Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২৩:২৮

আইস কিন্তু বরফ নয়

মির্জা মেহেদী তমাল

আইস কিন্তু বরফ নয়

ইয়াবা ট্যাবলেটের তুলনায় ৫০ গুণ বেশি শক্তিশালী। নাম ‘আইস’। নতুন মাদক। পূর্ণ নাম ক্রিস্টাল মিথাইল অ্যামফিটামিন। মাত্র ১০ থেকে ১২ বার সেবনেই একজন মানুষের মস্তিষ্কে বিরূপ প্রভাব পড়ে। এতে যে কোনো ব্যক্তি আত্মহত্যাও করতে পারে। ইয়াবার বিকল্প এ মাদকের বাজার তৈরিতে কাজ করছে শক্তিশালী দেশি-বিদেশি বেশ কিছু চক্র। বর্তমানে ডিজিটাল মাদকের হাট ‘ডার্ক ওয়েবে’ অর্ডার দিলেই আইস নামের এই মাদকটি অল্প সময়ের মধ্যেই হাতে পৌঁছে দিচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীরা। অন্যান্য মাদকের তুলনায় আইসের দাম বেশি হওয়ায় উচ্চবিত্তরা এর ক্রেতা। গত ফেব্রুয়ারিতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে ‘আইস’ মাদকসহ রাকিব নামের এক যুবককে গ্রেফতারের পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সদস্যরা আইস চক্রের কয়েকজন সদস্যকে  গ্রেফতার করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ চক্রের কথা প্রথম জানতে পারে। এ ঘটনার পরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের গ্রেফতারের পর জানতে পারে এ মাদক সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য। মালয়েশিয়া থেকে পড়াশোনা করে আসা কেমিস্ট হাসিব বিন মোয়াম্মার রশিদ। তার সঙ্গে যুক্ত ছিল নাইজেরিয়ান নাগরিক আজাহ অ্যানাওচুকওয়া ওনিয়ানুসি। দুজন মিলে ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমে আইস মাদকের বাজার তৈরি করছিল। শুধু ভার্চুয়াল জগতে নয়, অন্যান্য মাদক চোরাকারবারির সঙ্গেও  যোগাযোগ করে আইস বিক্রির বাজার তৈরি করছিল এ দুজন। অন্যান্য মাদকের তুলনায় আইসের দাম বেশি হওয়ায় উচ্চবিত্তরা ছিল তাদের টার্গেট। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে ৫ গ্রাম আইস মাদকসহ রাকিব নামের এক যুবককে গ্রেফতার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা। আইস মাদকের বাজার যাচাই ও তৈরি করতেই তাকে এই মাদক দিয়েছিল একটি চক্র। রাজধানীর ধানমন্ডির ঝিগাতলার ৭/এ নম্বর সড়কের ৬২ নম্বরের নিজ বাড়ির বেজমেন্টে ল্যাব বসিয়ে আইস তৈরি করছিল হাসিব বিন মোয়াম্মার রশিদ। বাংলাদেশে প্রথম আইস মাদকের উৎপাদন শুরু করে এ ব্যক্তি। মাদকের জগতে রশিদ একজন কেমিস্ট হিসেবে পরিচিত। রাকিবকে গ্রেফতারের পর ওইদিন রাতেই তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ঝিগাতলায় হাসিবের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আইস তৈরির ল্যাবের সন্ধান পায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। ল্যাব থেকে আইস মাদক তৈরির বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল উদ্ধার করা হয়। তবে  সেখান থেকে হাসিব পালিয়ে যায়। পরে গত ১৬ মার্চ মিরপুর এলাকা থেকে হাসিবসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানান, নিজের গ্রেফতার এড়াতে হাসিব মাথা ন্যাড়া করে ফ্রেঞ্চকাট দাড়ি রেখেছিল। মালয়েশিয়ায় ৭ হাজার রিঙ্গিতে ১ গ্রাম আইস মাদক পাওয়া যায়। তবে বাংলাদেশে এই মাদকের বাজার তৈরির জন্য ৭ থেকে ১০ হাজার টাকায় ১ গ্রাম আইস মাদক বিক্রি করছিল এই চক্রটি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ঢাকা মেট্রো উত্তর অঞ্চলের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘দেশে আইস মাদক তৈরির মূল হোতা হাসিব বিন মোয়াম্মার রশিদ মালয়েশিয়ায় পড়ালেখা করত। সেখান থেকে দেশে আসার পর মাদকাসক্ত হয়ে পড়লে তাকে মাদক নিরাময় কেন্দ্রেও ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু সংশোধন হয়নি। উল্টো নিজেই বাড়ির বেজমেন্টে গড়ে  তোলে আইস মাদক তৈরির ল্যাব। বিভিন্ন ওষুধ থেকে এর কাঁচামাল সংগ্রহ করে আইস মাদক তৈরি করত। মাদকটি নতুন ও ব্যয়বহুল হওয়ায় উচ্চবিত্ত পরিবারের মাদকাসক্ত লোকজনের কাছে কম দামে সরবরাহ করত। বাংলাদেশে এর বাজার তৈরির জন্য সে ডার্ক নেটের মাধ্যমে আইস মাদকের ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছিল।’

আইস মাদকের ক্ষতিকর দিক : মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর জানিয়েছে, ইয়াবা ট্যাবলেটেও অ্যামফিটামিন রয়েছে, তবে আইস মাদক ইয়াবা ট্যাবলেটের চেয়ে ৫০ গুণ বেশি শক্তিশালী। আইস মাদক ১০ থেকে ১২ বার সেবনে একজন মানুষের মস্তিষ্কে বিরূপ প্রভাব পড়ে। এর ফলে ওই ব্যক্তি অপরাধমূলক কর্মকান্ড ঘটাতে পারে। সে কোনো ব্যক্তিকে হত্যাসহ নিজেও আত্মহত্যা করে ফেলতে পারে। এর প্রভাবে মানুষের সুস্থ চিন্তাভাবনা লোপ পায়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলম বলেন, ‘যে কোনো মাদকদ্রব্যই শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতি করে। ইয়াবা ট্যাবলেট এবং আইস মাদকে একই ধরনের ক্ষতিকারক মেথা অ্যামফিটামিন থাকে। তবে ইয়াবা ট্যাবলেটে অ্যামফিটামিনের পরিমাণ তুলনামূলক কম রয়েছে। আর আইস মাদক পুরোটাই অ্যামফিটামিন। এ কারণে আইস মাদক সেবনে ক্ষতির পরিমাণ অনেকগুণ বেশি।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর