শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৮ অক্টোবর, ২০২০ ২৩:৩০

স্টার জলসা প্লাসসহ বিদেশি পে-চ্যানেল বন্ধ রাখবে কোয়াব

নিজস্ব প্রতিবেদক

ক্যাবল অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) সদস্য অপারেটরদের পাশ কাটিয়ে দেশজুড়ে নতুন নতুন ক্যাবল অপারেটর নিয়োগের কারণে স্থানীয়ভাবে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে সাত দিনের আলটিমেটাম দিয়েছেন কোয়াবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এস এম আনোয়ার পারভেজ। একটি বিদেশি পে-চ্যানেলের স্থানীয় এজেন্টের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে তার প্রতিবাদে গতকাল ‘ক্যাবল অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ঐক্য পরিষদ’ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ আশঙ্কা ব্যক্ত করা হয়। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের সাবেক সহসভাপতি এ বি এম সাইফুল ইসলাম ও মহাসচিব নিজামুদ্দিন মাসুদ। সভায় দেশের বিভাগীয় ও জেলা শহরে ক্যাবল অপারেটররা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, প্রায় দুই যুগ ধরে দেশে ক্যাবল টিভি নেওয়ার্ক পরিষেবার ব্যবসা গড়ে উঠেছে। গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী সরকার অনুমোদিত দেশি-বিদেশি পে-চ্যানেল, ফ্রি-টু এয়ার চ্যানেলের পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে। এ শিল্পের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৫ লাখ মানুষের রুটি-রুজি জড়িত। করোনার সময়ও জীবনের ঝুকি নিয়ে এ সেবা চালু রাখা হয়েছে। এ সময় জানানো হয়, দেশে চারটি পে-চ্যানেল রয়েছে। এর মধ্যে যাদু ভিশন লিমিটেড ‘স্টার প্লাস, স্টার জলসা, ন্যাশনাল জিওগ্রাফি, স্টার গোল্ড, লাইফ ওকে’র পরিবেশক হিসেবে ক্যাবল অপারেটরদের সঙ্গে ১০ বছর ধরে ব্যবসা করে আসছে। কিন্তু করোনাকালে কয়েকজন ক্যাবল ব্যবসায়ী এই পে-চ্যানেলের বকেয়া পরিশোধ করতে না পারায় তাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি ‘যাদু ডিজিটাল’ নামে তাদের নিজস্ব অপারেটর নিয়োগের মাধ্যমে ব্যবসার বিস্তার ঘটানোর চেষ্টা করছে। ‘যাদু ভিশন লিমিটেড’ এ ধরনের কর্মকান্ড থেকে বিরত না হলে সারা দেশে ‘স্টার’-এর চ্যানেলগুলো বন্ধ করে দেবে বলে হুমকি দিয়েছে। সংবাদ সম্মেলন থেকে এজন্য স্টার পে-চ্যানেলের কর্ণধারকে সাত দিনের আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তিন দফা দাবি পেশ করা হয়। যার মধ্যে রয়েছে যাদু ভিশন লিমিটেডের বন্ধ করা স্টারের সিগন্যাল চালু। পে-চ্যানেল নবায়ন ফি পরিশোধের টাকার রসিদ ও যাদু ডিজিটালের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বৈধ ক্যাবল অপারেটরদের ব্যবসা সমস্যার সমাধান। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এস এম আনোয়ার পাভেজ বলেন, ‘আমরা চাই আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হোক। এজন্য সাত দিনের আলমেটাম দিয়েছি। সরকারের বিভিন্ন স্তরেও বিষয়টি অবহিত করেছি।’ সমস্যা সমাধানে তিনি সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

আরেক প্রশ্নের জবাবে এ বি এম সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘যাদু ভিশলিমিটেড’ আইপি সিগন্যালের মাধ্যমে তাদের সংযোগ চট্টগ্রামে নিয়ে গেছে এবং ‘যাদু ডিজিটাল’-এর মাধ্যমে গ্রাহক সংযোগ দিচ্ছে। কিন্তু সরকার এখনো আইপি সিগন্যাল চালুর অনুমোদন দেয়নি। তিনি বলেন, এ কারণে স্থানীয় পর্যায়ে পুরনো ও নতুন ব্যবসায়ীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বাড়ছে। অতীতে এ জাতীয় দ্বন্দ্বে শত শত খুন-খারাবির ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে ক্যাবল ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিরোধ বাধানোর অপচেষ্টা হচ্ছে। এ সময় সাংবাদিকরা বকেয়ার পরিমাণ জানতে চাইলে জানানো হয়, ২০ হাজার থেকে ৬ লাখ পর্যন্ত বকেয়া রয়েছে। যাদু ডিজিটাল ও যাদু ভিশন লিমিটিড পরিচালনা করছেন ঢাকা উত্তরের সাবেক মেয়র আনিসুল হকের ছেলে নাবিদুল হক।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর