শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ আগস্ট, ২০২০ ০০:০২

অভিজাত বাড়িতে বাহারি বনসাই

মোস্তফা কাজল

অভিজাত বাড়িতে বাহারি বনসাই

বাহারি বনসাইয়ের কদর বাড়ছে। এসব গাছ অভিজাত বাড়ির আঙিনায় শোভা পাচ্ছে। অনেকে বসার ঘরে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য রাখছেন। বনসাইয়ের অর্থ হলো ট্রের মধ্যে ফলানো গাছ। এসব গাছের শক্ত কান্ড রয়েছে। এমন গাছকে খর্বাকৃতি করার শিল্পকে বনসাই বলা হয়। আবার অনেকে বলছেন, শক্ত কান্ডবিশিষ্ট গাছকে নান্দনিকভাবে ক্ষর্বাকৃতি করার শিল্পই বনসাই। এসব গাছ বিভিন্ন নার্সারিতে ৫ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। রাজধানীর উদ্ভিদ উদ্যান হিসেবে খ্যাত বোটানিক্যাল গার্ডেনে বাহারি বনসাই রয়েছে। অনেকের কাছে বন বিভাগের এ উদ্যানের বনসাইয়ের চাহিদা বেশি। পাশাপাশি বনানী, উত্তরা, বারিধারা ও গুলশানের নার্সারিতে বনসাই কিনতে পাওয়া যায়। বারিধারা, গুলশান, বসুন্ধরা ও বনানীর অনেকে বাড়ির সৌন্দর্যের জন্য বনসাই রাখছেন। ঢাকার গুলশানে এক থেকে দেড় ফুট উচ্চতার বটের বনসাই ৫০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।

অনেক তরুণ-তরুণী বনসাই বিদেশে রপ্তানি করে বেকারত্ব দূর করেছেন। আমেরিকা, কানাডা, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে এ গাছের চাহিদা অনেক। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে চাহিদা রয়েছে এর। বর্তমানে করোনার কারণে এর রপ্তানিতে ভাটা পড়েছে। বনসাই করা যায় বট, শিমুল, পাকুড়, তেঁতুল, শিরীষ, জাম, নিম, গাব, ডালিম, তমাল, জাম্বুরা, কমলা, অর্জুন, জারুল, কদবেল, নীল জবা, লাল জবা, কুসুমফুল, অশ্বত্থ ও পাকুরবট। রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের কয়েকটি স্থানেও শোভা পাচ্ছে বনসাই। আরও আছে রঙ্গননিম সুন্দরী, লাল গোলাপ, কনকচাঁপা, গোলাপজাম, পাথরকুচি, সাদা নয়নতারা, স্টারকুইন, বাগানবিলাস, লাল টাইমপুল, ক্যাকটাস, পাতাবাহার, লাল জামরুল, চায়না বাঁশ, সন্ধ্যামালতী হলুদ, যজ্ঞডুমুর ও আলমন্ডা। বোটানিক্যাল গার্ডেনের কর্মকর্তা জসিমউদ্দিন বলেন, ‘আমাদের কাছে ১২ ধরনের বনসাই রয়েছে। এসব গাছ ৫ থেকে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। এসব গাছের গড়ন নির্ণয় থেকে শুরু করে গাছকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আমরা গাছের ক্রেতাকে বিনামূল্যে পরামর্শ দিই। যে পাত্রে বা টবে বনসাই চাষ করা হয় তা নির্ধারণ এবং প্রতিস্থাপন সবই এ শিল্পের অন্তর্ভুক্ত।’ সংশ্লিষ্টদের মতে পাত্রে বা টবে গাছ বা বিভিন্ন ধরনের গাছের চারা উৎপাদনের কথা জানা যায় প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতার ইতিহাসে। বিভিন্ন সময়ে চীনের নানা জায়গা, জাপান, কোরিয়া, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডে বনসাই নিয়ে ব্যাপক কাজ হচ্ছে। জাপানের সাংস্কৃতিক উৎকর্ষের সময় তারা বেশ কিছু চীনদেশীয় বৈশিষ্ট্য নিজেদের মতো করে আত্মস্থ করে নেয়। অনেকে পাত্রের ক্ষুদ্র গাছকে গামলার গাছ বলে থাকে। গাছের বয়স হলে গাছের ছাল মোটা হয়। গাছ অনেকদিন সতেজ থাকে। প্রতি বছর বাংলাদেশে শৌখিন বনসাই সোসাইটির উদ্যোগে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। আপাতত করোনার কারণে বিক্রি বন্ধ আছে। গুলশানের স্বজন নার্সারির মালিক লোকমান হাকিম জানান, এক থেকে দেড় ফুট উচ্চতার বটের বনসাই ৫০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। এসব গাছের চাহিদা বেশি।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর