Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ২৩:৩০

ডিএসসিসি হবে জল সবুজে ঢাকা

—— সাঈদ খোকন

ঝর্ণা মনি

ডিএসসিসি হবে জল সবুজে ঢাকা

‘জল সবুজে ঢাকা’ প্রকল্পের মাধ্যমে পাল্টে দেওয়া হচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) চেহারা। অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে বেদখলকৃত ৩১টি পার্ক ও খেলার মাঠ। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে  এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু করেছে ডিএসসিসি। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব কথা জানালেন ডিএসসিসি মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। ঢাকা দক্ষিণের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, মাদকসেবী আর ভবঘুরেদের আখড়ায় পরিণত হওয়া রাজধানীর ওসমানী উদ্যানকে ঠিক এমনই একটি পার্ক হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে ডিএসসিসি; যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘গোসসা (রাগ) নিবারণ পার্ক’। পার্কটিতে থাকবে জলাধার, মিউজিক সিস্টেম, বসার জায়গা, বাচ্চাদের জন্য আলাদা জোন, পুরনো দিনের গান শোনার ব্যবস্থা, কফি হাউস, ওয়াই-ফাই জোন, খাবারের কর্নার। এ ছাড়া বড় স্ক্রিনে টিভি দেখার সুবিধা থাকবে। পুরো পার্কটির চারদিক থাকবে উন্মুক্ত। আগামী ১০ মাসের মধ্যে পার্কটির নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে জানান মেয়র। তিনি বলেন, ‘ইট-পাথরের এই নগরীতে মানুষের জন্য বিনোদন বা উন্মুক্ত জায়গায় আড্ডা দেওয়ার স্থান খুবই কম। তাছাড়া নাগরিকদের মধ্যে অনেক সময় মান-অভিমান, গোসসা হয়ে থাকে। এই পার্কে যখন মানুষ আসবে, স্বাভাবিকভাবে তাদের ভালো লাগবে, উত্ফুল্ল লাগবে। এখানকার যেসব আয়োজন, সেগুলো স্বাভাবিকভাবেই মানুষের গোসসা বা রাগ কমিয়ে দেবে। এই চিন্তা থেকেই এটাকে ‘গোসসা নিবারণী পার্ক’ নাম দেওয়া হয়েছে।’

সাঈদ খোকন বলেন, ‘এই পার্কের ধারণা বিশ্ব গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ পরিবেশিত হয়েছে। তারা আমার কাছে এর ধারণা সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। আমি আশা করি, শুধু আমার সিটিতেই নয়, অন্য সিটিতেও অনুরূপ পার্ক তৈরি হবে।’ 

সাঈদ খোকন জানান, পার্কটি আধুনিকভাবে সাজাতে ৫৮ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে নতুন ১৯টি মাঠ এবং ১২টি খেলার মাঠ, ৬৪টি পাবলিক টয়লেট, ৭১টি পুলিশ বক্সের সংস্কার ও নির্মাণ কাজ চলছে। তিনি বলেন, ‘১১টি স্থাপত্য প্রতিষ্ঠানের শতাধিক নামকরা স্থপতি এই বিশাল উন্নয়ন কাজের সঙ্গে সমৃক্ত রয়েছেন।’

অসহনীয় যানজট কমানোর দৃশ্যমান উদ্যোগ এবং পরবর্তী পরিকল্পনা কী এই প্রশ্নের উত্তরে মেয়র বলেন, ‘এটি আমাদের চলমান প্রক্রিয়া। অবশ্য এ নিয়ে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মধ্যে অনেকগুলো উড়াল সড়ক নির্মাণ, এমআরটি-১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬ তৈরি করা হবে। এ ছাড়া স্বল্প মেয়াদে অসহনীয় যানজট থেকে নগরবাসীকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিতে পারি এ জন্য  বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক, সেমিনার করেছি। সেক্ষেত্রে তাদের সবার পরামর্শ—ফুটপাথগুলো দখলমুক্ত করে পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া। এতে ২৫ থেকে ৩০ ভাগ যানজট থেকে মুক্তি পাব। কারণ ফুটপাথকে ঘিরে বাস, রিকশা, প্রাইভেট কার, হকার সবকিছুরই একটা জটলা তৈরি হয়। এ লক্ষ্যে নিউমার্কেট, গুলিস্তান, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় এই কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। অবৈধ স্থাপনাগুলো তুলে দিয়েছি। কিন্তু এই মুক্তকরণ সবসময় ধরে রাখতে পারি না। আবার দখলে চলে যায়। তখন ভ্রাম্যমাণ আদালতের সহায়তায় অ্যাকশনে যেতে হয়।

রাজধানীর ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ নাগরিকের অসুখী হওয়ার কারণ যানজট দাবি করে ডিএসসিসি মেয়র বলেন, এটি গবেষণার তথ্য। এ ছাড়া রাজধানীতে যানজটের কারণে দৈনিক ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তবে যানজট একদিনে কমিয়ে আনা সম্ভব নয়। তবে যানজট নিরসনে আমরা কাজ করছি। রাস্তা ভালো হয়ে গেলে যানজট কিছুটা কমবে আশা করি। মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় ৯০ শতাংশ রাস্তা বেহাল ছিল। এখন ৮৫ শতাংশ রাস্তা চলাচলের উপযোগী। তবে অনেক সিটির চেয়েই আমার সিটিতে কম যানজট।’

পুরান ঢাকার উন্নয়নে আপনার মূল পরিকল্পনা কি এমন প্রশ্নের জবাবে সাঈদ খোকন বলেন, পুরান ঢাকার মৌলিক সমস্যার সমাধানই আমার প্রথম কাজ। যেমন- রাস্তাঘাট উন্নয়ন প্রধান পরিকল্পনা, যা করছি। রাস্তার স্ট্রিট লাইট ছিল না। পুরনো বাতি সরিয়ে এলিডি বাতি লাগিয়েছি। এতে আমি শতভাগ সফল। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খুব সমস্যা ছিল, এখন আর তা নেই। পাবলিক টয়লেট করেছি। তবে পুরান ঢাকার বাড়িগুলো অনেক পুরনো। একেকটা বাড়ি প্রায় ৩০০-৪০০ বছরের। গাড়ি রাখার জায়গা নেই। ফলে অনেকেই গাড়ি কিনতে পারেন না। এটি একটি বিরাট সমস্যা।

সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থার সুবিধা কবে পাবে নগরবাসী এমন প্রশ্নের উত্তরে সাঈদ খোকন বলেন, উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক মৃত্যুর পর এই প্রকল্পটি থেমে যায়। আমরা আবারও প্রকল্পটি চালু করতে যাচ্ছি। আগামী মার্চেই এই প্রকল্পটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হবে। চারটি পাঁচটি কোম্পানির আওতায় সব পরিবহনকে যুক্ত করা হবে। আশা করি, এতে নগরবাসীর পরিবহন সংকট অনেকটাই লাঘব হবে।

উন্নয়ন কাজে উত্তর সিটি থেকে দক্ষিণ সিটি পিছিয়ে রয়েছে এমন গুজব উড়িয়ে দিয়ে মেয়র বলেন, ‘উত্তর সিটি থেকে মোটেই পিছিয়ে নই। বরং অনেক বেশি এগিয়ে আছি। এটি আমার কথা নয়, পরিসংখ্যানের তথ্য। দুই সিটি করপোরেশনের প্রতিটি বিভাগের সেবাখাতগুলোর পরিসংখ্যানের তথ্যের তুলনা করলেই বুঝা যাবে। দক্ষিণ সিটি করপোরেশন দেশের সব সিটি করপোরেশন থেকে উন্নয়নে এগিয়ে রয়েছে।’


আপনার মন্তব্য