শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:১২

বুড়িগঙ্গা ও কর্ণফুলীতে উচ্ছেদ

দখল করে নির্মাণ করা হয়েছিল কারখানা বসতবাড়িসহ নানা স্থাপনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

বুড়িগঙ্গা ও কর্ণফুলীতে উচ্ছেদ

রাজধানীর বুড়িগঙ্গা ও চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীর দখল করে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চলছে। উচ্ছেদ করা অবৈধ স্থাপনার মধ্যে বিভিন্ন কারখানা, বসতবাড়ি, সেমিপাকা ভবনসহ বহুতল ভবনও রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইতিমধ্যে এই দুই নদীর তীরের অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবই উচ্ছেদ করা হবে। জমি উদ্ধারের পর এবার স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হবে।

বুড়িগঙ্গা : বুড়িগঙ্গা নদীতে দ্বিতীয় দফায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। গতকাল সকালে কামরাঙ্গীরচরের কয়লাঘাট ও ইসলামবাগে অভিযান চালানো হয়। গতকাল পর্যন্ত ৫ দিনে ছোট-বড় ভবনসহ ৮৯৫টি অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর সদরঘাট থেকে গাবতলী পর্যন্ত নদীর দুই তীরে কয়েক হাজার অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সবই ভাঙা হবে। বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম-পরিচালক আরিফ উদ্দিন জানান, ঢাকার নদীবন্দরের আওতাধীন এলাকায় ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ উচ্ছেদ অভিযান চলবে। প্রথম দফায় ৪৪৫টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। দ্বিতীয় দফায় গত মঙ্গলবার কামরাঙ্গীরচরের নবাবচর এলাকায় দুই শতাধিক পাকা ও আধাপাকা স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। গতকাল ইসলামবাগে ৫তলা ভবনসহ আড়াই শতাধিক বাড়ি ভেঙে ফেলা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমোডর এম মোজাম্মেল হক জানান, নদীর তীর উচ্ছেদ করে বনায়ন, ওয়াকওয়ে, ইকোপার্ক ও সীমানা পিলার স্থাপন করা হবে। দুই বছরের মধ্যে এসব স্থাপনা গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে ৫০ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া তিনটি ইকোপার্ক, ১০ হাজার নদী রক্ষা পিলার ও ২০টি জেটি নির্মাণ করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে নদীর তীর রক্ষায় অনির্দিষ্টিকালীন উচ্ছেদ অভিযান চলবে।

কর্ণফুলী : চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর উত্তর পাড়ে চলছে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম। তিন দিন ধরে অভিযান চলে নদীর তীরের সদরঘাট থেকে লবণঘাট পর্যন্ত। তবে তৃতীয় কর্ণফুলী শাহ্ আমানত সেতুর পূর্ব পাশের বিশাল এলাকাজুড়ে গড়ে ওঠা জনবসতিতে এখন দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। কর্ণফুলী নদীর উত্তর পাড়ের একদিকে চলছে উচ্ছেদ অভিযান, অন্যদিকে চলছে উচ্ছেদ আতঙ্ক। 

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কর্ণফুলীর নদীর মোহনা থেকে মোহরা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার তীরে গড়ে ওঠা দুই হাজার ১৮১টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চলছে। গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া অভিযানের প্রথম দিনে ছোট-বড় ৮০টি স্থাপনা উচ্ছেদ, দ্বিতীয় দিনে ৩০টি স্থাপনা এবং গতকাল তৃতীয় দিনে ৩০টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। অভিযানে মোট পাঁচ একর ভূমি উদ্ধার করা হয়।

লবণঘাট এলাকায় ৫২টি লবণ মিল ছিল। এসব মিলের অধিকাংশই মালিকরা উচ্ছেদ করেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাহমিলুর রহমান বলেন, অভিযানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে। তবে উচ্ছেদের আগেও অনেকে তাদের স্থাপনা নিজ নিজ উদ্যোগে সরিয়ে নিয়েছে। অভিযান অব্যাহত থাকবে। সদরঘাট এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান শেষ হলে শাহ্ আমানত সেতুর পূর্ব দিকে শুরু করা হবে। ওই এলাকায় জনবসতি বেশি বলে এ ব্যাপারে আমাদের প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া আছে।

 আশা করি এবার কর্ণফুলী নদীর সবগুলো অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।


আপনার মন্তব্য