Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ জুলাই, ২০১৯ ০০:০৪

সারা দেশে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার

দুই সিটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে তলব, ডেঙ্গুতে মৃত্যু সিভিল সার্জনের, আক্রান্ত জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি মশার প্রজনন রোধে মোবাইল কোর্ট : মেয়র খোকন

নিজস্ব প্রতিবেদক

সারা দেশে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার

গাজীপুরের সবুর মিয়া গত সপ্তাহে তীব্র জ্বর ও মাথাব্যথা নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। রক্ত টেস্ট করে তার ডেঙ্গু জ্বর শনাক্ত হয়। তার বাড়িতে আরও দুজন এবং প্রতিবেশীদের অনেকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানান তিনি। রাজধানী ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ৪০৩ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। রাজধানীতে আক্রান্তের সংখ্যা ৪০১ জন বাকি দুজন খুলনায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। সরকারি হিসাবে বলা হয়েছে, এ পর্যন্ত রাজধানীর বাইরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৮১ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৮ জন, খুলনা বিভাগে ৩৭ জন এবং বরিশাল বিভাগে ৮ জন। এর বাইরে রাজশাহীতে একজন ডেঙ্গু আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা পাঁচজন। তবে বেসরকারি হিসেবে মৃতের সংখ্যা ২০।

জ্বর নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে হবিগঞ্জের সিভিল সার্জনের মৃত্যু : জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসার পথে হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহাদৎ হোসেন হাজরা মারা গেছেন। তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা ধারণা করছেন। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তিনি মারা যাওয়ায় মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে পারেননি রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা। জ্বরে আক্রান্ত শাহাদৎ গত রবিবার হবিগঞ্জ থেকে ঢাকায় আসেন। রাত পৌনে ১১টার দিকে তিনি মারা যান। তার পরিবার ঢাকায় থাকেন। তার ষষ্ঠ শ্রেণি পড়–য়া মেয়ে আনিকা সুস্মি এবং স্ত্রী শামসুন্নাহারও গত ১০ দিনের বেশি সময় ধরে চিকিৎসাধীন। তাদের দুজনেরই ডেঙ্গু হয়েছে বলে শাহাদতের শাশুড়ি মেহেরুন্নেসা জানান। ডেঙ্গু আক্রান্ত বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী : বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সেপ্পো ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত। জাতিসংঘের আবাসিক কার্যালয়ের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। জানা যায়, কয়েক দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন মিয়া সেপ্পো। ডাক্তারি পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া গেছে তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। সেপ্পো আপাতত অফিস করছেন না বলেও জানা গেছে। তিনি হাসপাতালে ভর্তি হননি। তবে চিকিৎসকের পরামর্শে এখন পূর্ণ বিশ্রামে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

মোবাইল কোর্ট পরিচালনা হবে জানালেন ডিএসসিসি মেয়র সাঈদ খোকন : ‘নির্মাণাধীন ভবন মালিক এবং কর্তৃপক্ষকে বারবার সতর্ক করা হয়েছে। কাজ চলার সময় যেন কোনোভাবেই ভবনে পানি না জমে এবং এডিস মশার লার্ভা বংশ বিস্তার করতে না পারে। যেসব ভবন মালিকরা নগর কর্তৃপক্ষের এ কার্যক্রমে সাড়া দিচ্ছেন না তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে নগর কর্তৃপক্ষ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবে বলে জানান দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মেয়র সাঈদ খোকন।  স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে তলব : রাজধানী ঢাকায় ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়াসহ অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সিটি করপোরেশনের নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়ে দাখিল করা দুটি প্রতিবেদনে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে হাই কোর্ট। ওই প্রতিবেদনে সিটি করপোরেশনের নেওয়া পদক্ষেপ যথাযথভাবে উঠে না আসায়, দুই সিটির দুই প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে তলব করা হয়েছে। মশকনিধনে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম জানাতে ২৫ জুলাই হাই কোর্টে তাদের হাজির হতে বলা হয়েছে। গতকাল বিচারপতি তারিক উল হাকিম এবং বিচারপতি মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দীর সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সায়েরা ফাইরোজ। এর আগে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ নিয়ে গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে ১৪ জুলাই হাই কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ আদেশ দেয়। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া নির্মূলে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা এক সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা আকারে জানাতে বলা হয়। ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটির মেয়র, নির্বাহী কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য সচিব, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালককে এ আদেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় গতকাল রাষ্ট্রপক্ষ দুই সিটি করপোরেশনের মশকনিধন কার্যক্রম-সম্পর্কিত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করে। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের উদ্দেশ্যে আদালত বলে, পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে হাই কোর্ট মশক নিধনে আদেশ দেয় না। কিন্তু আমাদের দিতে হয়। যখন রুল জারি করা হয়েছিল, তখন ৬-৭ জনের মৃত্যুর খবর এসেছিল। এখন এসেছে ২৬ জন মারা গেছেন। মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। মানে আপনারা কিছু করছেন না। প্রতিবেদনে যাই লিখেন না কেন, ফলাফল তো হাসপাতাল। আদালত আরও বলেন, যতই বলেন আর ছবি দেখান, তা বিশ্বাসযোগ্য হবে তখন, যখন হাসপাতালে মানুষ যাবে না।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, সিটি করপোরেশন সচেতন করার কাজ করছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোথাও বা বাসার টবে যেন পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সচেতনতা তৈরির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আদালত বলেন, এসব বলে দায় এড়ানো যাবে না। আপনারা কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন, তা জানান। দায়িত্ব যাদের ওপর, তাদের কাজ করতে হবে। জনগণ সচেতন। আগে আপনারা (সিটি করপোরেশন) সচেতন হোন।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য মতে, কর্তৃপক্ষের বিশেষত ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নিষ্ক্রিয়তায় ঢাকা শহরে প্রতিদিন শত শত মানুষ ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া এবং এ ধরনের রোগে ভুগছেন। এ ধরনের রোগে সম্প্রতি অনেকে মারা গেছেন।


আপনার মন্তব্য