শিরোনাম
প্রকাশ : ১ অক্টোবর, ২০২০ ১১:৪৮
আপডেট : ১ অক্টোবর, ২০২০ ১১:৫০

আজারবাইজান-আর্মেনিয়া যুদ্ধ: ইরানের মাটিতে গিয়ে আঘাত হেনেছে ৪টি মিসাইল

অনলাইন ডেস্ক

আজারবাইজান-আর্মেনিয়া যুদ্ধ: ইরানের মাটিতে গিয়ে আঘাত হেনেছে ৪টি মিসাইল

বিতর্কিত নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে ভয়াবহ যুদ্ধ শুরু হয়েছে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে। দুই দেশের এই যুদ্ধের মিসাইল গিয়ে আঘাত হানছে পার্শ্ববর্তী দেশ ইরানে। চারটি মিসাইল ইরানের মাটিতে গিয়ে পড়েছে বলে জনিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম আল-জাজিরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আর্মেনিয়ার দখলে থাকা নাগোরনো-কারাবাখ ঘিরে রবিবার ভোর থেকে পুরোদমে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে আজারবাইজান। এ লড়াইয়ে উভয়পক্ষের বিপুল সংখ্যক হতাহতের ঘটেছে।

এ লড়াইয়ের মিসাইল আঘাত হেনেছে ইরানের আর্মেনীয় সীমান্তবর্তী খোদা আফারিন কাউন্টির মোহাম্মদ সালেহলু গ্রামের কাছে।

আবাসিক এলাকার একেবারে কাছেই মিসাইলগুলো পড়লেও কোনও ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানা গেছে।

বুধবার চতুর্থতম মিসাইল আঘাত হানে ওই এলাকায়। আজারবাইজান নাকি আর্মেনিয়া এ মিসাইলগুলো ছুড়েছে, এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এর আগে ছোড়া তিনটি মিসাইল পড়ে অনাবাসিক এলাকায়। সেখানেও কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে নাগোরনো-কারাবাখর জানিয়েছে, আজেরি সেনাদের হামলায় আর ২৩ জন হতাহত হয়েছে।

চারদিন পার হওয়া এ লড়াইয়ে উভয় পক্ষের মিলে সহস্রাধিক সেনা নিহত হয়েছে। আর্মেনিয়ার দখলে থাকা সাতটি গ্রাম ও দুটি পাহাড়ি এলাকা পুনরুদ্ধার দাবি করেছে আজারবাইজান।

জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর আহ্বান সত্ত্বেও আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে দুই দেশ। রাশিয়াও সমঝোতার জন্য প্রস্তাব দিলে এখন পর্যন্ত উভয় দেশের কেউই রাজি হয়নি।

আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান উভয় দেশই সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর তারা দুটি স্বাধীন দেশে পরিণত হয়।

তবে নাগোরনো-কারবাখ অঞ্চল নিয়ে প্রতিবেশী দেশ দু’টির মধ্যে বিরোধ বাধে। এ নিয়ে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৯৯৪ সালে অঞ্চলটি দখলে নিয়ে নেয় আর্মেনিয়া।

যদিও নাগোরনো-কারবাখ অঞ্চলটি এখনও আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের এলাকা হিসেবে স্বীকৃত।

ওই যুদ্ধে কয়েক লাখ মানুষ মারা যায় এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে পড়ে। এই উদ্বাস্তুদের চাপ তৈরি হয় আজারবাইজানের ওপর। ২০১৬ সালেও অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দু’পক্ষ লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েছিল। সেসময় অন্তত ২০০ জন নিহত হয়েছিল।

চলতি বছরের গত জুলাইয়ে সীমান্তে দুপক্ষের মধ্যে লড়াইয়ে কমপক্ষে ১৬ জন নিহত হয়। নিহতদের মধ্যে আজারবাইজানের উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাও রয়েছেন। এরপর থেকে দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।

বিডি প্রতিদিন/কালাম


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর