শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২০ মে, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ মে, ২০২০ ২৩:৫৪

দুই সংস্থার পর্যবেক্ষণ

করোনাকালে বেড়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনাকালে বেড়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন

করোনাভাইরাসের মহামারীর এই সময়ে দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন বেড়ে গেছে। বেড়েছে পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও সংঘাত। স্টেপস টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্ট (স্টেপস্) এবং ১৮টি জেলার বেসরকারি সংগঠনের সম্মিলিত জাতীয় প্ল্যাটফরম বা ফোরাম জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যালায়েন্স (গ্যাড অ্যালায়েন্স)-এর যৌথ উদ্যোগে সম্প্রতি ৭ হাজার পরিবারের ওপর পরিচালিত নিবিড় পর্যবেক্ষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগ পাওয়া গেছে, এই ৭ হাজার পরিবারের মধ্যে ৪ হাজার ৫৫০টি পরিবারে নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এর শতকরা হার হচ্ছে ৬৫ শতাংশ।

এতে বলা হয়েছে, মানুষের ঘরে আটকে পড়া, কাজ না থাকা, আয়-রোজগার কমে যাওয়া, খাবারের সংকট, ঋণের চাপ এবং কোথাও কোথাও মাদকের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় পারিবারিক নির্যাতন বেড়েছে। পাশাপাশি নারীরা তাদের ছোট ছোট পুঁজি, ব্যবসা ও তার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম থেকে অর্জিত সম্পদ হারাচ্ছে। ফলে নারীর ওপর ঋণের বোঝাও বাড়ছে। এ কারণে নারী যেমন পারিবারিকভাবে প্রতিনিয়ত নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, তেমনি বাড়ছে তার অর্থনৈতিক সংকট এবং সামাজিক ঝুঁকি। এ সময়ে পারিবারিক নির্যাতন ও মাদকরিরোধী চলমান সামাজিক আন্দোলন না থাকায় নারীদের এগিয়ে চলার যে পদযাত্রা, গ্রামীণ অর্থনীতিতে তাদের যে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং পরিবারে তাদের যে অবদান তা ক্রমান্বয়ে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নারীর এত দিনের সংগ্রামে অর্জিত সাফল্যগুলো সংকুচিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে পত্রপত্রিকায় নারী ও শিশু নির্যাতনের খবর প্রকাশিত হতে থাকলে স্টেপস্ এর কর্ম এলাকার ১৮টি জেলায় ৫৪টি উপজেলার ২৪০টি ইউনিয়নে প্রায় ৭ হাজার পরিবারের ওপর এ পর্যবেক্ষণ চালানো হয়। এই কার্যক্রমের উদ্দেশ্য ছিল, পর্যবেক্ষণকৃত পরিবারগুলোয় নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে কি না, ঘটলে কতটি পরিবারে ঘটছে এবং এর ধরন ও কারণগুলো সম্পর্কে জানা।

লকডাউনের সময়কালে এ ধরনের সমীক্ষা চালনা করা ছিল বেশ কঠিন। তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে মোবাইল ও ই-মেইল ব্যবহার করা হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ের ইয়ুথ ভলান্টিয়াররা এ নিবিড় পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত ইয়ুথ ভলান্টিয়াররা নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে যে যেখানে অবস্থান করছেন, সেখান থেকে তার আশপাশের পরিবারগুলোর ওপর নজর রাখছিলেন। উল্লেখ্য যে, পর্যবেক্ষণকারীরা বিগত সময়ে নারীর মানবাধিকার বিষয়ে নিজ নিজ এলাকায় কর্মরত ছিলেন। এই রিপোর্ট মূলত পর্যবেক্ষণনির্ভর। গত ২৬ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত এই পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম চলে। যেসব জেলায় পর্যবেক্ষণ চলে সেগুলো হচ্ছে- পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, রাজশাহী, টাঙ্গাইল, চুয়াডাঙ্গা, সাতক্ষীরা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরিশাল, বরগুনা, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম।  পর্যবেক্ষণে প্রাপ্ত তথ্যে আরও বলা হয়েছে, করোনার কারণে সকল প্রকার কাজ বন্ধ থাকার কারণে নারীদের এতদিনের অর্জিত সঞ্চয় দিয়ে পরিবারের নিয়মিত খরচ চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে নারীরা যখনই বাধা দিচ্ছে তখনই তার ওপর নেমে আসছে বিভিন্ন রকমের নির্যাতন। পরিবারে, সমাজে এবং রাষ্ট্রে নারীদের যে অর্থনৈতিক অবদান এরই মধ্যে তৈরি হয়েছে তা কমে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়াও এ সময়ে স্থানীয় পর্যায়ে গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবাসহ নানা ধরনের মাদকের সহজলভ্যতা ও এর ব্যবহার বেড়েছে বলে পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর