শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:৫৯

বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব

বৃহত্তম জুমার নামাজে মুসল্লির ঢল

টঙ্গী ও গাজীপুর প্রতিনিধি

বৃহত্তম জুমার নামাজে মুসল্লির ঢল
টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে জুমার নামাজে গতকাল অংশ নেন লাখো মুসল্লি - বাংলাদেশ প্রতিদিন

টঙ্গী তুরাগ নদের তীরে তাবলিগ জামাতের সাদ অনুসারীদের তিন দিনব্যাপী ৫৫তম বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব গতকাল বাদ ফজর আমবয়ানের মধ্যদিয়ে শুরু হয়েছে। আগামীকাল দুপুরের পূর্বে যে কোনো সময় আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ইজতেমার উভয় পর্ব। গতকাল দেশের বৃহত্তর জুমার নামাজে লাখ লাখ মুসল্লি এক সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করেন। জুমার নামাজ উপলক্ষে গাজীপুর, টঙ্গীসহ আশপাশ এলাকার লোকজন জামাতে অংশ নিতে যানবাহন কিংবা হেঁটে ইজতেমা ময়দানে অবস্থান নেন। তবে প্রথম পর্বের চেয়ে মুসল্লি কম হওয়ায় সড়ক ও মহাসড়কে যানজট ছিল না। মুসল্লিরা নির্বিঘ্নে ময়দানে প্রবেশ করে জুমার জামাতে শরিক হয়েছেন। দুপুর ১.৩৫ মিনিটে জুমার নামাজের পূর্বে খুতবা শুরু হয় এবং ১.৪৮ মিনিটে নামাজ শুরু হয়। জুমার নামাজ পড়ান বাংলাদেশি মুরব্বি মাওলানা মোশারফ হোসেন। জুমার নামাজের পর বয়ান করেন দিল্লি মারকাজের মুরব্বি মাওলানা চেরাগ উদ্দিন। বাদ আসর বয়ান করেন বাংলাদেশি মুরব্বি খান সাহাবুদ্দিন নাসিম, বাদ মাগরিব বয়ান করেন মদিনা নিবাসী মাওলানা ওসমান। গতকাল পর্যন্ত ৪০ দেশের প্রায় দুই হাজার বিদেশি মুসল্লি ময়দানে উপস্থিত হয়েছেন। চার দিন বিরতির পর গতকাল শুরু হওয়ায় ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে সমবেত হয়েছেন লাখো মুসল্লি। কানায় কানায় পূর্ণ হয়েছে ইজতেমা ময়দানসহ আশপাশের এলাকা। ইজতেমায় অংশ নিতে বুধবার থেকে বিচ্ছিন্নভাবে মাঠে প্রবেশ করতে শুরু করেন মুসল্লিরা। তবে বৃহস্পতিবার  ভোর থেকে বিকাল পর্যন্ত আসেন সবচেয়ে বেশি মুসল্লি। তারা জেলাভিত্তিক নির্ধারিত খেত্তায় অবস্থান নেন। তাদের পদচারণায় পুরো ইজতেমা ময়দান ও আশপাশের এলাকা মুখর হয়ে ওঠে। এর আগে বৃহস্পতিবার বাদ আসর থেকে শুরু হয় দ্বিতীয় পর্বের প্রাক প্রস্তুতি বয়ান। তিন দিনের এই বিশ্ব ইজতেমায় আমল, আখলাক, দুনিয়া ও আখেরাতে সুখ-শান্তির লক্ষ্যে দিন-রাত বয়ান চলবে প্রথম পর্বের মতোই। দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমার আয়োজক তাবলিগ জামাতের সাবেক আমির ভারতের মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীরা। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় ভারতের নিজামুদ্দিন মারকাজের শীর্ষ মুরব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভী এ ইজতেমায় আসছেন না। তার জায়গায় দিল্লি মারকাজের শীর্ষ মুরব্বি ও আলেমসহ ৩২ সদস্যের তত্ত্বাবধায়নেই পরিচালিত হচ্ছে এ পর্বের ইজতেমা। গাজীপুর জেলা প্রশাসন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও তাবলিগের সাথীরা ইজতেমা ময়দানের ভিতর এবং বাইরের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। এ পর্বের ইজতেমায় অংশ নিতে দেশের ৬৪ জেলা থেকে সাদ অনুসারীরা ময়দানে জড়ো হয়েছেন। প্রথম পর্বের মতো দ্বিতীয় পর্বেও ইজতেমায় যোগ দিতে আসা লোকজনের যাতায়াতের সুবিধার জন্য বিশেষ ট্রেন ও বাস সার্ভিস রয়েছে। তুরাগ নদ পারাপারের জন্য সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় প্রথম পর্বের সময়ই ভাসমান ব্রিজ তৈরি করা আছে। এদিকে ইজতেমায় আগতদের সুবিধার জন্য ময়দানের পাশে স্থাপন করা হয়েছে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প। এসব মেডিকেল ক্যাম্প থেকে ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের স্বাস্থ্যসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ  দেওয়া হচ্ছে বিনামূল্যে। এদিকে এরই মধ্যে ইজতেমা ময়দান ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য র‌্যাব-পুলিশের পক্ষ  থেকে পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, সিসিটিভি কাজ করছে। খিত্তায় খিত্তায় সাদা পোশাকের পুলিশ  মোতায়েনসহ পুরো ময়দান সিসিটিভি ও ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ইজতেমার প্রবেশ পথগুলোতে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার  মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ইজতেমা উপলক্ষে টঙ্গীসহ আশপাশের এলাকায় মোতায়েন রয়েছে পুলিশ, র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৯ হাজার সদস্য। নেওয়া হয়েছে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা। চার শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরায় ইজতেমা ময়দান মনিটরিং হচ্ছে।  ২ মুসল্লির মৃত্যু : টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় বৃহস্পতিবার থেকে গতকাল পর্যন্ত ২ মুসল্লি মারা গেছেন। তারা হলেন, নরসিংদীর সুরুজ মিয়া (৬০) ও সুনামগঞ্জের কাজী আলাউদ্দিন (৬৫)। এ নিয়ে দ্বিতীয় পর্বে চার মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। ২০২১ সালে বিশ্ব ইজতেমা ৮ জানুয়ারি শুরু হবে প্রথম পর্ব এরপর ১৫ জানুয়ারি শুরু হবে দ্বিতীয় পর্ব।


আপনার মন্তব্য