ী জুলাই মাসে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ার কথা বলা হয়েছিল,  বেড়েছেও। এ সংখ্যা আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে আরও বাড়বে। লকডাউনে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নের কাজ হয়নি। সেগুলো মশার প্রজননস্থল হিসেবে কাজ করায় আগামী মাসে রোগী আরও বাড়বে। খোলা জায়গা, বাসার ছাদ ও নির্মাণাধীন স্থাপনায় কীটনাশক ছিটানো ও জরুরি পদক্ষেপ না নিলে ডেঙ্গু রোগী নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।’

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১২৩ জনের মধ্যে ১২০ জনই রাজধানীর বাসিন্দা। দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন ৪৬৮ জন। জুলাইয়ের শুরু থেকেই ডেঙ্গু আক্রান্তের প্রবণতা ঊর্ধ্বমুখী। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৩৪৩ জন। শুধু জুলাইতেই আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৪৩০ জন। করোনা মহামারীর মধ্যে ডেঙ্গু রোগী বাড়ায় তৈরি হয়েছে উৎকণ্ঠা। তাদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে আলাদা হাসপাতালের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। গত রবিবার তিনি বলেছেন, ‘দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। প্রায় ১ হাজার ২০০ রোগী ইতিমধ্যে ভর্তি হয়েছে। নন-কভিড রোগীর চিকিৎসা, করোনা আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা, টেস্ট, টিকা সব মিলিয়ে একসঙ্গে করতে হচ্ছে। তাই আমরা বেশ কয়েকটি হাসপাতাল চিহ্নিত করেছি, যেখানে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা নেব। কারণ, যেখানে করোনা রোগীর চিকিৎসা হয়, সেখানে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব নয়। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল, লালকুঠি হাসপাতাল, রেলওয়ে হাসপাতালসহ আরও কয়েকটি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা হবে। স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে এ বিষয়ে জানিয়ে দেওয়া হবে। সেই অনুযায়ী আপনারা ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসা নেবেন।’ কভিড-১৯ মহামারীকালে জনগণকে দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু নিয়ে অবহেলা না করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক ও মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল ইসলাম। গত রবিবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের ভার্চুয়াল স্বাস্থ্য বুলেটিনে তিনি বলেন, ‘সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেলা সদর ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার অ্যান্টিজেন কিটের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। সরকারি হাসপাতালে এ পরীক্ষাটি বিনামূল্যে করার সুযোগ রয়েছে। ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে বিলম্ব না করে সরকারি কিংবা বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ডেঙ্গু পরীক্ষা করার অনুরোধ জানান তিনি।

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী বাড়ায় এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে আজ থেকে চিরুনি অভিযান শুরু করছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। ডিএনসিসির পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ সকাল ১০টায় মিরপুরের রূপনগর আবাসিক এলাকা থেকে এ অভিযান শুরু হবে। এ সময় উপস্থিত থাকবেন ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জোবায়দুর রহমান।

ডিএনসিসির আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (অঞ্চল-৩) আবদুল্লাহ আল বাকী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধে এডিস মশার লার্ভা নিধনে আমরা নিয়মিত কর্মসূচির পাশাপাশি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করি। আগের তুলনায় নাগরিক সচেতনতা অনেক বেড়েছে। বাসা বাড়িতে এডিসের লার্ভা খুব একটা পাওয়া যায় না। কিন্তু নির্মাণাধীন ভবনগুলোতে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার উপস্থিতি অনেক বেশি পাওয়া যায়। এ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা কর্মী পাঠিয়ে এসব জায়গায় স্প্রে করছি। সব প্রতিষ্ঠানের মালিক ও কর্মীদের সচেতন হওয়া জরুরি।