Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১২ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ মে, ২০১৯ ২২:২৫

চলন্ত বাসে নার্স ধর্ষণের আসামিরা রিমান্ডে

কিশোরীকে ধর্ষণের পর হাত-পা বেঁধে ড্রেনে

প্রতিদিন ডেস্ক

কিশোরীকে ধর্ষণের পর হাত-পা বেঁধে ড্রেনে

দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ধর্ষণ এবং মামলা ও গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে গত শুক্রবার রাতে ধর্ষণের পর হাত-পা বেঁধে ড্রেনের মধ্যে ফেলে রাখা হয়েছে। গতকাল ভোরে মাঠে কাজ করতে যাওয়া কৃষকেরা ওই কিশোরীকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিশোরীর বাবার অভিযোগ, রাতে কিশোরীকে বাড়ির পাশ  থেকে তুলে নিয়ে যায় দুই যুবক। মেয়েটি ধর্ষণের শিকার হয়। দুই যুবকের একজনকে চিনতে পেরেছে কিশোরী।  হবিগঞ্জ : হবিগঞ্জের বানিয়াচঙ্গে প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে প্রথমে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। কাকুরা গ্রামের ওই শিশুটি রাজাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী। শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে।

গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মিল্টন ফকির (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে গতকাল ভোর রাতে ঢাকার গাবতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

চাঁদপুর : চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে এক যুবতীকে (১৯) ধর্ষণ করে অন্তঃসত্ত্বা করার ঘটনায় গত শুক্রবার রাতে হাজিগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। পরে পুলিশ ৯ নং ওয়ার্ড মেম্বার অহিদুল ইসলাম (৬০), আরফিন (২০) ও এমরানকে (১৯) গ্রেফতার করেছে। এ ছাড়াও পলাতক আসামির মধ্যে রয়েছে রাব্বি (১৯), মেরাজ (২২) ও শালিসদার মোস্তফা কামাল বিএসসি (৬৫)। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সৈয়দ মোশারফ হোসেন বলেন, মামলা দায়েরের পর আরফিন ও এমরানকে আটক করা হয়েছে। অন্য আসামিদের আটকের চেষ্টা চলছে।

চলন্ত বাসে নার্স ধর্ষণের আসামিরা রিমান্ডে : কিশোরগঞ্জে চলন্ত বাসে নার্স শাহিনুর আক্তার তানিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় রিমান্ডে নেওয়া আসামিদের কাছ থেকে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। এর ফলে মামলার তদন্তকাজে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটনার আদ্যোপান্ত প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ। এদিকে তানিয়া ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে বিভিন্ন জেলায় মানববন্ধন হয়েছে। পুলিশ সুপার (এসপি) জানান, এ মামলার অগ্রগতি দেখতে পুলিশের ঢাকা বিভাগীয় ডিআইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন আজ কিশোরগঞ্জ আসছেন। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন। নিহত তানিয়ার বাড়িতে তার যাওয়ার কথা রয়েছে। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রেস ব্রিফিং করা হবে বলে জানিয়েছেন এসপি।

 মামলার তদন্ত-সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রিমান্ডে নেওয়া আসামিদের মধ্যে বাসের চালক নূরুজ্জামান ও হেলপার লালন সরাসরি ধর্ষণ ও হত্যার সঙ্গে জড়িত। এ ছাড়া তাদের সহযোগী আল আমিনও সরাসরি জড়িত ছিলেন। তবে পুলিশ তাকে এখনো ধরতে পারেনি। আল আমিনকে গ্রেফতারের বিষয়ে পুলিশ সুপার জানান, তাকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আর যে বাসটিতে তানিয়া ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়েছিলেন, পুলিশ ওই বাসটি গাজীপুরের কাপাসিয়া থেকে উদ্ধার করেছে। এদিকে নার্স তানিয়া ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জে প্রতিবাদ বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। গতকালও জেলার বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। শহরের কর্নেল এ টি এম হায়দার বীর উত্তম চত্বরে মানববন্ধন করেছে মানবাধিকার নাট্য পরিষদ, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনসহ বিভিন্ন সংগঠন। এ ছাড়া বাজিতপুরের জামতলি সড়কে মানববন্ধন করেছে সামাজিক সংগঠন আশ্রয় ও কটিয়াদী রক্তদান সমিতি। তারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি নারীদের নিরাপত্তা বিধানেরও দাবি জানিয়েছেন তারা। এদিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগের সামনে বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএনএ) ময়মনসিংহ শাখা তানিয়া ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। একই ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএনএ) সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ শাখা ও সিলেট নার্সিং কলেজের উদ্যোগে মেডিকেল রোডে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

এ ছাড়া নার্স তানিয়া ধর্ষণ ও হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে গোপালগঞ্জে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল ও নার্সিং ইনস্টিটিউট যৌথভাবে হাসপাতালের সামনে এ কর্মসূচি পালন করে। উল্লেখ্য, সোমবার রাতে ঢাকা থেকে স্বর্ণলতা পরিবহনের একটি বাসে নার্স তানিয়া কটিয়াদী উপজেলার বাহেরচর গ্রামের নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। কটিয়াদী ও বাজিতপুরের পিরিজপুর সীমানায় তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাসের চালক নূরুজ্জামান, হেলপার লালনসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করে। বৃহস্পতিবার তাদের আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।


আপনার মন্তব্য