শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২৩:৫১

কৃষি

গমের ব্লাস্ট রোগ দ্রুত শনাক্তকরণের সহজ জীবপ্রযুক্তি আবিষ্কার

খায়রুল ইসলাম, গাজীপুর

গমের ব্লাস্ট রোগ দ্রুত শনাক্তকরণের সহজ জীবপ্রযুক্তি আবিষ্কার

বাংলাদেশসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশের বিজ্ঞানীদের যৌথ গবেষণায় গমের ব্লাস্ট রোগ দ্রুত শনাক্তকরণের সহজ জীবপ্রযুক্তি আবিষ্কার হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরকৃবি) এর  ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং (আইবিজিই), আমেরিকার ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনাইটেড স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচার এবং চাইনিজ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সের বিজ্ঞানীরা যৌথ গবেষণায় একটি জীবপ্রযুক্তি আবিষ্কার করেছে যা দ্রুত, সহজে, কম খরচে এবং সুনির্দিষ্টভাবে গমের ব্লাস্ট রোগের সংক্রমণকারী ছত্রাক জীবাণু ম্যাগনাপরথে অরাইজি ট্রিটিকাম (এমওটি) কে শনাক্ত করতে পারে।

আইবিজিই সূত্রে জানা গেছে, গমের ব্লাস্ট রোগ মূলত দক্ষিণ আমেরিকাতে গমের মারাত্মক রোগ হিসেবে ১৯৮৫ সাল থেকে গমের ক্ষতি করে আসছে। এ ভয়াবহ রোগটি ব্রাজিলের পারানা স্টেটে প্রথম শনাক্ত হওয়ার পর অতি দ্রুত প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশ যেমন-আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া এবং প্যারাগুয়ের প্রায় ৩ মিলিয়ন হেক্টর জমির গমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ রোগটি ২০১৬ সালে প্রথম দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশে গমে মহামারী রোগ হিসেবে দেখা দেয় এবং একযোগে ৮টি জেলার ১৫,০০০ হেক্টর জমির গম ফসল বিনষ্ট করে। এখন পর্যন্ত এটি খুব দ্রুত বাংলাদেশের ২০টি জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। এ রোগ বাংলাদেশের গম উৎপাদন ও ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বিরাট হুমকিস্বরূপ। নতুন আবিষ্কৃত এ জীবপ্রযুক্তিটি খুব সহজে গমের ব্লাস্ট রোগের ছত্রাক জীবাণুসুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করতে ব্যবহার করা যাবে এবং গমের এ ধ্বংসাত্মক রোগ দমনে এবং ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।

এ গবেষণা প্রকল্পের টিম লিডার এবং বিশ্ব বিখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী ইঞ্জিনিয়ারিং-এ প্রকাশিত এ প্রযুক্তির গবেষণা প্রবন্ধের একজন করেস্পন্ডিং লেখক বশেমুরকৃবির আইবিজিই’র অধ্যাপক ও পরিচালক ড. মো. তোফাজ্জল ইসলাম বলেন, “এ জীবপ্রযুক্তিটি আবিষ্কারের জন্য আমরা ধান ও গমের ব্লাস্ট রোগের ছত্রাকের জীবন রহস্য বিশ্লেষণ করে ডিএনএ’র দুটি সুনির্দিষ্ট ক্ষুদ্র অংশ (এমওটি-৬০৯৮ ও এমওটি-৬০৯৯) খুঁজে বের করি, যা শুধু গমের ব্লাস্ট রোগের ছত্রাক জীবাণুর জিনোমে বিদ্যমান, কিন্তু ধানে ব্লাস্ট রোগ সংক্রমণকারী ছত্রাক জীবাণু ম্যাগনাপরথে অরাইজি অরাইজি (এমওও) এর জিনোমে নেই। ডিএনএ’র এ ক্ষুদ্র দুটি অংশকে ভিত্তি করে পিসিআর পদ্ধতির মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট প্রাইমার ব্যবহার করে আমরা দক্ষিণ আমেরিকা ও বাংলাদেশ থেকে আহরিত গমের ব্লাস্ট রোগের ছত্রাক জীবাণুর শনাক্তকরণ নিশ্চিত করি। গমের ব্লাস্ট রোগের ছত্রাক জীবাণু শনাক্তকরণের প্রযুক্তিকে আরও সহজতর ও সর্বসাধারণের ব্যবহার উপযোগী করার জন্য আমরা অধুনা কাস১২এ প্রোটিন, গাইড আরএনএ, রিকম্বিনেজ পলিমারেজ অ্যামপ্লিফিকেশন এবং নিউক্লিয়িক অ্যাসিড ল্যাটারাল ফ্লো ইমিউনোঅ্যাসে পদ্ধতির সমন্বয়ে একটি পিসিআরডি স্ট্রিপ আবিষ্কার করি যা অতি দ্রুত কৃষকের মাঠেই গবেষণাগারের কোনো সূক্ষ্ম যন্ত্রপাতি ব্যতিরেকে ছত্রাকটি শনাক্ত করতে পারে। আমরা কৃষকের মাঠে রোগাক্রান্ত নমুনা সংগ্রহ করে এ পদ্ধতির কার্যকারিতা নিশ্চিত করেছি।’’ 

বশেমুরকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. গিয়াসউদ্দীন মিয়া বলেন, “ড. মো. তোফাজ্জল ইসলাম এবং তার গবেষণা দল গমের ব্লাস্ট রোগের জীবাণু শনাক্ত করার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট, ব্যাপকভাবে ব্যবহার উপযোগী এবং উপকারী প্রযুক্তি আবিষ্কার করেন, যেটি নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।’’ তিনি গবেষকদের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং গমের ব্লাস্ট রোগ দমনে ভবিষ্যতে নতুন গবেষণার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর