বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ টা
সাক্ষাৎকার

বন্ডস্টাইনের পরিচিতি বিশ্বজুড়ে

সাইফ ইমন

বন্ডস্টাইনের পরিচিতি বিশ্বজুড়ে

দেশের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বন্ডস্টাইন টেকনোলজি লিমিটেড যার পরিচিতি এখন বিশ্বজুড়ে। এর সহপ্রতিষ্ঠাতা দুই বন্ধু মীর শাহরুখ ইসলাম ও যাফির শাফিঈ চৌধুরী এ বছর ‘ফোর্বস থার্টি আন্ডার থার্টি এশিয়া ২০২২’ তালিকায় স্থান করে নেন। বন্ডস্টাইন টেকনোলজি লিমিটেড কাজ করে ‘ট্র্যাকিং ডিভাইস’ ও আইওটি (ইন্টারনেট অব থিংকস) নিয়ে। বিশ্বের নামকরা সব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করে থাকে তারা। প্রতিষ্ঠানটির অগ্রযাত্রা নিয়ে কথা বলেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রতিষ্ঠানটি এখন বৈশ্বিক হয়ে উঠেছে। এ প্রসঙ্গে মীর শাহরুখ ইসলাম বলেন, ‘প্রত্যেকটা উদ্যোগই শুরু হয় একটা স্বপ্ন থেকে। আমরা যখন বন্ডস্টাইন শুরু করি জেমস বন্ড এবং আইনস্টাইনের নাম নিয়ে, তখন আমাদের স্বপ্ন ছিল পৃথিবীতে ভালো প্রভাব রাখবে- এমন কাজ যেন করতে পারি। আমাদের কাজগুলো প্রাত্যহিক। যেমন- রোড সেফটি নিশ্চিত করছে, প্রযুক্তির একেবারে নতুন ধারণা ইন্টারনেট অব থিংকস নিয়ে কাজ করছি। বর্তমানে আমরা গ্লোবালি কাজ করছি। আমাদের বিশ্বাসটাকে আমরা সত্য প্রমাণ করতে পেরেছি। তাই খুব বেশি ভালো লাগছে। মানুষের কাছে বাংলাদেশের নাম ভালো ভাবমূর্তির সঙ্গে পৌঁছে দিতে পেরেছি।’ মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে ২০১৬ সাল থেকে প্রযুক্তি সহায়তা দিতে শুরু করেন শাহরুখ-যাফিররা।  আর এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা, গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন সুরক্ষিত রেখে সারা দেশে পৌঁছে দিতে ব্যবহার করা হয় বন্ডস্টাইনের তৈরি বিশেষ বাক্স। নানা উদ্ভাবনী কার্যক্রমের সুবাদে গত বছর এক মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগও পেয়েছে বন্ডস্টাইন টেকনোলজি লিমিটেড। দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের সুবাদে এরই মধ্যে ২০১৯ ও ২০২০ সালে পরপর দুইবার বেসিস ন্যাশনাল আইসিটি অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে বন্ডস্টাইন। আইওটি খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ২০১৯ সালে পেয়েছে এশিয়া প্যাসিফিক আইসিটি অ্যালায়েন্স অ্যাওয়ার্ড (এপিকটা)। মীর শাহরুখ ইসলাম বলেন, ‘আমাদের দেশের প্রযুক্তি ভালো না, বাইরে থেকে প্রযুক্তির সাপোর্ট আনতে হবে- এ ধারণাটা এখন আর সত্যি নয়। আমাদের দেশেই এখন অনেক ভালো আন্তর্জাতিকমানের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। দারুণ ব্যাপার হলো এই ভুল ধারণাটা ভাঙতে আমাদের খুব বেশি কষ্ট করতে হচ্ছে না। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরাই আমাদের সমস্যাগুলো সমাধান করতে সক্ষম। এখন মানুষ অনেক বেশি ভরসা করছে দেশীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরে। আর যখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি পাচ্ছি আমরা তখন এই ভরসার জায়গাটা বেড়ে যাচ্ছে বহুগুণে।’ এই আস্থা থেকেই আমাদের দেশে তরুণরা প্রযুক্তিতে আরও এগিয়ে আসছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই তারা ভালো করছে। তরুণদের প্রতিনিধি এই মীর শাহরুখ ইসলাম বলেন, আমি মনে করি পৃথিবীতে আপনি যদি মেধা ভিত্তিকভাবে প্রথম ১০টা দেশের নাম বলেন তাহলে আমাদের দেশের তরুণরা কিন্তু থাকবে। আমাদের দেশের তরুণরা অনেক মেধাবী। তবে বিভিন্ন কারণে আমাদের মেধাবী তরুণরা আমাদের দেশে হয়তো অবস্থান করে না। তবে এটা স্বাভাবিক যে, যেখানে নিজের মেধা সঠিকভাবে পরিস্ফুটিত করতে পারবে সেই জায়গাতেই সে যাবে। আমাদের উচিত দেশের মেধাবীদের জন্য সুযোগ তৈরি করে দেওয়া। সরকারি জায়গা থেকে বিভিন্ন পৃষ্ঠপোষকতা যেমন আসছে তেমনি প্রাইভেট সেক্টরেও এগিয়ে আসতে হবে আমাদের। পাশাপাশি উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার প্রবণতা এখন অনেক বেশি বেড়েছে।

যা আমাদের জন্য ইতিবাচক দিক। আমাদের দেশের তরুণরা যত বেশি ঝুঁকি নেবে তত বেশি নতুন নতুন উদ্যোগ এবং উদ্ভাবন আমরা পাব। এর ফলে আমরা নিজেদের মেধার পরিচয় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও বেশি রাখতে পারব। আমি আরও বলব, আমাদের দেশের তরুণরা মেধাবী হওয়ার পাশাপাশি যথেষ্ট পরিশ্রমী। আমরা একদিন উন্নত বিশ্বের কাতারে সমানে সমানভাবে পথ চলব। এটা বেশি দূরে নয়। শুধু সময়ের ব্যাপার।’ ২০১২ সালের ডিসেম্বরে স্পেলবাউন্ডের মাধ্যমে গুগলের ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য একটা রোবট তৈরির কাজ পেয়েছিলেন শাহরুখ-যাফিররা। যে প্রজেক্টে রোবট বানানোর দায়িত্ব ছিল তাদের। মানুষ চিনতে পারে, কথা বলতে পারে, একটু-আধটু নড়াচড়া করতে পারে- এমন এক রোবট বানিয়ে চমকে দিয়েছিলেন তারা। মীর শাহরুখ ইসলাম বলেন, ‘স্পেলবাউন্ডের সাদমান ভাই, রুম্মান ভাই, রেজা ভাই- পার্টনারের চেয়েও বেশি, তাঁরা ছিলেন আমাদের মেন্টর। ব্যবসা কীভাবে করতে হয়, আমরা তাঁদের কাছ থেকে শিখেছি। ২০১৪ সালে তাদের সঙ্গে পার্টনারশিপেই আমরা চালু করি বন্ডস্টাইন।’ তিনি আরও বলেন, ‘উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার শুরু থেকেই আমাদের মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার ইচ্ছা ছিল। তখন এই কনসেপ্টের সঙ্গে সবাই পরিচিত ছিল না। ২০/২১ বছরের যে কেউ ব্যবসা করতে পারে এই ধারণাটাই ছিল না। এখন অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে।

সর্বশেষ খবর