শিরোনাম
শুক্রবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০০:০০ টা

পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে পিটার হাসের বৈঠক নিয়ে কৌতূহল

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে পিটার হাসের বৈঠক নিয়ে কৌতূহল

মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস গতকাল বৈঠক করেছেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় দেড় ঘণ্টার এ বৈঠকে ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরানও অংশ নেন ছবি : যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস

ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় ফেরার দুই দিন পর মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস গতকাল বৈঠক করেছেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় দেড় ঘণ্টার এ বৈঠককে দুই পক্ষ থেকেই ‘রুটিন বৈঠক’ দাবি করা হয়েছে। তবে শ্রমমান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার নীতি ও নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত চাপের মধ্যে এ বৈঠক দেশের বিভিন্ন মহলে কৌতূহল তৈরি করেছে। বিশেষত নির্বাচনের আগে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার সতর্কবার্তা এ কৌতূহল বাড়িয়েছে বহুগুণ।

পিটার হাসের সঙ্গে হওয়া বৈঠকে পররাষ্ট্র সচিব ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান, উত্তর আমেরিকা অনুবিভাগের মহাপরিচালক খন্দকার মাসুদ উল আলম প্রমুখ। বৈঠকের বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব বা মার্কিন রাষ্ট্রদূত কেউই    সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি। দুজনই কোনো কথা না বলে আলাদা আলাদাভাবে বেরিয়ে যান অতিথি ভবন থেকে।

পরে বৈঠকের একটি ছবি দিয়ে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের ফেসবুক পেজে লেখা হয়েছে, ‘দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করতে আজ রুটিন বৈঠক করেছেন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস এবং পররাষ্ট্র সচিব মোমেন।’ বিকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘এটা একটি রুটিন বৈঠক। এ বৈঠকের বিষয়ে আপনারা (সাংবাদিকরা) জানলেন কীভাবে। আপনারা সবকিছুই জেনে যান।’ বৈঠকে নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নতুন কোনো চাপ দেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি তো বৈঠকে ছিলাম না। তবে আমাকে বৈঠক সম্পর্কে যে ব্রিফ করা হয়েছে, তাতে এ ধরনের কিছু বলা হয়নি।’ কূটনৈতিক সূত্রের খবর, সমসাময়িক প্রসঙ্গ নিয়েই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের ১১ দিনের ছুটিতে ঢাকার বাইরে থাকার সময় যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বজুড়ে শ্রম ইস্যুতে তাদের নীতি জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে। ওই নীতি ঘোষণার দিনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের কর্মীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা নেত্রী কল্পনা আক্তারের জেলজুলুমের প্রসঙ্গ টেনেছেন। বৈঠকে এ প্রসঙ্গ আলোচনা হয়ে থাকতে পারে। কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের ওই নতুন স্মারকের আওতায় বাংলাদেশকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হতে পারে, এমন আশঙ্কা করছে ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাস। তারা এরই মধ্যে সরকারকে এ ব্যাপারে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করার জন্য আগেই ভিসানীতি ঘোষণা করেছে ওয়াশিংটন। সেই নীতি কার্যকরও হচ্ছে। নির্বাচনের পথে বাংলাদেশ অনেকটাই এগিয়েছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই বৈঠকে রাজনীতি ও নির্বাচন প্রসঙ্গ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আলোচনায় এসেছে। দুপুরে বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ সাংবাদিকদের বলেছেন, আমেরিকা থেকে যে চিঠি দেওয়া হয়েছে নির্বাচনের সঙ্গে এ চিঠির সম্পর্ক নেই। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কিছু অবজারভেশনের কথা রয়েছে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও আইএলও এর পক্ষ থেকেও বাংলাদেশের শ্রম আইন নিয়ে কিছু কথা আছে। আমরা সেটা উন্নত করার চেষ্টা করছি। আমি মনে করি, বাংলাদেশকে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার মতো কিছুই নেই। বাংলাদেশে সে পরিস্থিতিও নেই। জানা যায়, শ্রম অধিকার লঙ্ঘনে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা ইস্যুতে বাংলাদেশ টার্গেট হতে পারে বলে ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাস যে সতর্কতা মূলক চিঠি দিয়েছে তার পরিপ্রেক্ষিতে ৪ ডিসেম্বর করণীয় নির্ধারণে আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক করবেন সরকারের কর্মকর্তারা।

সর্বশেষ খবর