শিরোনাম
প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি, ২০২১ ১১:২৫
আপডেট : ১৮ জানুয়ারি, ২০২১ ১১:২৬
প্রিন্ট করুন printer

অন্যের সাফল্যে অসন্তুষ্টি মুমিনের বৈশিষ্ট্য নয়

সাআদ তাশফিন

অন্যের সাফল্যে অসন্তুষ্টি মুমিনের বৈশিষ্ট্য নয়

অন্যায় নিন্দাকারীর জন্য দুর্ভোগ: কিছু মানুষ অন্যের সাফল্য সহ্য করতে পারে না। কেউ আল্লাহর রহমতে তার থেকে এগিয়ে যাবে, এটা সে সহ্য করতে পারে না। তাই সে প্রতিনিয়তই তার সাফল্য ম্লান করার অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকে। তার মনোবল ভেঙে দিতে সামনে-পেছনে মিথ্যা ও অযৌক্তিক সমালোচনা করে। 

সফল হওয়ার জন্য নিজের কাজে মনোযোগ না দিয়ে অন্যের ক্ষতি করার জন্য বিভিন্ন ফন্দি আঁটে। মিথ্যা প্রচারণা চালায়, যা কখনোই একজন মুমিনের কাজ হতে পারে না। বরং এ ধরনের কাজ মানুষকে আরো পেছনে নামিয়ে দেয়। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘দুর্ভোগ সে লোকের, যে সামনে-পেছনে মানুষের নিন্দা করে। (সুরা : হুমাজাহ, আয়াত : ০১)

অমূলক ধারণ নিষেধ: অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে ঈমানদাররা, তোমরা অধিক অনুমান থেকে দূরে থেকো। কারণ কোনো কোনো অনুমান পাপ এবং তোমরা একে অন্যের গোপনীয় বিষয় সন্ধান কোরো না এবং একে অন্যের গিবত কোরো না। 

তোমাদের মধ্যে কি কেউ তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে চাইবে? বস্তুত তোমরা তো একে ঘৃণ্যই মনে করো। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবা গ্রহণকারী, পরম দয়ালু।’ (সুরা : হুজরাত, আয়াত : ১২)

অনুগ্রহ আল্লাহর ইচ্ছাধীন: তা ছাড়া সাফল্য আল্লাহর নিয়ামত। মহান আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকেই সফল করেন। যারা অন্যের সাফল্যে অযৌক্তিকভাবে ব্যথিত হয়, তারা মূলত আল্লাহর সিদ্ধান্তে খুশি হতে পারে না বলেই ব্যথিত হয়। কারণ পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘তারা কি আপনার রবের রহমত বণ্টন করে? আমিই দুনিয়ার জীবনে তাদের মধ্যে তাদের জীবিকা বণ্টন করি এবং তাদের একজনকে অন্যের ওপর মর্যাদায় উন্নীত করি, যাতে একে অন্যের দ্বারা কাজ করিয়ে নিতে পারে; আর আপনার রবের রহমত তারা যা জমা করে তা থেকে উৎকৃষ্টতর।’ (সুরা : জুখরুফ, আয়াত : ৩২)

আল্লাহর অনুগ্রহে বাধাদানকারী নেই: তাই কোনো মুমিন তার অন্য ভাইয়ের সাফল্যে ব্যথিত হতে পারে না। তাকে ধ্বংস করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হতে পারে না। আল্লাহ যদি কাউকে সফলতা দিতে চান, কারো হিংসা, বিদ্বেষ ও মিথ্যা অপবাদ, ষড়যন্ত্র কিছুই তার ক্ষতি করতে পারবে না। 

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ মানুষের প্রতি কোনো অনুগ্রহ অবারিত করলে কেউ তা নিবারণ করতে পারে না এবং তিনি কিছু বন্ধ করলে কেউ তার উন্মুক্ত করতে পারে না। আর তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাবান।’ (সুরা : ফাতির, আয়াত : ২)

অর্থাৎ মহান আল্লাহ কারো প্রতি রহমতের দৃষ্টি দিলে কেউ তার ক্ষতি করতে পারবে না। এমনকি পুরো পৃথিবী তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলেও তার কিছুই করতে পারবে না। একবার রাসুল (সা.) ইবনে আব্বাস (রা.)-কে বলেন, ‘জেনে রেখো, যদি সব মানুষ তোমার কোনো উপকারের উদ্দেশ্যে ঐক্যবদ্ধ হয় তাহলে ততটুকু উপকার করতে পারবে, যতটুকু আল্লাহ তাআলা তোমার জন্য লিখে রেখেছেন। 

অন্যদিকে যদি সব মানুষ তোমার কোনো ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে একতাবদ্ধ হয়, তাহলে ততটুকু ক্ষতি করতে সক্ষম হবে, যতটুকু আল্লাহ তাআলা তোমার তাকদিরে লিখে রেখেছেন।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৫১৬)

অতএব কারো সাফল্যে ব্যথিত না হয়ে খুশি হওয়া উচিত। তাকে সহযোগিতা করা উচিত। সফল হওয়ার জন্য নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে চেষ্টা করা উচিত। মহান আল্লাহ কারো চেষ্টাকেই বৃথা করেন না।

মহান আল্লাহ সবাইকে এই নিকৃষ্ট অভ্যাস ত্যাগ করার তাওফিক দান করুন।

বিডি প্রতিদিন/আবু জাফর


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০৮:৫৭
আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১০:৩৬
প্রিন্ট করুন printer

রাসুল (সা.) যে তিন কাজে বিলম্ব করতে নিষেধ করেছেন

মুফতি তাজুল ইসলাম

রাসুল (সা.) যে তিন কাজে বিলম্ব করতে নিষেধ করেছেন

যেকোনো নেক আমল দ্রুত করা উচিত। কেননা এই মূল্যবান সময় যেকোনো সময় হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। হাদিসে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘সাতটি বিষয়ের আগে তোমরা দ্রুত নেক আমল করো। তোমরা কি এমন দারিদ্র্যের অপেক্ষা করছ, যা তোমাদের সব কিছু ভুলিয়ে দেবে? নাকি ওই ঐশ্বর্যের, যা তোমাদের দর্পিত বানিয়ে ছাড়বে? নাকি এমন রোগের, যার আঘাতে তোমরা জরাজীর্ণ হয়ে পড়বে? নাকি সেই বার্ধক্যের, যা তোমাদের অথর্ব করে ছাড়বে? নাকি মৃত্যুর, যা আকস্মিক এসে পড়বে? নাকি দাজ্জালের, অনুপস্থিত যা কিছুর জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে, সে হচ্ছে সেসবের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট? নাকি কিয়ামতের অপেক্ষা করছ, যে কিয়ামত সর্বাপেক্ষা বিভীষিকাময় ও সর্বাপেক্ষা তিক্ত?’ (জামে তিরমিজি, হাদিস : ২৩০৬)

এই হাদিস সামনে থাকা সত্ত্বেও রাসুল (সা.) বিশেষভাবে তিন কাজে বিলম্ব করতে নিষেধ করেছেন।

রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘হে আলী, তিন কাজে দেরি করবে না। সময় হয়ে গেলে নামাজ আদায়ে, জানাজা এসে গেলে জানাজার নামাজ পড়তে এবং কুফু মিলে গেলে বিবাহে বিলম্ব করবে না।’ (তিরমিজি শরিফ)

১. যখন নামাজের সময় হয়, সঙ্গে সঙ্গে আদায় করা উত্তম। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘নামাজের প্রথম ওয়াক্ত আল্লাহর সন্তুষ্টি, আর শেষ সময় আল্লাহর ক্ষমা। (তিরমিজি ও মিশকাত, হাদিস : ৬০৬)

২. জানাজার নামাজ মাকরুহ সময়ও পড়া জায়েজ। জানাজা বিলম্ব করা মাকরুহ। কেননা মৃত ব্যক্তি যদি জান্নাতি হয়, তাহলে তাকে দেরি করার দ্বারা জান্নাতের নিয়ামত থেকে বঞ্চিত করা হলো। আর যদি জাহান্নামি হয়, তাহলে তাকে শাস্তি থেকে দূরে রাখা হলো।

৩. যখন ছেলে-মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হয় এবং কুফু বা সমমানের পাত্র-পাত্রী পাওয়া যায়, অভিভাবকের দায়িত্ব তাদের বিবাহের ব্যবস্থা করা। ছেলে-মেয়েদের যত দ্রুত বিবাহের ব্যবস্থা করা যাবে ততই তারা ব্যভিচার থেকে বাঁচতে পারবে। (তিরমিজি, মিশকাত, হাদিস : ৬০৫।

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১২:৫৮
প্রিন্ট করুন printer

সব দোয়া কবুল হয় না কেন?

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা

সব দোয়া কবুল হয় না কেন?
প্রতীকী ছবি

দোয়া ইবাদতের মূল। সর্বাবস্থায় যারা মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করে, আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন। আল্লাহ আমাদের সব দোয়াই কবুল করেন। কিছু দোয়ার ফলাফল তাড়াতাড়ি দেন, কিছু দোয়ার ফলাফল আখিরাতের জন্য জমা রেখে দেন। তবে অনেক সময় নিজেদের অনেক ভুলের কারণে দোয়া বিফলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই যথাযথ ফলাফল পাওয়ার জন্য ভুল শুধরে নেওয়া জরুরি। নিম্নে এমন কিছু বিষয় তুলে ধরা হলো, যেগুলোর কারণে কখনো কখনো বান্দার দোয়া বিফলে যেতে পারে।

ইখলাসহীনতা : মহান আল্লাহর দরবারে ইখলাসের সঙ্গে দোয়া করতে হয়। পরিপূর্ণ ইখলাস না থাকলে সে দোয়া বিফলে যাওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। রাসুল (সা.) বলেছেন, দোয়াও একটি ইবাদত। (আবু দাউদ, হাদিস : ১৪৭৯)

ইবাদত করতে হয় একমাত্র আল্লাহর জন্য। ইখলাসহীন ইবাদত মহান আল্লাহর কাছে মূল্যহীন। তাইতো পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের ইখলাসের সঙ্গে ইবাদত করতে আদেশ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তাদের কেবল এ নির্দেশই দেওয়া হয়েছিল যে তারা যেন আল্লাহর ইবাদত করে তাঁরই জন্য দ্বিনকে একনিষ্ঠ করে এবং নামাজ কায়েম করে ও জাকাত প্রদান করে। আর এটাই সঠিক দ্বিন।’ (সুরা : বায়্যিনাহ, আয়াত : ০৫)।

দোয়া কবুলের জন্য তাড়াহুড়া : অনেক সময় মানুষ দোয়ার ফলাফল পাওয়ার জন্য তাড়াহুড়া করে। দোয়া করার পর দ্রুত ফলাফল না পেলে হতাশ হয়ে পড়ে। এমনকি এ রকমও বলতে শুরু করে যে আল্লাহ আমার দোয়া কবুল করেন না। এতে আল্লাহ অসন্তুষ্ট। ফলে তার দোয়া বিফলে যাওয়াই স্বাভাবিক।

রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমাদের প্রত্যেক ব্যক্তির দোয়া কবুল হয়ে থাকে। যদি সে তাড়াহুড়া না করে আর বলে যে আমি দোয়া করলাম, কিন্তু আমার দোয়া তো কবুল হলো না।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৩৪০)। 

অতএব, দোয়া করার ক্ষেত্রে কখনো তার ফলাফল পাওয়ার জন্য তাড়াহুড়া করা যাবে না এবং ফলাফল পেতে দেরি হলে আল্লাহর ব্যাপারে অসংলগ্ন কথা বলা যাবে না।

গুনাহ ও রক্তের বন্ধন ছিন্ন করার দোয়া : গুনাহ ও আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার দোয়া মহান আল্লাহ কবুল করেন না। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘বান্দার দোয়া সর্বদা গৃহীত হয় যদি না সে অন্যায় কাজ অথবা আত্মীয়তার সম্পর্কচ্ছেদ করার জন্য দোয়া করে এবং দোয়ায় তাড়াহুড়া করে। (মুসলিম, হাদিস : ৬৮২৯)।

অমনোযোগ : দোয়ায় মনোযোগ না থাকলেও সে দোয়া আল্লাহর কাছে কবুল হয় না। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা কবুল হওয়ার পূর্ণ আস্থা নিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করো, তোমরা জেনে রাখো যে আল্লাহ নিশ্চয়ই অমনোযোগী ও অসাড় মনের দোয়া কবুল করেন না।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৩৪৭৯)।

গুনাহে অবিচলতা : দোয়া কবুল হওয়ার অন্যতম শর্ত হলো, গুনাহ ত্যাগ করে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করা। অতএব, দোয়া কবুল হওয়ার জন্য গুনাহ ত্যাগ করে মহান আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করা উচিত। কারণ যারা নিজেকে বদলায় না, মহান আল্লাহও তাদের বদলান না। 

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো সম্প্রদায়ের অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা নিজেরা পরিবর্তন করে। আর কোনো সম্প্রদায়ের জন্য যদি আল্লাহ অশুভ কিছু ইচ্ছা করেন, তবে তা রদ হওয়ার নয়। এবং তিনি ছাড়া কোনো অভিভাবক নেই। (সুরা : রাদ, আয়াত : ১১)।

হারাম ভক্ষণ : কখনো কখনো হারাম ভক্ষণ ও হারাম উপার্জনের কারণে মানুষের দোয়া কবুল হয় না। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মানুষের ওপর এমন এক যুগ অবশ্যই আসবে, যখন মানুষ পরোয়া করবে না যে কিভাবে সে সম্পদ অর্জন করল, হালাল উপায়ে, নাকি হারাম উপায়ে!’ (বুখারি, হাদিস : ২০৮৩)। অন্য হাদিসে রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র ও হালাল বস্তু ছাড়া গ্রহণ করেন না।’ (মুসলিম, হাদিস : ২২৩৬)।

তাই দোয়া কবুল হওয়ার জন্য অবশ্যই হালাল ভক্ষণ করতে হবে। হালাল উপায়ে উপার্জন করতে হবে। মহান আল্লাহ আমাদের সবার ত্রুটিবিচ্যুতি ক্ষমা করুন। সবাইকে দোয়া কবুলে প্রতিবন্ধক অভ্যাসগুলো ত্যাগ করে সঠিকভাবে দোয়া করার তাওফিক দান করুন। আমিন।


বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ সিফাত


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:১৮
প্রিন্ট করুন printer

যুব সমাজকে কোরআন তিলাওয়াতের আহ্বান ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক

যুব সমাজকে কোরআন তিলাওয়াতের আহ্বান ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর
পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান। ছবি- পিআইডি
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান বলেছেন, ‘পবিত্র কোরআনুল কারিম’ মানব জাতির হেদায়েত, কল্যাণ, শান্তি ও পরকালীন মুক্তির নির্দেশনা। প্রিয়নবী (সা.) ছিলেন এ পবিত্র গ্রন্থের প্রথম তিলাওয়াতকারী ও মহান শিক্ষক। এ পবিত্র কোরআনের তিলাওয়াত মানুষের আত্মশুদ্ধি ঘটায় এবং তাদের মানুষ হিসেবে উচ্চতর মর্যাদায় আসীন করে। তাই বিশ্বের তরুণ ও যুব সমাজকে বেশি বেশি পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও অধ্যয়নে মনোযোগী হতে হবে।’
 
বুধবার ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম মিলনায়তনে ওআইসি ইয়ুথ ক্যাপিট্যাল ঢাকা ২০২০ উপলক্ষে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তথ্য অধিদফতরের এক তথ্যবিবরণীতে তার এই বক্তব্যের কথা জানানো হয়েছে।
 
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠিত কোরআন তিলাওয়াত, তাফসির ও হিফজ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ সবসময় শীর্ষস্থান লাভ করে দেশকে বিশ্ব দরবারে গৌরবোজ্জ্বল করছে। পৃথিবীতে বাংলাদেশেই সর্বাধিক মসজিদ, মাদ্রাসা, মক্তব, হাফেজ, আলেম ও দীনের প্রচারক রয়েছে। দেশের আলেম - হাফেজদের উন্নয়নে বর্তমান সরকার বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে বেসরকারি সকল মাদ্রাসাকে সরকারি স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় নিজস্ব অর্থায়নে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। যেখানে হিফজুল কোরআনের ব্যবস্থাও রয়েছে।’
 
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, ‘দেশের তরুণ সমাজ ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে সচেতন। এই প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে ইসলামের সুমহান শিক্ষা অর্জনে তরুণ সমাজ অনেক বেশি অনুপ্রাণিত হবে। এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় আমাদের দেশের প্রতিযোগীরা অংশগ্রহণ করে বরাবরের মতই শীর্ষস্থান অধিকার করে দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনবে।’
 
বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ

আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২২:৩১
প্রিন্ট করুন printer

মুজিববর্ষ

আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতার উদ্বোধন বুধবার

অনলাইন ডেস্ক

আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতার উদ্বোধন বুধবার

মুজিব জন্মশতবর্ষ উদযাপনে ঢাকা ওআইসি ইয়্যুথ ক্যাপিটাল-২০২০ বাংলাদেশ প্রোগ্রামের আওতায় বুধবার বেলা ৩টায় বায়তুল মোকাররমস্থ ইসলামিক ফাউন্ডেশন অডিটোরিয়ামে আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতার উদ্বোধন অনুষ্ঠান ও মিডিয়া ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার তথ্য অধিদফতরের এক তথ্যবিবরণীতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান প্রধান অতিথি এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। আরও উপস্থিত থাকবেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আখতার হোসেন, ইসলামিক  কো-অপারেশন ইয়্যুথ ফোরামের সভাপতি তাহা আয়হান। ওআইসিভুক্ত মুসলিম ও  অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিরা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত হতে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ওআইসি ইয়্যুথ ক্যাপিটাল এবং ইসলামিক  কো-অপারেশন ইয়্যুথ ফোরাম যৌথভাবে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করছে।

বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ

 


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৭:০৫
প্রিন্ট করুন printer

কঠোর সাধনার মাধ্যমে রবের দিকে এগিয়ে যাওয়া

মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী

কঠোর সাধনার মাধ্যমে রবের দিকে এগিয়ে যাওয়া

আল্লাহর অসংখ্য সৃষ্টির মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো মানুষ। মানুষের গোলামি-দাসত্ব করার জন্যই আল্লাহ অন্যসব মাখলুক সৃষ্টি করেছেন। আর মানুষকে সৃষ্টি করেছেন আল্লাহর দাসত্ব-ইবাদতের জন্য। এ ব্যাপারে আল্লাহ বলেন, ‘ওয়ামা খালাকতুল জিন্না ওয়াল ইনসা ইল্লা লিয়াবুদুন। আর আমি মানুষ এবং জিন সম্প্রদায়কে সৃষ্টি করেছি আমার ইবাদত করার জন্য।’ সুরা জারিয়াত আয়াত ৫৬। আমরা আল্লাহর ইবাদত করব আর আমাদের গোলামি করবে পুরো বিশ্ব। সুফিরা বলেন, ‘ফাল্লাহুল মাওলা ফালাহুল কুল। যে পেল রব, সে পেল সব।’ অর্থাৎ আপনি যদি কোনোভাবে রবকে খুশি করতে পারেন, রবের সন্তোষ যদি কোনোভাবে আপনার ভাগ্যে জুটে যায় তবে দুনিয়া-আখিরাত সবকিছু আপনার পায়ে লুটিয়ে পড়বে। বিশ্বকবি আল্লামা রুমি বলেন, ‘রবের সঙ্গে এমন ভাব জমাও যেন তিনি তোমাকে জিজ্ঞেস করেন- বান্দা বল তোমার ভাগ্যলিপি কীভাবে লিখব?’ এ বিশ্বসংসারের যিনি স্বামী-মালিক তাঁর সঙ্গে যদি আমাদের প্রেম হয় তবে আমাদের দুনিয়া-আখিরাতের জীবন শান্তি-সমৃদ্ধিতে ভরে ওঠবে। তাই তো তাসাউফবিজ্ঞানের সাধকরা বলেন, প্রভুকে পাওয়ার সাধনা কর। তাঁকে পেলেই সব পাওয়া হবে। প্রভুকে পাওয়া সহজ নয়। এটা দীর্ঘ সাধনার ব্যাপার। আল্লাহ নিজেই বলছেন, ‘ইয়া আইয়ুহাল ইনসান! ইন্নাকা কাদিহুন ইলা রাব্বিকা কাদহান ফামুলাকিহ। হে মানুষ! কঠোর সাধনার মাধ্যমে তুমি তোমার রবের দিকে এগিয়ে যাও। সাধনার একপর্যায়ে তাঁর সঙ্গে তোমার সাক্ষাৎ ঘটবে। মিলন হবে। কেউ যখন প্রভুকে পাওয়ার সাধনা করে তখন একপর্যায়ে তার হƒদয় গলে প্রেম আলো বেরিয়ে আসে। আফসোস! আজ আমরা দুনিয়ার পেছনে ছুটছি কেবল ছুটছি। ছুটতে ছুটতে নিজেকেও ভুলে যাচ্ছি। হারিয়ে যাচ্ছি অন্য কোথাও। যেখানে আমি নেই। আমার ভিতর যে ‘অন্য আমি’ লুকিয়ে আছে সেও নেই। আমাদের এ ছুটে চলা দেখে প্রভুর বড় মায়া হয়। তাই তো তিনি দরদভরা কণ্ঠে ডাক দিয়ে বলেন, ‘ফা আইনা তাজহাবুন। বান্দা আমার! তোমরা কোথায় ছুটছ?’ ‘ইয়া আইয়্যুহাল ইনসানু মা গররকা বিরাব্বিকাল কারিম। ওরে আমার আদরের বান্দা! আমার মতো প্রেমময় রবকে ছেড়ে তোমরা কীসে ডুবে আছ? এমন কী আছে যা পেয়ে তোমরা আমাকে ভুলে থাকতে পার? কিচ্ছু নেই।’ ‘ওয়া সারিউ ইলা মাগফিরাতিম মির রাব্বিহ। বান্দা! তোমার রবের ক্ষমার দিকে দৌড়ে আস।’ আফসোস। আমরা নিজেদের মুমিন মুসলমান বলে দাবি করি। কিন্তু আমরা না কোরআন জানি, না আল্লাহকে লাভ করার তরিকা জানি। কোরআন পড়তে পারার পাশাপাশি যদি আমরা মায়ের ভাষায় এর অর্থ জানতে পারতাম তবেই কেবল হয়ে উঠতে পারতাম খাঁটি মুমিন-মুসলমান। এই যে আমরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ছি, শুধু নামাজই পড়ছি। জানি না প্রভুর কাছে কী প্রার্থনা করছি। এসব হচ্ছে নামাজে যা পড়ছি তার অর্থ না জানার কারণে। এসব যদি মাতৃভাষায় শেখানো হতো তাহলে অবশ্যই আমরা সালাত প্রার্থনায় আল্লাহওয়ালা হতে পারতাম। কোরআন তিলাওয়াত করে এর অর্থ বুঝে প্রভুর প্রেমে ডুবে যেতে পারতাম। তখন আমার ভিতরে যে আমার প্রভু মিশে আছেন তা অহরহ অনুভব করতাম।

লেখক : মুফাস্‌সিরে কোরআন।


বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর