Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ এপ্রিল, ২০১৯ ২৩:১৩

মন্ত্রণালয় কমিটির প্রতিবেদন

বনানী অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে

নিজামুল হক বিপুল

বনানী অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে

বনানীর বহুতল ভবনের অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে। ভবনের অষ্টম তলা থেকেই আগুন লেগেছে। দায়িত্বে অবহেলা ছিল ভবন মালিকপক্ষেরও। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ইতিমধ্যে কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান ও সিনিয়র সচিব মো. শাহ কামালের কাছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

২৮ মার্চ বনানী দুর্ঘটনার রাতেই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ফাইজুর রহমানের নেতৃত্বে নয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সাত কর্মদিবসের মধ্যে অগ্নিকান্ডে র কারণসহ অন্যসব বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। সূত্র জানান, কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তদন্তকাজ শেষ করে। কমিটির তদন্তে বেরিয়ে এসেছে বনানীর ২৩ তলা বহুতল ভবনের অষ্টম তলায় বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে ভবনের অষ্টম, নবম ও দশম তলায়। এতে ওই তিন তলা পুরোপুরি ভস্মীভূত হয়। আর আগুনের ধোঁয়ার কারণে ১১, ১২ ও ১৩ তলায় আটকা পড়া মানুষ মারা যায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভবনের মালিকপক্ষের দায়িত্বে অবহেলা ছিল। মানা হয়নি বিল্ডিং কোড। রাজউকের নকশাও মানা হয়নি। ১৮ তলা ভবনকে ২৩ তলয় উন্নীত করা হয় কোনো নিয়ম না মেনে নকশাবহির্ভূতভাবে। ভবনে নিজস্ব কোনো অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থাও ছিল না। সুউচ্চ ভবন নির্মাণ করা হলেও নিজস্ব উদ্যোগে ফায়ার হাইড্রেন্ট ব্যবস্থাও ছিল না। এ দায় পুরোটাই ভবন মালিকপক্ষের। তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে বেশকিছু সুপারিশ করেছে। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে নগরীতে যেসব ভবন নির্মাণ হবে তাতে অবশ্যই নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা রাখতে হবে। পাশাপাশি এসব ভবনে অবশ্যই ফায়ার হাউড্রেনের ব্যবস্থাও রাখতে হবে। ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে রাজউকের নকশা ও বিল্ডিং কোড অনুসরণ করতে হবে। এজন্য শক্তিশালী মনিটরিং ব্যবস্থা রাখারও সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। রাজধানীর প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি বহুতল ভবন ও ব্যক্তিমালিকানাধীন বাসাবাড়িতে নিজস্ব উদ্যোগে নিয়মিত অগ্নিমহড়ার ব্যবস্থা করতে হবে। মাসে অন্তত একবার এ মহড়া দিতে হবে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, কমিটি যে প্রতিবেদন দিয়েছে তা খুব শিগগির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করবেন। অন্যদিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেছেন, তিনি তদন্ত প্রতিবেদনটি পড়েছেন। কমিটির প্রতিবেদনে অগ্নিকান্ডে র কারণসহ বেশকিছু বিষয় উঠে এসেছে। তারা সুপারিশও করেছেন। আগামী সোম বা মঙ্গলবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করবেন।


আপনার মন্তব্য