শিরোনাম
প্রকাশ : ৯ জুলাই, ২০২০ ১৩:১২
আপডেট : ৯ জুলাই, ২০২০ ১৪:১৭

এবার চীনের ‘চার আঙুল’ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভারত!

অনলাইন ডেস্ক

এবার চীনের ‘চার আঙুল’ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভারত!
সংগৃহীত ছবি

চীন ও ভারতের সীমান্ত সংঘাত ঘিরে সৃষ্টি হওয়া উত্তেজনা টানা ৩ সপ্তাহ পর কিছুটা কমেছ। তবে চীন নিয়ে ভারতের দুশ্চিন্তা যেন কিছুতেই কমছে না। গালওয়ানে চীনের সেনারা কিছুটা পিছু হটলেও জট রয়ে গেছে প্যাংগং লেকের কাছে থাকা ফিঙ্গার পয়েন্টগুলো নিয়ে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের দাবি, প্যাংগং লেক এলাকায় ফিঙ্গার পয়েন্ট থেকে চীনা সেনা সরানোর প্রশ্নে আগামী দিনে বেইজিংয়ের সঙ্গে প্রবল দর কষাকষি করতে হতে পারে ভারতীয় সেনা ও কূটনীতিকদের। 

গত রবিবার রাত থেকে গালওয়ান উপত্যকার পেট্রোলিং পয়েন্ট ১৪ থেকে ভারতের সেনারাও তাঁবু সরাতে শুরু করে। মঙ্গলবার সেই প্রক্রিয়া শেষ হয়। একই সঙ্গে হটস্প্রিং ও গোগরা থেকেও পিছু নেমেছে চীন।

আজ বৃহস্পতিবার ভারতীয় সেনা সূত্রে বলা হয়েছে, হটস্প্রিং এলাকায় পেট্রোলিং পয়েন্ট-১৫ এর কাছে দু’পক্ষই সেনা সরানোর কাজ শেষ করেছে। যার অর্থ, দু’দেশই প্রায় দু’কিলোমিটারের বেশি পিছিয়ে মাঝে তিন কিলোমিটারের মতো বাফার জ়োন সৃষ্টি করেছে। ওই বাফার জ়োনে কী ভাবে টহলদারি হবে, তা ঠিক হবে আগামী সেনা কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠকে। যা খুব দ্রুত হতে চলেছে বলেই জানা গেছে।

গোগরা এলাকায় থাকা ১৭-এ পেট্রোলিং পয়েন্ট থেকেও পিছিয়ে যেতে শুরু করেছে উভয় বাহিনী। শুক্রবার ওই পয়েন্টে সেনা পিছিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শেষ হতে পারে। যদিও ভারতের মতে, বাফার জ়োন তৈরি করাটাই ভারতের একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়। কারণ চীন সীমানা পেরিয়ে ভারতের জমিতে বেশ কয়েক কিলোমিটার ঢুকে এসে ঘাঁটি বানিয়েছিল। দেখতে হবে সেই অধিকৃত জমি ছেড়ে তারা সীমানা পেরিয়ে নিজেদের এলাকায় ফিরে গিয়েছে কি না। তা না-হলে কখনওই সেটিকে সাফল্য বলা যায় না।
 
গালওয়ানে চীনা সেনার পিছিয়ে যাওয়া নয়াদিল্লিকে আপাত স্বস্তি দিলেও প্যাংগং লেকের কাছে ফিঙ্গার চার থেকে আট পর্যন্ত এখনও জাঁকিয়ে বসে রয়েছে চিনা সেনা। ভারতীয় সেনা সূত্রের বক্তব্য, যত ক্ষণ না সম্পূর্ণ পশ্চাদপসরণ হচ্ছে, ততক্ষণ কোনোভাবেই সেনা প্রত্যাহার বলা যায় না।

ভারত-চীন উভয় দেশই ফিঙ্গার চার থেকে আট পর্যন্ত এলাকাকে নিজেদের বলে দাবি করে এসেছে। সেই কারণে ওই বিতর্কিত এলাকাটিতে দু’দেশের সেনাই এতদিন টহল দিয়ে এসেছে। কিন্তু ৪ মে’র পরে ফিঙ্গার আট থেকে একেবারে চার পর্যন্ত নিজেদের সীমানা বলে দাবি করে ঘাঁটি বানায় চীনা। এই মুহূর্তে প্যাংগং লেককে ঘিরে পাহাড়ের বেরিয়ে থাকা ওই খাঁজ বা ফিঙ্গারগুলির মাথায় নিজেদের ঘাঁটি গেড়ে বসে রয়েছে তারা। রণকৌশলগতভাবে উঁচুতে থাকার সুবিধা ছাড়তে রাজি নয় চীন। বিশেষ করে স্থায়ী বাঙ্কার, পিলবক্স, নজরদারি টাওয়ার বানানোর পরে তারা কতটা এলাকা ছাড়বে, তা নিয়ে ঘোরতর সন্দেহ রয়েছে সেনায়।

যদিও ভারত সরকারের দাবি, গালওয়ানের পরে এ বার ফিঙ্গার এলাকাগুলি থেকে সেনা সরানোর জন্য চাপ বাড়াবে ভারত। কিন্তু দর কষাকষির প্রশ্নে স্নায়ুর যুদ্ধ ফিঙ্গার এলাকাগুলিকে নিয়েই হবে বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা 
 
বিডি প্রতিদিন/এনায়েত করিম


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর