শিরোনাম
প্রকাশ : ১ অক্টোবর, ২০২০ ১৭:০৪

জাতিসংঘে এক জোট হয়ে ইরানকে আক্রমণ ইসরায়েল ও আমিরাতের

অনলাইন ডেস্ক

জাতিসংঘে এক জোট হয়ে ইরানকে আক্রমণ ইসরায়েল ও আমিরাতের
ফাইল ছবি

সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে দেয়া ভাষণে আবারও ইরানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগের পুনরাবৃত্তি করেছেন। তারা দুজনেই ইরানের বিরুদ্ধে এমন সব অভিযোগ উত্থাপন করেছেন যা কেবল রাজনৈতিক খেল-তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়।

আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার ভাষণে কোন প্রমাণ ছাড়াই পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের তিনটি দ্বীপের উপর মালিকানা দাবি করেছেন। অথচ ঐতিহাসিক দলিল প্রমাণ অনুযায়ী ওই তিনটি দ্বীপের মালিক ইরান। তবে আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভিত্তিহীন দাবি ওই তিনটি দ্বীপের উপর ইরানের মালিকানাকে কেড়ে নিতে পারবে না এবং আমিরাতের এ ধরনের দাবির আইনগত কোনো ভিত্তি নেই। এ ব্যাপারে এক প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাঈদ খাতিবযাদে আমিরাতের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, যুদ্ধবাজ ইসরায়েলের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পশ্চিম এশিয়ায় সংকট সৃষ্টিতে আমিরাত অন্যতম সহযোগী দেশে পরিণত হলো। আমিরাত বছরের পর বছর ধরে ইয়েমেনের জনগণের উপর সৌদি গণহত্যায় সহযোগিতা করে আসছে আর এখন ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তারা ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।

বাস্তবতা হচ্ছে, পশ্চিম এশিয়ায় সংকট সৃষ্টিতে ইসরায়েল মুখ্য ভূমিকা পালন করছে। ইসরায়েলের সঙ্গে আমিরাতের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার মাধ্যমে এ অঞ্চলে সংকট সৃষ্টিতে ইসরায়েলের নীতিকে সমর্থন দেয়া হলো। সে কারণে আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগের পুনরাবৃত্তি করে মূলত তাদের ধ্বংসাত্মক নানা পদক্ষেপ ও আচরন থেকে এ অঞ্চলের জনগণের দৃষ্টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছেন বলে পর্যবেক্ষকরা মনে। রাজতন্ত্র শাসিত এ অঞ্চলের কয়েকটি আরব দেশের আচরণ খুবই সন্দেহজনক। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি শিশু হত্যা ও গণহত্যায় জড়িত থাকার কারণে আন্তর্জাতিক সমাজের উচিত ইসরায়েলের বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নেয়া। আর এ থেকে আন্তর্জাতিক সমাজের দৃষ্টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্যই ইসরায়েল ও আমিরাত ইরানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ আরোপ করেছে।

এদিকে, ইহুদিবাদী ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে দেয়া ভাষণে দাবি করেছেন, ইরান পরমাণু বোমা অর্জনের চেষ্টা করছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ বলে অভিহিত করেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু মিথ্যা অভিযোগ তুলে ইরানকে এ অঞ্চলসহ সারা বিশ্বের জন্য হুমকি বলে প্রচার চালাচ্ছেন‌। অথচ ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বড় পরমাণু অস্ত্রের গুদাম গড়ে তুলেছে যা কিনা সারা বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য বিরাট হুমকি।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইসরায়েল ও আমিরাত ইরানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে এ অঞ্চলের বাস্তবতাকে অস্বীকার করতে পারবে না। কারণ ইসরায়েল হচ্ছে পশ্চিম এশিয়ায় সংকট সৃষ্টির মূল উৎস। আর এর সাথে যুক্ত হয়েছে আমিরাত ও বাহরা‌ইনের মত সরকারগুলো। আর পর্দার আড়ালে থেকে তাদেরকে সমর্থন দিচ্ছে সৌদি আরব। সূত্র : পার্সটুডে।

বিডি-প্রতিদিন/শফিক


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর