শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ ডিসেম্বর, ২০১৬ ০০:২৯

কৃষি সংবাদ

ট্যাংকে মাছ চাষে ৩০ গুণ বেশি উৎপাদন

সৈয়দ নোমান, ময়মনসিংহ

ট্যাংকে মাছ চাষে ৩০ গুণ বেশি উৎপাদন
Google News

স্বল্প জমি, অল্প পানি ও মাত্র দুজন দেখভাল করার লোক এবং দুটি কামরা। কামরার ভিতর ১০ টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন আটটি ট্যাংক। আর এ ট্যাংকেই উৎপাদন হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির সুস্বাদু মাছ। বিশ্বের সর্বাধুনিক মিনি রি-সার্কুলেশন অ্যাকোয়াকালচার (মিনি আরএএস) প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশে এই প্রথম ঘরের ভিতরে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক উপায়ে মাছ চাষ করে রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছে ‘ফিশ হ্যাচারি ও কালচার ফার্ম অ্যাগ্রো থ্রি’ নামক একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, এ পদ্ধতিতে পুকুর থেকে ৩০ গুণ বেশি মাছ উৎপাদন করা সম্ভব। বর্তমানে এখানে আটটি ট্যাঙ্কে ৮৫ হাজার পাবদা, গুলশা ও মাগুরের চাষ হচ্ছে। প্রায় প্রতিদিন আগ্রহী উদ্যোক্তা ও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিজ্ঞানীরা পরিদর্শনে আসছেন। দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি বাড়াতেও এ পদ্ধতি বড় ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন তারা। এ পদ্ধতিতে বিশ্বের মাত্র কয়েকটি দেশে মাছ উৎপাদন হয়। এর মধ্যে চীন ও ভিয়েতনাম উল্লেখযোগ্য। তবে সেসব দেশে কোরাল, মাগুর ও কই চাষ হয় ব্যাপক হারে। বাণিজ্যিকভাবে প্রায় পাঁচ মাস আগে ময়মনসিংহের মাসকান্দায় বিসিক শিল্পনগরীতে একটি টিনশেড ঘরে এ শিল্পের সূচনা। যেখানে ১০ টন ধারণ ক্ষমতার আটটি ট্যাঙ্কে চাষ হচ্ছে পাবদা, গুলশা, মাগুরের মতো বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষ হয় বলে দ্রুত বৃদ্ধি এবং মাছের গুণগত মান হয় উন্নত ও স্বাস্থ্যসম্মত। এ প্রযুক্তিতে মাছের মৃত্যুহার নেই বললেই চলে। আগস্টের শুরুতে আটটি ট্যাঙ্কের মধ্যে তিনটিতে ১২ হাজার করে পাবদা, চারটিতে ১২ হাজার করে গুলশা ও একটিতে চার হাজার মাগুর মাছ ছাড়া হয়। ইতিমধ্যে পাবদা বিক্রিও করা হয়েছে গত সপ্তাহে প্রতি কেজি ৬০০ টাকা দরে। আর পরীক্ষামূলকভাবে অন্য একটি পাত্রে চাষ করা হয় বিলুপ্তপ্রায় মহাশোল। চকচকে সোনালি রঙের এ মাছ চাষেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি সফল হয়েছে বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে বাণিজ্যিকভাবে মহাশোল চাষ করা হবে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ মত্স্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাহায্য নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানী মশিউর রহমান।

জানা যায়, মেকানিক্যাল ও বায়ো-পরিশোধন প্রক্রিয়ায় মাছের বর্জ্য, খাদ্যাবশেষ, দ্রবীভূত অ্যামোনিয়া, কার্বন ডাইঅক্সাইড এসব ক্ষতিকারক গ্যাস ৯০ শতাংশ পর্যন্ত অপসারণ সম্ভব মিনি আরএএস পদ্ধতিতে। এ ছাড়া পুকুরে অক্সিজেনের স্বল্পতা থাকলেও এখানে সে অসুবিধা নেই। মাত্র পাঁচ সপ্তাহে মাছের ওজন বাড়ে ১০ গ্রামেরও বেশি। চার মাসেই হয়ে ওঠে বিক্রির উপযোগী। তবে মিনি রি-সার্কুলেশন অ্যাকোয়াকালচার পদ্ধতিটি অনেকটাই ব্যয়বহুল। ব্যয়বহুল হলেও মাত্র দুই বছরের মধ্যে মুনাফার মুখ দেখা যাবে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ। ফিশ হ্যাচারি ও কালচার ফার্ম অ্যাগ্রো থ্রির স্বত্বাধিকারী এ বি এম শামসুল আলম বাদল জানান, পুকুরে যেখানে প্রতি শতাংশে ৪০০ থেকে ৫০০ মাছ চাষ করা যায়, সেখানে এ পদ্ধতিতে প্রতি কিউবিক মিটারে ১ হাজার ২০০ মাছ চাষ করা যায়। ঢাকার সায়েন্স ল্যাবরেটরি মিনি আরএএস পদ্ধতি নিয়ে যৌথভাবে কাজের প্রস্তাব দিয়েছে। তিনি বলেন, জমি সংকটের কারণে বিশ্বে আরএএস একটি জনপ্রিয় পদ্ধতি। বাংলাদেশেও জমি সংকট দেখা দিচ্ছে। তাই সরকারি সহায়তা অথবা ব্যক্তি উদ্যোগে যদি এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ করা যায় তাহলে মাছ চাষে বিপ্লব ঘটবে।

 

এই বিভাগের আরও খবর