শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:৩৬

একজন দেশি অন্যজন বিদেশি

মির্জা মেহেদী তমাল

একজন দেশি অন্যজন বিদেশি

একজন দেশি, অন্যজন বিদেশি। দুজনই অপরাধ করে বন্দী ছিল ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। সেখানেই গড়ে ওঠে দুজনের সখ্য। জামিনে মুক্ত হয়ে বেরিয়ে আসার পর তারা নতুন করে শুরু করে প্রতারণা। দুই নারীর কাছ থেকে প্রতারণা করে টাকা নেওয়ার অভিযোগে ওই দুজন ফের গ্রেফতার হয়। এদের একজন নাইজেরিয়ার নাগরিক হেনরি ইসিয়াকা (৪০), অন্যজন বাংলাদেশের ইসমাইল হোসেন (৪৮)।

পিবিআই জানায়, রাজধানীর পশ্চিম কাফরুল এলাকার বাসিন্দা তাহমিনা পারভিন একজন স্কুল শিক্ষিকা। তার সঙ্গে উইলিয়াম ডেভিড নামের একজনের ফেসবুকে পরিচয় হয়। ডেভিডই তাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায়। তিনি অ্যাকসেপ্ট করার পর তাদের মধ্যে চ্যাটের মাধ্যমে কথা হয়। একপর্যায়ে ডেভিড তার কাছে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর চায়। তাহমিনা পারভিন হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর দেন এবং দুজনের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপে কথা হতো। একপর্যায়ে ঘনিষ্ঠতা বাড়লে তাহমিনাকে গিফট পাঠানোর কথা বলে ডেভিড। এরপর তাহমিনা তার মোবাইল ফোন নম্বরও দেন। ওই নম্বরে বেন কার্লোস নামের একজন ফোন করে জানায়, সে ডেল্টা কুরিয়ার সার্ভিসে চাকরি করে। কুরিয়ারের মাধ্যমে উইলিয়াম ডেভিড তার নামে ইউকে থেকে একটি পার্সেল পাঠিয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ডিউটি চার্জ বাবদ ৪৫ হাজার টাকা দাবি করেছে। পরে তার দেওয়া ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বরে ৪৫ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন তাহমিনা। টাকা পেয়ে কার্লোস আবার ফোন করে জানায়, পার্সেলের ভিতর আরও অনেক পাউন্ড আছে, সেটি ছাড়াতে আরও এক লাখ ৪০ হাজার টাকা লাগবে। ওই টাকাও দেন তিনি। এরপর ফোন করে কার্লোস আবারও জানায় যে, পার্সেলের ভিতরে এক লাখ পাউন্ড রয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় এক কোটি সাত লাখ টাকার বেশি। মোট টাকার ৩ শতাংশ তিন লাখ ২৩ হাজার ৩২০ টাকা দিতে হবে। তখন তাহমিনা পারভিন ও তার ছেলে রাহাত কার্লোসের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে সে অসম্মতি জানায়। পরে তিনি বুঝতে পারেন প্রতারকের খপ্পরে পড়েছেন। রাজধানীর তুরাগ এলাকার নাজিয়া তাবাসসুম ওরফে শাওনকে একটি ইংশিল মিডিয়াম স্কুলে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে এই চক্র ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। নাজিয়া তাবাসসুমের অনলাইনের আবেদন হ্যাক করে প্রতারক চক্র তার মোবাইল ফোনে ইংরেজিতে কথা বলে এই প্রতারণা করে বলে জানায় পিবিআই। অভিযোগ পাওয়ার পর প্রতারক চক্রকে গ্রেফতারে মাঠে নামে পিবিআই। প্রযুক্তি ব্যবহার করে তেজগাঁওয়ের পূর্ব তেজতুরী বাজার থেকে আটক করা হয় নাইজেরিয়ার নাগরিক হেনরি ইসিয়াকা  ও মো. ইসমাইল হোসেনকে। মিথ্যা পরিচয় দিয়ে ফেসবুকে ফেক আইডি খুলে তারা এ প্রতারণা করছিল। আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পিবিআই জানতে পারে, পলাতক আসামি সালাউদ্দিনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে একাধিক প্রতারণার শিকার ব্যক্তির ২০-২২ লাখ টাকা যায়। এই টাকা ইসমাইল উঠিয়ে ১০ ভাগ রেখে বাকি টাকা ইসিয়াকার হাতে পৌঁছে দিত।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর