শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৯ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৮ জুন, ২০২১ ২৩:৫৩

ডেল্টা ছড়িয়ে পড়ছে পুরো অস্ট্রেলিয়ায়

Google News

করোনার ভারতীয় ধরন ডেল্টার সংক্রমণ ঠেকাতে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম বড় শহর সিডনি ও আশপাশ এলাকায় দুই সপ্তাহের কঠোর লকডাউন জারি করা হয়েছে। এর মাঝেই সেখানকার ১২৮ জনের শরীরে অতিসংক্রামক ডেল্টার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। কভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে নর্দান টেরিটরি, ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া ও কুইন্সল্যান্ডে। এর মধ্য দিয়ে কয়েক মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো দেশটির দূরবর্তী বিভিন্ন অঞ্চলে একসঙ্গে করোনা সংক্রমণের খবর পাওয়া গেল। জনস্বাস্থ্যবিদদের আশঙ্কা, করোনা মহামারীর নতুন একটি পর্যায়ের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। এদিকে বিশ্বে এক দিনে আরও ৬ হাজার ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে, শনাক্ত ৩ লাখ। সব মিলে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা সাড়ে ৩৯ লাখ।

আর আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ১৮ কোটি ১৯ লাখ ৩৪ হাজারে। এদিকে করোনার ডেল্টা ধরন অস্ট্রেলিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। সূত্র : রয়টাস, বিবিসি।

প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, এ এতে ভূমিকা রাখছে ভারত থেকে ছড়ানো ধরন ডেল্টা।

পরিস্থিতি সামাল দিতে এরই মধ্যে সিডনিতে দুই সপ্তাহের কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। নিউ সাউথ ওয়েলস অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ব্রাড হ্যাজার্ড জানান, সিডনির আশপাশের চারটি প্রতিবেশী অঙ্গরাজ্যে লকডাউন চলছে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ডেল্টা ধরন খুব ভয়ংকর। বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে।

দেশটির ফেডারেল ট্রেজারার জস ফ্রাইডেনবার্গ বলেন, এটা খুবই উদ্বেগজনক মুহূর্ত। সংক্রমণ ঠেকাতে সীমান্ত বন্ধ রাখা ও নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ ছাড়া কোনো উপায় নেই। তিনি বলেন, ‘সিডনি, ডারউইনের মতো বড় শহরের পাশাপাশি চারটি অঙ্গরাজ্যে লকডাউন চলছে। এর পরও সংক্রমণ বাড়ছে। মনে হচ্ছে অতিসংক্রামক ধরন ডেল্টার কারণে আমরা করোনা মহামারীর নতুন একটি পর্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছি।’

এক দিনে ৬ হাজার মৃত্যু : বিশ্বজুড়ে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যু উদ্বেগজনক হারে বাড়ছেই। রবিবার ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে আরও ৬ হাজার ৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন আক্রান্ত হয়েছেন ৩ লাখ ১৫ হাজার। আর সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩ লাখ ৩ হাজার ৩৬৫ জন।

ওয়ার্ল্ডোমিটারসের তথ্যানুযায়ী করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুতে এখন পর্যন্ত শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৩ কোটি ৪৪ লাখ ৯৪ হাজার ৬৭৭। এর মধ্যে মারা গেছেন ৬ লাখ ১৯ হাজার ৪২৪ জন। সুস্থ হয়েছেন ২ কোটি ৯২ লাখ ৭ হাজার ৩৩৫ জন। তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত। দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৩ কোটি ২ লাখ ৭৮ হাজার ৯৬৩। মারা গেছেন ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৭৬১ জন। সুস্থ হয়েছেন ২ কোটি ৯৩ লাখ ২ হাজার ২৬০ জন।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা ব্রাজিলে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত ১ কোটি ৮৪ লাখ ২০ হাজার ৫৯৮ জন। মারা গেছেন ৫ লাখ ১৩ হাজার ৫৪৪ জন। যুক্তরাষ্ট্রের পর সবচেয়ে বেশি মৃত্যু দেখেছে ব্রাজিল। তবে দেশটিতে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১ কোটি ৬৬ লাখ ১৩ হাজার ৯৯২ জন।

সংক্রমণ ও মৃতের তালিকায় এর পরই রয়েছে ফ্রান্স, রাশিয়া, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, আর্জেন্টিনা, ইতালি, কলম্বিয়া, স্পেন, জার্মানি, ইরান, পোল্যান্ড, মেক্সিকো, ইউক্রেন, ইন্দোনেশিয়া, পেরু, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশগুলো।