শিরোনাম
প্রকাশ : ১১ এপ্রিল, ২০২১ ১৪:১৫
আপডেট : ১১ এপ্রিল, ২০২১ ১৭:০১
প্রিন্ট করুন printer

হাত ধোয়া ও দৈহিক দূরত্বই করোনা থেকে সুরক্ষার সেরা পদ্ধতি

অনলাইন ডেস্ক

হাত ধোয়া ও দৈহিক দূরত্বই করোনা থেকে সুরক্ষার সেরা পদ্ধতি
ডা. ফাহিম ইউনুস

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্রামক ব্যাধি বিশেষজ্ঞ ডা. ফাহিম ইউনুস তার পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি মহামারী করোনাভাইরাস নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে টুইটারে নিয়মিত লেখালেখি করেন। তার এসব বিশ্লেষণমূলক লেখা ও তথ্য এরইমধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে। করোনা নিয়ে ডা. ফাহিমের পরামর্শ হলো আগামী কয়েক মাস বা বছর ধরে কভিড-১৯ এর সাথে আমাদের থাকতে হতে পারে। এ সত্যকে অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। তবে এ নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে জীবনটাকে আমরা যেন জটিল না করে তুলি। বরং এই বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে বাঁচতে শিখি।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে অনেকেই বারবার গরম পানি পান করেন। ডা. ফাহিমের মতে, এটা একেবারেই অপ্রয়োজনীয়। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে কোষের দেয়ালগুলিতে প্রবেশ করা করোনাভাইরাসকে ধ্বংস করা যায় না। হাত ধোয়া এবং দুই মিটার দৈহিক দূরত্ব বজায় রাখাই করোনা থেকে সুরক্ষার সেরা পদ্ধতি।

ডা. ফাহিম ইউনুসের পরামর্শ, করোনারোগী না থাকলে বাড়ি বারবার জীবাণুমুক্ত করার দরকার নেই। বাজার থেকে আনা ব্যাগ, গ্যাস স্টেশন, শপিং কার্ট এবং এটিএম সংক্রমণ সৃষ্টি করে না। হাত ধুয়ে নিন, যথারীতি স্বাভাবিক জীবনযাপন করুন। তার আরও কয়েকটি পরামর্শ : 

১. করোনা খাদ্যের মাধ্যমে সংক্রমিত হয় না। এটি ফ্লুর মতো সংক্রামক ফোঁটাগুলির সাথে সম্পর্কিত। খাবার অর্ডার দিয়ে করোনা সংক্রমিত হওয়ার কোনও ঝুঁকি নেই। ঘরে ফিরে সঙ্গে সঙ্গেই পোশাক পরিবর্তনেরও দরকার নেই এবং গোসল করতে হবে না। তবে অবশ্যই হাত ভালো করে সাবান দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।

২. করোনাভাইরাস বাতাসে উড়ে বেড়ায় না। ঘরে বসে না থেকে বাইরে হাঁটতে যেতে পারেন। সেক্ষেত্রে অবশ্যই শারিরীক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। 

৩. নিয়মিত সাবান ব্যবহার করুন। হাত ধোয়ার ক্ষেত্রে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল সাবানের দরকার নেই। করোনা ব্যাকটেরিয়া নয়, ভাইরাস।

৪. জুতার মাধ্যমে করোনাভাইরাস বাসায় নিয়ে আসার ঝুঁকি সেভাবে নেই বললেই চলে। ভিনেগার, আখের রস এবং আদা সেবন করে ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়া যায় না। এগুলো শুধু, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। 

৫. দীর্ঘক্ষণ ধরে একটানা মাস্ক পরলে তা শ্বাস-প্রশ্বাসে ব্যাঘাত ঘটায় এবং অক্সিজেনের স্তরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই মাস্ক শুধু লোকসমাগম ও ভিড়ের মধ্যে পরবেন। এককথায়, যখনই লোকজনের কাছাকাছি থাকবেন তখনই মাস্ক পরবেন। 

৬. করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে অনেকেই গ্লাভস পরেন। কিন্তু এটা মোটেও কার্যকরী কোনো উপায় নয়। কারণ গ্লাভস ভাইরাসের সংস্পর্শে আসতে পারে এবং সেটি দিয়ে মুখে স্পর্শ করলে করোনায় সংক্রমিত হতে পারেন। ভাইরাস থেকে দূরে থাকতে হাত ধোয়াই সবচেয়ে কার্যকরী উপায়।


বিডি প্রতিদিন/ফারজানা