শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২২:০৮

ফাগুন দিনের গান

তানিয়া তুষ্টি

ফাগুন দিনের গান
শীতের রুক্ষ দিনের অবসান ঘটিয়ে মেয়েরা বসন্ত উৎসবে হলুদ শাড়ি, চুলে ফুল দিয়ে নিজেদের সাজিয়ে তোলে। ♦ মডেল : বৃষ্টি ♦ পোশাক : রঙ বাংলাদেশ ♦ মেকওভার : নজরুল ♦ ছবি : মুনতাকিম
নানা রূপে-রঙে সেজে উঠেছে প্রকৃতি। পঞ্জিকার পাতা বলছে দিন কয়েক বাদে এসে হাজির হবে ঋতুরাজ বসন্ত। শীতের জড়তা  ভেঙে রঙিন ফুলের হাসি আর পাখির কলতান মন মাতাবে সবার। ধরায় বইবে আনন্দের এক স্রোতধারা। ঋতুরাজের সঙ্গে আমাদের তারুণ্যও যেন মিলেমিশে একাকার। নেচে-গেয়ে বসন্ত বরণের কত শত আয়োজন। প্রভাব থাকবে পোশাক, সাজসজ্জা আর রীতিতেও।

শীতের জড়তা ভেঙে প্রকৃতিতে এসেছে ঋতুরাজ বসন্ত। নানা রঙে-রূপে সেজে উঠছে চারপাশ। বাহারি সব ফুলের সমাহার যেন রঙের বৃষ্টি নামিয়েছে। গাছে গাছে পাখির কুহুকাকলি মর্ত্যে এনে দেয় স্বর্গীয় অনুভূতি। তাই তো বসন্ত এলে আন্দোলিত মনের মাঝে চলে অন্যরকম এক আনন্দের স্রোতধারা। প্রকৃতির যখন এত এত আয়োজন তখন উৎসব-পার্বণের এই দেশে বসন্ত বরণের পর্বটা থাকে অনেকটাই ঘটা করে। দিন দিন এই উৎসবের চাকচিক্য বাড়ছে চোখে পড়ার মতো। নানা অনুষ্ঠান আর রীতি পালনের মধ্য দিয়ে ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন বরণ করে নেওয়া এখন আমাদের উৎসবপ্রেমী হৃদয়ের রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বসন্ত ঋতু যৌবনের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়। তারুণ্য যেমন রংধনুর সাত রঙে রঙিন থাকে, বসন্তও তেমনি রঙিন থাকে। আর তাইতো বিশেষ এই ঋতুর সঙ্গে তরুণ-তরুণীর সখ্য বেশি। একটি ঋতুকে বরণ করে নিতে তাদের সাজপোশাকেও থাকে ব্যাপক উৎসাহের প্রকাশ।

এ উৎসবকে সামনে রেখে ফ্যাশন হাউসগুলো সাজে বর্ণিলভাবে। তাদের আয়োজনে থাকে অসাধারণ ডিজাইন আর নজরকাড়া রঙের পোশাক। বসন্তে ফোটা ফুলের রংকে থিম করে পোশাকের রং নির্ধারণ করা হয়। বেশ কিছু বছর আগে বসন্তের পোশাক হিসেবে শুধু হলুদকে বেছে নেওয়া হতো। কিন্তু বর্তমানে সে ধারণার পরিবর্তন ঘটেছে। বসন্তে ফোটা সব ধরনের ফুলের সঙ্গে মিল রেখে পোশাকের রং বাছাই করা হচ্ছে কমলা, লালচে কমলার সঙ্গে হলুদ, হলুদের সঙ্গে সবুজ অথবা হলুদ, সবুজ আর লালের মিশ্রিত এক রংকে।

পোশাকের রং বৈচিত্র্য নিয়ে দেশীয় ফ্যাশন হাউস ‘রঙ বাংলাদেশ’-এর কর্ণধার সৌমিক দাস বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফ্যাশন ভাবনায় বিশ্লেষণধর্মী অগ্রগতি ঘটেছে। তাই এখনকার বসন্ত পোশাকে দেশীয় বর্ণিল ফুল গাঁদা, পলাশ, শিমুলের রংকে প্রাধান্য দিয়ে অন্যান্য রঙের সংমিশ্রণ ঘটানো হয়েছে।’

শুধু রং আর ডিজাইনের দিকে নজর দিলে হবে না, নাতিশীতোষ্ণ এই বসন্ত ঋতুতে পোশাক হওয়া চাই স্বস্তিদায়ক। হরদম ছুটে চলায় পোশাক যেন কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে না পারে। মজার ব্যাপার হলো, বসন্তের এই সময়ে  কোন রঙে গরম ধরবে আর কোন রঙে স্নিগ্ধ থাকবেন তা নিয়ে খুব বেশি ভাবতে হয় না। শুধু পরিহিত পোশাকের ফেব্রিকের ব্যাপারে কিছুটা সচেতনতাই যথেষ্ট। পরিহিত পোশাকটি যেন অবশ্যই পাতলা হয়। সুতি কাপড়ের তৈরি পোশাক শরীরকে ঠান্ডা রাখে। সুতির সালোয়ার-কামিজ এবং ফতুয়া ও জিন্স ব্যবহার করতে পারেন। আর যারা শাড়ি পরতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তারা সুতির শাড়ি, টাঙ্গাইলের শাড়ি অথবা ব্লক-বাটিকের সুতি ট্রেন্ডি শাড়ি বেছে নিতে পারেন। বসন্তের গাঢ় রঙের পাশাপাশি আপনি নির্ভর করতে পারেন হালকা রঙের ওপর। আজকাল মেয়েরা হালকা রঙের ফ্লোরাল প্রিন্টেড কুর্তি পরছেন। ক্লাস, অফিস বা যে কোনো অনুষ্ঠানেও এসব কুর্তি মানিয়ে যায় খুব সহজে। কাপড় হিসেবে প্রাধান্য পাচ্ছে সাটিন, ভয়েল, লিনেন। কুর্তিগুলো লম্বা হলেও মেয়েদের পরতে যেন কোনো সমস্যাই হচ্ছে না। একই সঙ্গে তারা সুতি ফতুয়া, টপস, শার্ট বেছে রাখছেন পছন্দের তালিকায়। সিনথেটিকেরও চল আছে সুতির সঙ্গে। শুধু মনে রাখতে হবে ভারী জামা সাদা হলেও আরাম পাওয়া যাবে না। জায়গা বুঝে কাপড় নির্বাচন করতে হবে। খুব বেশি চলাফেরা করতে হলে সুতির তৈরি পোশাক না পরাই ভালো। তাড়াতাড়ি কুঁচকে যাবে। এক্ষেত্রে লিনেন কাপড় বেছে নিতে পারেন। দিনের বেলায় হালকা হলুদ, হালকা গোলাপি, বিভিন্ন শেডের প্যাস্টেল রংগুলো দেখতে ভালো লাগবে। রঙের সঙ্গে কাপড়ের প্রাধান্য দিন বসন্তের পোশাকে।

ছেলেরা যেহেতু দিনের বেশির ভাগ সময় বাইরে কাটায় তাই আরামদায়ক ফেব্রিকের কথা মাথায় রাখা উচিত। সেক্ষেত্রে সুতির চেয়ে আরামদায়ক আর কিছুই হতে পারে না। সুতি বা তাঁতে তৈরি কাপড়ের  পোশাক হতে পারে আপনার গরমের স্বস্তিদায়ক সঙ্গী।

আজকাল আরামদায়ক পোশাক হিসেবে তরুণ-তরুণী উভয়ের পছন্দ টি-শার্ট। বিশেষ করে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের কাছে এই পোশাকের  কোনো বিকল্প নেই। কারণ টি-শার্ট জিন্স, গ্যাবার্ডিন কিংবা অন্য প্যান্টের সঙ্গে বেশ মানিয়ে যায়। আর সব বয়সের মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের পোশাকের তালিকায় রাখতে পারেন এই পোশাক। ফ্যাশনে এখন গোল গলা ও কলারসহ দুই ধরনের টি-শার্টই বেশি চলছে। সেগুলো ফ্যাশনেবল বটে। টি-শার্টের কাপড় সম্পূর্ণ সুতি হলে তা বেশ আরামদায়ক হবে। তবে টি-শার্টেও এসেছে নতুন ডিজাইন। হাফ হাতার নিচের দিকে ও কলারে ভিন্ন কাপড়ের ব্যবহার চলছে।

এ তো গেল পোশাক ভাবনা। এবার চিন্তা করতে পারেন বসন্তবরণে আপনার সাজটা কেমন হবে। অনুষঙ্গ থাকবে কেমন? রূপ বিশেষজ্ঞ তাহমিদা হক বলেন, ‘ফাল্গুনের সাজটি প্রধানত লাল, হলুদ এবং বাসন্তী রং ঘিরেই হয়। মেয়েরা এই দিনে শাড়ি বা সালোয়ার কামিজ পরতে বেশি পছন্দ করে। এই দিনে খোঁপায় ফুল এবং কপালে টিপ থাকা বাঞ্ছনীয়। এর সঙ্গে হালকা সাজ এবং মোটা করে কাজল আর লাল রঙের লিপস্টিক লুকটা সম্পূর্ণ করে দেবে।’

এ সময়কার সাজে মেকআপ হবে হালকা। এমন দিনে রোদের ঝাঁজ থাকে বেশি। তাই মেকআপ নেওয়ার আগে মুখে ভালোভাবে ক্লিন করে নিন। এবার ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম লাগিয়ে নিন। এর ১০ মিনিট পর ফাউন্ডেশনের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা পানি মিশিয়ে মুখে লাগাতে হবে। এবার ত্বকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে  শেড নিবার্চন করুন। সবশেষে  চোখ দুটিকে সাজিয়ে নিন। একটু গাঢ় করে মাসকারা, আইলাইনার, কাজল আর হালকা আইশ্যাডো দিলে সাজটা ভালো লাগবে। অবশেষে লিপস্টিক আর কপালে একটি লাল রঙের বড় টিপ। বসন্ত বরণে যেহেতু সারা দিনই বাইরে কাটবে, তাই চুলের দিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। চুল খোলা রাখতে পছন্দ করেন অনেকেই। এ ক্ষেত্রে এক পাশে ক্লিপ আটকে তার ওপর ফুল গুঁজে দিতে পারেন। অথবা কানের পাশ দিয়ে হালকাভাবে গুঁজে দিতে পারেন কয়েকটি ফুল। ফুল বড় হলে একটি, ছোট হলে তিন-চারটি। চাইলে সামনের দিকের কিছুটা চুল ব্যাককোম্ব করে নিতে পারেন।  পেছনে চুল আটকানোর জায়গাটিতে আটকে দিতে পারেন পছন্দের ফুলটি।

এবার আসা যাক গয়নার বাজারে। বর্তমানে জুয়েলারি শপগুলোতে নজরকাড়া এন্টিক গয়না পাওয়া যাচ্ছে। হাল আমলে এই গয়নার চাহিদাও অনেক। সবচেয়ে মজার বিষয় একই গয়না শাড়ি, থ্রিপিস অথবা কুর্তি-ফতুয়ার সঙ্গে পরতে পারছেন। হাতের চুড়ি-বালাও মানিয়ে কিনে নিন কয়েকটি। গয়নার বাজারে আরেকটি বিষয় মেয়েদের নজর কেড়েছে, তা হলো- আংটি। বড় বড় আংটির বর্তমানে খুব কদর। হাতের কাছের বাজারে গয়নাগুলো না মিললেও অনলাইনে কেনার সুবিধা তো আছেই। এসবের পাশাপাশি পুঁতির গয়নার কদর কিন্তু কম নয়। হাতভর্তি কাচের চুড়ি বসন্ত সাজে দারুণ উপযোগী।

 


আপনার মন্তব্য