বৃহস্পতিবার, ৫ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা

বজ্রপাতে মৃত্যু কমাতে সচেতনতা বাড়াতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

বজ্রপাতে মৃত্যু কমাতে সচেতনতা বাড়াতে হবে

ড. তৌহিদা রশিদ

দেশে বজ্রপাতে মৃত্যু বেড়েই চলেছে। গতকাল চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ ইউনিয়নে বৃষ্টির সময় নদীর পাড়ে একটি ঘাটের ঘরে বজ্রপাতে বরযাত্রী দলের ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ড. তৌহিদা রশিদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, কখন বজ্রপাত হয়, কীভাবে বজ্রপাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায় এই ব্যাপারে আমাদের সচেতনতার অভাব আছে। যে কারণে মৃত্যু বাড়ছে। বজ্রপাতে মৃত্যু কমাতে একদিকে যেমন সচেতনতা বাড়াতে হবে, পাশাপাশি বজ্র নিরোধক দন্ডের ব্যবহার বাড়ানো, বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় নিরাপদ শেড তৈরিসহ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও আবহাওয়ার ধরন বজ্রপাতের জন্য অনুকূল। এ ছাড়া বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে সারা বিশ্বেই বজ্রপাত বাড়ছে। তাই বজ্রপাতে মৃত্যুও বাড়ছে। বাংলাদেশে বড় গাছ, বিশেষ করে উঁচু তালগাছের সংখ্যা কমে যাওয়াও বজ্রপাতে মৃত্যু বৃদ্ধির একটি কারণ। বজ্রপাত হয় উঁচু স্থানে। কোনো বাড়িতে উঁচু তালগাছ থাকলে সেই বাড়ির মানুষ বজ্রপাতের ঝুঁকি থেকে তুলনামূলক নিরাপদ থাকে। এ ছাড়া ভবনে বা বাড়িতে উঁচু করে বজ্র নিরোধক দন্ড লাগালে বজ্রপাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। বড় বড় ভবনের কারণে শহরে বজ্রপাতে মৃত্যু কম। অনেক ভবনে বজ্র নিরোধক দন্ড থাকে, কোনোটিতে রড বের করা থাকে। বজ্র এসব ভবনে পড়ে মাটিতে চলে যায়।

ড. তৌহিদা রশিদ বলেন, বজ্রপাতে বেশি মৃত্যু হয় খোলা মাঠে কৃষিকাজের সময়, হাওর বা নদীতে মাছ ধরা বা চলাচলের সময়। কারণ এসব জায়গায় উঁচু গাছ বা ভবন নেই। আবহাওয়া খারাপ হলে আশ্রয় নেওয়ার জায়গাও নেই। চাঁপাইনবাবগঞ্জে বরযাত্রী দলের যে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, তারা বৃষ্টিতে আশ্রয় নিয়েছিল চারদিক খোলা একটা শেডের নিচে। শেডটি নিরাপদ ছিল না। চারদিকে দেয়াল ছিল না, বজ্র নিরোধক দন্ডও ছিল না। চারদিক খোলা থাকলে শেডের বাইরে বজ্রপাত হলেও মানুষের মৃত্যু হতে পারে। আবার শেডের ওপর বজ্র নিরোধক দন্ড না থাকলে শেডের ওপর বজ্রপাতে মৃত্যু হতে পারে। এ জন্য বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় বজ্র নিরোধক দন্ডসহ নিরাপদ শেড তৈরি করতে হবে। কৃষিভূমির আশপাশে, নদী বা হাওর এলাকায় নিরাপদ শেড তৈরি করতে হবে, যাতে আবহাওয়া খারাপ হলে মানুষ আশ্রয় নিতে পারে। মোবাইল টাওয়ারগুলোতে বজ্র নিরোধক দন্ড লাগাতে হবে। বড় গাছগুলোকে রক্ষার পাশাপাশি নতুন করে সারা দেশে তালগাছ লাগাতে হবে। প্রতিটি বাড়িতে উঁচু করে বজ্র নিরোধক দন্ড লাগাতে হবে। সেই সঙ্গে সবার সচেতনতা বাড়াতে হবে। বৃষ্টির আগে কালো মেঘ বজ্রপাত তৈরি করে। এমনটা দেখলে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে। চারদিক ঘেরা ঘরের মধ্যে যেতে হবে। বজ্রপাতের পর আধা ঘণ্টা নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে হবে।