শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৫ মার্চ, ২০২০ ২১:১৭

রূপচর্চা

দশ ধাপে সমাধান

বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা বাড়ছে কোরিয়ান রূপচর্চার; যার ফল মিলছে হাতেনাতে। প্রাকৃতিক উপাদান, বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি ও নতুনতর উদ্ভাবনের গুণে মিলছে দাগহীন মসৃণ ত্বক।

ফেরদৌস আরা

দশ ধাপে সমাধান
♦ মডেল : শশী ♦ ছবি : মনজু আলম

কোরিয়ানরা বরাবরই আলাদা। তাদের স্বাতন্ত্র্য শুধু চেহারাতেই নয়, ত্বকচর্চায়ও। কোরিয়ান মেয়েদের দাগহীন ত্বক দেখলে যে কারও চোখ ধাঁধিয়ে যেতে পারে। জানেন কি এই দাগহীন, পেলব ত্বকের রহস্য হচ্ছে বিশেষ নিয়মে ত্বকচর্চা! যার ফল মিলছে হাতেনাতে। তাদের রূপরহস্যের কৌশল যে কোনো উৎসবে তো বটেই, নিত্যদিনের ত্বকের যত্নে ও ভীষণ জনপ্রিয়। পাঠকের জন্য রইল কোরিয়ান মেথড অনুযায়ী ত্বকের সমস্যার কয়েকটি সমাধান।

 

মেকআপ রিমুভাল

আমরা প্রতিদিন বাইরে বেরোলে রোদ, ধুলো ও ধোঁয়া (পলিউশন)-এর সংস্পর্শে আসি। দিন শেষে ত্বক হয়ে পড়ে মলিন। ত্বকের ক্লান্তিভাব কাটাতে বাইরে থেকে ঘরে ফিরে অয়েল বেস্ড ক্লিনজার দিয়ে মুখ মুছে নিতে হবে। মেকআপ  বাইরের ধুলো-পলিউশন দূর করতে এ ক্লিনজারের জুড়ি নেই। জোজোবার মতো এসেনশিয়াল অয়েল বা অয়েল বেস্ড ক্লিনজার ব্যবহার করা যেতে পারে।

 

ওয়াটার বেস্ড ক্লিনজার

শুধু কি ধুলো-ধোঁয়া? রোদে, গরমে মুখে জমে থাকা ঘাম ও ময়লা দূর করতে ওয়াটার বেস্ড ক্লিনজার বেশ প্রসিদ্ধ। এ ক্ষেত্রে গ্রিন টি বেস্ড ক্লিনজার বা রাইস ওয়াটার ব্যবহারও ব্যবহার করা যেতে পারে।

 

এক্সফোলিয়েশন

ত্বকের মৃত কোষ ত্বকের বয়স বাড়িয়ে দেয়। তাই প্রয়োজন হয় এক্সফোলিয়েশনের। এতে ত্বকের মৃত কোষ তো দূর হবেই, সঙ্গে রোমকূপে জমে থাকা ময়লাও কাটবে। সে ক্ষেত্রে চিনিদানা, কমলালেবুর খোসার গুঁড়া বা মসুর ডালের গুঁড়া আদর্শ।

 

টোনিং

ত্বকের কোমলতা বজায় রাখতে টোনিংয়ের পরামর্শ দেন অনেক বিশেষজ্ঞ। এতে ত্বকের পিএইচ ব্যালান্স বজায় থাকে। টোনিংয়ের জন্য লিকোরাইস এক্সট্র্যাক্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। যদি তাও সম্ভব না হয় তবে প্রাকৃতিক গোলাপজল তো আছেই।

 

এসেন্স

ত্বকের কালচেভাব কাটিয়ে লাবণ্য ধরে রাখতে সহায়ক এসেন্স। এ ক্ষেত্রে চালের এক্সট্র্যাক্ট বা  হাইড্রোলিক অ্যাসিড ব্যবহার করা যেতে পারে।

 

অ্যামপুল

এ ক্যাপসুলে বন্দী দীর্ঘযৌবনের রহস্য! অ্যামপুলে থাকে এমন কয়েকটি বিশেষ উপাদান যা জেদি ব্রণের দাগ, ত্বকের বলিরেখা বা চোখের নিচের কালচে দাগ  দূর করাসহ ত্বকের নানাবিধ সমস্যার মোক্ষম দাওয়াই। টি ট্রি অয়েল বা ভিটামিন ই অয়েল ক্যাপসুল বা অ্যামপুল এ ক্ষেত্রে আদর্শ।

 

শিট মাস্ক

চটজলদি ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে শিট মাস্কের জুড়ি মেলা ভার! কোরীয় পদ্ধতিতে ত্বক ডিটক্স করতে, প্রাকৃতিক আর্দ্রতা ও মসৃণভাব আনতে এর ভূমিকা অস্বীকার করার নয়। শুধু তাই নয়, সপ্তাহভর স্ট্রেস কাটাতে এ মাস্কের বিকল্প নেই! শসা বা গ্রিন টি মাস্কও এ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে।

 

আই ক্রিম

চোখের আশপাশের ত্বক খুবই সেনসিটিভ। এর প্রয়োজন বিশেষ যত্নের। প্রতি রাতে শুতে যাওয়ার আগে এবং অফিস থেকে বেরোনোর আগে চোখের আশপাশে আই ক্রিম লাগাতে হবে। ভালো হয় যদি এ ক্রিমে মধু বা জিংসেংয়ের মতো উপাদান থাকে।

 

ময়েশ্চাইরাইজার

ত্বককে আর্দ্র রাখতে, এমনকি ত্বকের শুষ্কতা দূর করতে প্রয়োজন ময়েশ্চারাইজিং ব্যবহার। আজকাল বাজারে অনেক ভালো ময়েশ্চারাইজার পাওয়া যায়। তবে এর পরিবর্তে মুখে দই বা দুধের সরও লাগানো যেতে পারে; যা ত্বককে করবে ময়েশ্চারাইজ।

 

সানস্ক্রিন

রোদের দাপট থেকে ত্বককে রক্ষা করার জন্য বেরোনোর আগে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। সানস্ক্রিন কেনার সময় তাতে সঠিক মাত্রায় এসপিএফ (সান প্রটেকশন ফ্যাক্টর) রয়েছে কিনা যাচাই করে নিতে হবে।


আপনার মন্তব্য