শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৬ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ মে, ২০১৯ ২৩:৩৫

বাড়ি ফিরতে নির্ঘুম রাত

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাড়ি ফিরতে নির্ঘুম রাত

রেলে ঈদের আগাম টিকিট বিক্রির চতুর্থ দিন গতকাল দেওয়া হয় ৩ জুনের টিকিট। পরদিন থেকে ঈদের ছুটি শুরু হওয়ায় এ দিনের টিকিটের চাহিদা ছিল সবচেয়ে বেশি। যারা ঈদে বাড়ি যাবেন তারা আগে থেকেই জানতেন, এই দিনের টিকিটের চাহিদা থাকবে বেশি। তাই আগের দিন শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকেই কাউন্টারের সামনে অবস্থান নিতে শুরু করেন টিকিটপ্রত্যাশীরা।

রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ভিড়। সকাল হতে না হতেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় পুরো এলাকা। নির্ঘুম রাত কাটিয়ে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে সবারই অপেক্ষা ছিল কখন বাজবে ৯টা, আর কখন শুরু হবে টিকিট বিক্রির আনুষ্ঠানিকতা। এভাবেই কাক্সিক্ষত টিকিট পেতে অনেকেই সন্ধ্যা কিংবা মধ্যরাত থেকে লাইনে দাঁড়িয়েছেন, আবার কেউবা দাঁড়িয়েছেন ভোরে। টিকিটপ্রত্যাশীদের প্রতিটি সারি এঁকেবেঁকে চলে যায় স্টেশনের বাইরে। এসব সারি স্টেশনের বাইরে সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ড পর্যন্তও গিয়ে ঠেকে। তবে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে এবারই প্রথম কমলাপুর ছাড়াও রাজধানীতে আরও চারটি স্থান থেকে দেওয়া হচ্ছে ঈদুল ফিতরের রেলের আগাম টিকিট। বুধবার থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। আগাম বিক্রির শেষ দিন আজ রবিবার। আর কমলাপুরে শুধু যমুনা সেতু দিয়ে চলাচল করা সমগ্র পশ্চিমাঞ্চলগামী ট্রেনের টিকিট দেওয়া হচ্ছে। লালমনিরহাটগামী লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিটের জন্য শুক্রবার ইফতারের পর থেকে কাউন্টারের সামনে সারিবদ্ধ হন বেসরকারি চাকরিজীবী পুশিদার রহমান। সারা রাত কাটিয়েছেন গল্প করে, লাইনে দাঁড়িয়ে। আগের রাতে এসেও গতকাল বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত টিকিট কাউন্টারের কাছে পৌঁছাতে পারেননি তিনি। তখনো তার সামনে ৮০ জনের মতো মানুষ দাঁড়িয়ে ছিলেন প্রত্যাশিত টিকিটের জন্য। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘এবার আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবকে নিয়ে বাড়ি ফিরব। ট্রেন ছাড়া বাসে একসঙ্গে এত মানুষ যাওয়া কঠিন। তাই বাধ্য হয়ে এত কষ্ট করে লাইনে দাঁড়িয়েছি।’

টিকিট কাউন্টারে কর্মরত স্টেশনের এক কর্মচারী বলেন, ‘এবার আগাম টিকিট বিক্রিতে ৩ জুনের টিকিটের জন্য কমলাপুরে সর্বোচ্চ ভিড় দেখা গেছে। যত মানুষ লাইনে দাঁড়িয়েছে, তত টিকিট আমাদের হাতে নেই। তাই অনেককে টিকিট না পেয়ে খালি হাতে ফেরত যেতে হবে।’

প্রায় ৮ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে দিনাজপুরগামী দ্রুতযান এক্সপ্রেসে প্রত্যাশিত টিকিট না পেয়ে কাউন্টার থেকে ফিরে গেছেন অভি নামে একজন। তিনি বলেন, ‘সাহরি খাওয়ার পরই কাউন্টারের সামনে এসে দাঁড়াই। কিন্তু বেলা ১২টা বাজতেই কাউন্টারে পৌঁছে গিয়ে শুনি, চেয়ার কোচের সব টিকিট শেষ। আর বিক্রি শুরুর পরই শেষ হয়ে যায় এসি কেবিনের টিকিট।’

কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার আমিনুল হক বলেন, ‘ঈদের সময় সবাই এসি টিকিট চান, কিন্তু আমাদের এসি সিট তো সীমিত। তাই সবাইকে দেওয়া সম্ভব হয় না।’ এদিকে রাজশাহীগামী বনলতা এক্সপ্রেসের টিকিটের জন্য দুই বন্ধুর সঙ্গে মধ্যরাতে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছেন লতিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমি লাইনে দাঁড়িয়েছি রাত প্রায় ১টার দিকে। আমার মূল টার্গেট ছিল অ্যাপসের মাধ্যমে টিকিট কাটা। কিন্তু অ্যাপসটি কাজ না করায় বাধ্য হয়ে লাইনে দাঁড়িয়েছি। এরপরও অ্যাপসে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

জানা যায়, ঢাকা থেকে ৩৩টি আন্তনগর এবং চারটি বিশেষ ট্রেনসহ ৩৭টি ট্রেনের ২৮ হাজার ২২৪টি টিকিট বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ১৩টি আন্তনগর ট্রেনের অগ্রিম টিকিট ছাড়া হয় কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে। এখান থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে যাতায়াতকারী ১৬টি ট্রেনের ১৪ হাজার ৯৫টি টিকিট বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে কাউন্টার থেকে ৫ হাজার ৯৪৪টি এবং অনলাইন ও মোবাইল অ্যাপে ৮ হাজার ১৫১টি। বিমানবন্দর স্টেশন থেকে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীগামী ৭টি আন্তনগর ট্রেনের ৪ হাজার ৮৭৯টি টিকিট রয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৫৪৮টি অনলাইনে এবং ২ হাজার ৩৩১টি কাউন্টার থেকে দেওয়া হবে। তেজগাঁও স্টেশন থেকে জামালপুরগামী পাঁচটি ট্রেনের ৩ হাজার ৪৪৪টি টিকিট রয়েছে। এর মধ্যে ৬৪৪টি অনলাইনে এবং ৬১৪টি কাউন্টার থেকে দেওয়া হবে। বনানী রেলস্টেশন থেকে মোহনগঞ্জ রুটের দুটি ট্রেনের ১ হাজার ২৫৮টি টিকিট রয়েছে। এর মধ্যে ৬৪৪টি অনলাইনে, বাকি ৬১৪টি কাউন্টারে। ফুলবাড়িয়া পুরাতন রেলভবন থেকে সিলেট ও কিশোরগঞ্জ রুটের ৭টি আন্তনগর ট্রেনের ৪ হাজার ৫৪৮টি টিকিট রয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ২৫১টি অনলাইনে এবং ২ হাজার ২৯৭টি কাউন্টারে। 

স্টেশন কর্তৃপক্ষ জনিয়েছে, ঈদের পাঁচ দিন আগে থেকে, অর্থাৎ ৩১ মে থেকে রেলওয়েতে ট্রেনের কোনো ডে-অফ থাকবে না। ফলে ৪৮টি বিশেষ ট্রিপ পরিচালিত হবে। ঢাকা, ঢাকা বিমানবন্দর, জয়দেবপুর, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট, রাজশাহী, খুলনাসহ সব বড় বড় স্টেশনে জিআরপি, আরএনবি, বিজিবি ও স্থানীয় পুলিশ ও র‌্যাবের সহযোগিতায় টিকিটের কালোবাজারি প্রতিরোধে সার্বক্ষণিক পাহারার ব্যবস্থা থাকবে। এ ছাড়া ঈদের আগে ও পরে মালবাহী ট্রেন বন্ধ থাকবে।


আপনার মন্তব্য