শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২২:৪৮

দৃশ্যমান হলো পদ্মা সেতুর ১২০০ মিটার

পিলারে বসানো হয়েছে অষ্টম স্প্যান

মুন্সীগঞ্জ ও শরীয়তপুর প্রতিনিধি

দৃশ্যমান হলো পদ্মা সেতুর ১২০০ মিটার

পদ্মা বহুমুখী সেতুতে বসল অষ্টম স্প্যান। শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে ৩৫ ও ৩৬ নম্বর পিলারের ওপর স্প্যানটি বসানো হয়। গতকাল ভোরে স্প্যান বসানোর কাজ শুরু হয়। ঘন কুয়াশার কারণে কিছুটা বিলম্ব হয়। পরে দুপুর পৌনে ১টার দিকে স্প্যানটি পিলারের ওপর বসানো হয়। এর ফলে দৃশ্যমান হলো পদ্মা সেতুর ১ হাজার ২০০ মিটার।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের উপসহকারী প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পদ্মা সেতুর অষ্টম স্প্যানটি জাজিরা প্রান্তে ৩৫ ও ৩৬ নম্বর পিলারের ওপর বসানো হয়েছে। গতকাল সকালে ৩৫-৩৬ নম্বর পিলারের কাজ সম্পন্ন করেছে সেতু বিভাগ। ১৫০ মিটার লম্বা ও ১৩ মিটার প্রস্থ বিশাল স্প্যানটি ক্রেন দিয়ে ওঠানো হয়। স্প্যানটি বসানোর পর জাজিরা প্রান্তে সেতুর ১ হাজার ৫০ মিটার দৃশ্যমান হলো। এ ছাড়া মাওয়া পয়েন্টে একটি ১৫০ মিটার স্প্যান বসানো আছে। এর ফলে মোট দৃশ্যমান হলো সেতুর ১ হাজার ২০০ মিটার। ৪২টি স্প্যান জোড়া দিয়েই পদ্মা সেতু তৈরি হবে। এর আগে ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারের ওপর প্রথম স্প্যান, ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি ৩৮ ও ৩৯ নম্বর পিলারের ওপর দ্বিতীয় স্প্যান, ১১ মার্চ ৩৯ ও ৪০ নম্বর পিলারের ওপর তৃতীয় স্প্যান, ১৩ মে ৪০ ও ৪১ নম্বর পিলারের ওপর চতুর্থ স্প্যান এবং গত ২৯ জুন ৪১ ও ৪২ নম্বর পিলারের ওপর পঞ্চম স্প্যান বসানো হয়েছে। পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্প্যান বসানোর পর ৯০০ মিটার দৃশ্যমান হয়। অষ্টম স্প্যান বসানোর পর জাজিরা প্রান্তে ১ হাজার ৫০ ও মাওয়া প্রান্তে ১৫০ মিলিয়ে মোট ১ হাজার ২০০ মিটার দৃশ্যমান হলো।

সেতু বিভাগের প্রকৌশলীরা জানান, অষ্টম স্প্যানটি জাজিরা প্রান্তে ৩৫-৩৬ নম্বর পিলারে বসানো হয়েছে। মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে স্প্যানটি নিয়ে ৩ হাজার ৬০০ টন ধারণক্ষমতার ‘তিয়ান ই’ ক্রেনটি যাত্রা করে। স্প্যানটি খুঁটিতে তোলার পুরো কাজটি করা হয়েছে ভাসমান ওই ক্রেন আর প্রযুক্তির সাহায্যে। এটি ১৫০ মিটার লম্বা ও ১৩ মিটার প্রস্থ। ৩ হাজার ২০০ টন ওজন স্প্যানটির। ৩ হাজার ৭০০ টন ওজনের একটি ভাসমান ক্রেনের সাহায্যে স্প্যানটি আনা হয়েছে। ক্রেনটি দিয়েই পিলারের ওপর স্প্যানটি গতকাল সকালে বসানো হয়। স্প্যানটি জাজিরা প্রান্তে পিলারের কাছে পৌঁছতে এক দিন লাগে। ইতিমধ্যে অ্যাপ্রোচ সড়ক দিয়ে গাড়ি চলা শুরু করেছে। টোল প্লাজার নির্মাণকাজ শেষ করেছে সেতু বিভাগ। পদ্মা সেতুর দুই পাড়ে দিনরাত চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। অষ্টম স্প্যান বসানোর খবরে দারুণ খুশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ।

৪২টি পিলারের ওপর এমন ৪১টি স্প্যানের সাহায্যে পদ্মার বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। পদ্মা সেতুর কাজের সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৬৩ শতাংশ। এ ছাড়া মূল প্রকল্পের কাজের ৭৩ শতাংশ শেষ করেছে সেতু বিভাগ। সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে অর্থনৈতিক কর্মকা- বেড়ে যাবে কয়েক গুণ। বাপ-দাদার ভিটেবাড়ি গেলেও পদ্মা সেতুর কাজের অগ্রগতি দেখে সন্তুষ্ট স্থানীয়রা।


আপনার মন্তব্য