Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২৩:৫০

ধর্ষকের সঙ্গে থানায় বিয়ে, সেই ওসি প্রত্যাহার এসআই বরখাস্ত

পাবনা প্রতিনিধি

ধর্ষকের সঙ্গে থানায় বিয়ে, সেই ওসি প্রত্যাহার এসআই বরখাস্ত

পাবনায় গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূকে অভিযুক্ত এক ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার ঘটনায় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওবাইদুল হককে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ছাড়া এ ঘটনায় জড়িত সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) একরামুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এর আগে ধর্ষিতার করা মামলায় হোসেন আলী ও সঞ্জু নামে আরও দুই আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গতকাল বেলা ১২টার দিকে পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।

পুলিশ সুপার বলেন, সদর থানার দাপুনিয়ায় এক গৃহবধূকে গণধর্ষণের পর মামলা না নিয়ে ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ের ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হলে পুলিশ তদন্তে নামে। তদন্ত কমিটির রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে ধর্ষিতার অভিযোগ থানায় ধর্ষণ মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে এ মামলায় অভিযুক্ত রাসেল ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা শরিফুল ইসলাম ঘন্টুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে পুলিশ এ মামলার অন্য দুই আসামি হোসেন আলী ও সঞ্জুকে গ্রেফতার করে। এ নিয়ে মামলার পাঁচ আসামির মধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রাসেল ও হোসেন আলী ১৬৪ ধারায় ধর্ষণের কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

পুলিশ সুপার জানান, সদর থানার ওসি ওবাইদুল হক অস্বীকার করলেও তদন্ত কমিটি থানার গোলঘরে বিয়ের বিষয়টির সত্যতা পেয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ওবাইদুল হককে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আর বিয়ের সামগ্রিক আয়োজনে এসআই ইকরামুল হকের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনার তদন্তে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদ নেওয়াজকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল ইবনে মিজান ও ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. কে এম আবু জাফর।

প্রসঙ্গত, পাবনা সদর উপজেলার সাহাপুর যশোদল গ্রামের এক নারীকে ২৯ আগস্ট রাতে একই গ্রামের আকবর আলীর ছেলে রাসেল আহমেদ চার সহযোগীকে নিয়ে অপহরণ করে টানা চার দিন গণধর্ষণ করেন। পরে গৃহবধূ বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ অভিযুক্ত রাসেলকে আটক করে। তবে ওসি অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত না করে ধর্ষিতাকে ধর্ষক রাসেলের সঙ্গে থানা চত্বরে বিয়ে দিয়ে ঘটনা মীমাংসার চেষ্টা চালান। এ ব্যাপারে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে জেলায় নিন্দার ঝড় ওঠে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর