শিরোনাম
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি, ২০২১ ০১:৩৮
আপডেট : ২৭ জানুয়ারি, ২০২১ ১০:২৯
প্রিন্ট করুন printer

দুই মেয়েকে হত্যার পর মায়ের দাবি 'ওদের বাঁচিয়ে তুলতে পারব'

অনলাইন ডেস্ক

দুই মেয়েকে হত্যার পর মায়ের দাবি 'ওদের বাঁচিয়ে তুলতে পারব'

বাড়িতে মা-বাবার হাতে খুন হলেন দুই বোন। গত রবিবার (২৪ জানুয়ারী) ভয়ঙ্কর এই ঘটনা ঘটেছে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের চিত্তুর জেলার মাদানাপাল্লে মণ্ডলে। পুলিশ মনে করছে, এই ঘটনার পিছনে অন্ধবিশ্বাস জড়িত কোনও কারণ রয়েছে। পুলিশ যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, তখন নিহত দুই তরুণীর মা দাবি করেন, একদিন সময় পেলেই তারা বাঁচিয়ে তুলতে পারবেন তাদের মেয়েদের।

নিহত ওই দুই তরুণীর নাম আলেখ্যা (২৭) এবং দিব্যা (২৩)। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দেখে, তারা দু’জনেই লাল শাড়ি পরা অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে রয়েছেন। তাদের মাথা থেকে করে রক্ত বের হচ্ছে। জানা গেছে, ডাম্বল দিয়ে মাথায় আঘাত করে খুন করা হয়েছে তাদের।

নিহত আলেখ্যা এমবিএ শেষ করে ভোপালের ফরেস্ট ম্যানেজমেন্ট নামক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। ছোট বোন সাই দিব্যা বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে স্নাতক শেষ করেছেন। তিনি গান শিখছেন ভারতের বিখ্যাত গায়ক ও কম্পোজার এ আর রহমানের চেন্নাই মিউজিক একাডেমিতে। লকডাউনের কারণে গত কয়েক মাস ধরে তারা বাবা-মায়ের সাথে বাড়িতেই ছিলেন।

পুলিশ জানায়, এই খুনের সঙ্গে অন্ধবিশ্বাস জড়িয়ে রয়েছে। কারণ দুই মেয়েকে খুনের আগে বাড়িতে পূজা হয়েছিল। ওই দম্পতি মনে করতেন, তাদের মেয়েদের মধ্যে কোনও অশুভ শক্তি বাসা বেঁধেছে। এজন্য দুই মেয়েকে নির্মমভাবে খুন করেন তাদের মা। ওই বাড়িতে চারজনই থাকতেন। পদ্মজা মেয়েদের মারার সময় তার স্বামী পুরষোত্তম কোনও বাধা দেননি। 

পদ্মজার মানসিক অবস্থা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে পুলিশের। কেননা পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর নিহতদের মা পুলিশকে বলেন- একদিন সময় দিলে তিনি তার মৃত মেয়েদের বাঁচিয়ে তুলবেন। তাদের ধারণা, মেয়েদের খুন করার পর আত্মহত্যা করার পরিকল্পনা ছিল ওই দম্পতির।

মেয়েদের খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত বাবা-মা ভি পদ্মজা এবং ভি পুরষোত্তম নাইডুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দু’জনেই উচ্চশিক্ষিত এবং শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে জড়িত। নিহতদের মা ভি পদ্মজা এমএসসিতে গণিতে স্বর্ণপদক পেয়েছিলেন এবং তিনি মাস্টারমাইন্ড আইআইটি স্কুলের প্রিন্সিপাল। অন্যদিকে, বাবা পুরষোত্তম একটি সরকারি ডিগ্রি কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ও রসায়ণের শিক্ষক। তবে উচ্চশিক্ষাও  দু’জনের মনের মধ্যে গেঁথে থাকা অন্ধবিশ্বাসকে দূর করতে পারেনি।


বিডী-প্রতিদিন/সিফাত আব্দুল্লাহ


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর