শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৮ নভেম্বর, ২০২০ ২৩:২৭

ঐক্যবদ্ধ কাজ করার নির্দেশনা শেখ হাসিনার

২৫ পৌরতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী যারা

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৫ পৌরতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী যারা

প্রথম ধাপে দেশে ২৫ পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। গতকাল বিকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে দলের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সভায় এ প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কাজী জাফরউল্লাহ, লে. কর্নেল (অব) মুহাম্মদ ফারুক খান, আবদুর রহমান এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ। পরে দলের দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়–য়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পৌরসভা নির্বাচনে (প্রথম ধাপ) মনোনীত প্রার্থীদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়। আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থীরা হলেন- রংপুর বিভাগে পঞ্চগড় জেলার পঞ্চগড় পৌরসভায় জাকিয়া খাতুন, ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে মো. কশিরুল আলম, দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে মো. খাজা মইন উদ্দীন, রংপুরের বদরগঞ্জ মো. আহাসানুল হক চৌধুরী এবং কুড়িগ্রামের কুড়িগ্রাম সদরে     মো. কাজিউল ইসলাম। রাজশাহী বিভাগে রাজশাহী জেলার পুঠিয়া পৌরসভায় মো. রবিউল ইসলাম, কাটাখালীতে মো. আব্বাস আলী, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে মনির আক্তার খান তরু লোদী এবং পাবনার চাটমোহরে সাখাওয়াত হোসেন সাখো।

খুলনা বিভাগে কুষ্টিয়ার খোকসায় আল মাছুম মুর্শেদ, খুলনা জেলার দাকোপ চালনায় সনৎ কুমার বিশ্বাস, চুয়াডাঙ্গার চুয়াডাঙ্গা সদরে রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার। বরিশাল বিভাগের বরগুনার বেতাগীতে এ বি এম গোলাম কবির, পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় আ. বারেক মোল্লা, বরিশালের উজিরপুরে মো. গিয়াস উদ্দিন বেপারী ও বাকেরগঞ্জে মো. লোকমান হোসেন ডাকুয়া। ঢাকা বিভাগে মানিকগঞ্জের মানিকগঞ্জ সদরে মো. রমজান আলী, ঢাকার ধামরাইয়ে গোলাম কবির ও গাজীপুরের শ্রীপুরে মো. আনিছুর রহমান। ময়মনসিংহ বিভাগে ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে এস এম ইকবাল হোসেন (সুমন) এবং নেত্রকোনার মদনে মো. আবদুল হান্নান তালুকদার। সিলেট বিভাগে সুনামগঞ্জের দীরাইয়ে বিশ্বজিৎ রায়, মৌলভীবাজারের বড়লেখায় আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী ও হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে মো. মাসুদউজ্জামান মাসুক এবং চট্টগ্রাম বিভাগে চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ডে  বদিউল আলম।

নৌকার বিজয়ে নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার নির্দেশ শেখ হাসিনার : বৈঠক সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সদস্য বাংলাদেশ প্রতিদিনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অনির্ধারিত আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সরকারের সুফলগুলো তৃণমূলে বাস্তবায়ন করতে হলে দলীয় জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলে ভালো হয়। আমরা নৌকা মার্কার প্রার্থী দিলাম। এ জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একটি পৌরসভায় অনেক যোগ্য প্রার্থী থাকেন। এর মধ্যে থেকে একক প্রার্থী আমাদের বেছে নিতে হয়। সে কারণে অনেকেই বাদ পড়েন। তবে আওয়ামী লীগের সুবিধা হচ্ছে, তৃণমূল নেতা-কর্মীরা দলের সিদ্ধান্ত মেনেই ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে কাজ করেন। সবাইকে মনে রাখতে হবে, ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগের কাছে কোনো অপশক্তির ষড়যন্ত্র সফল হয় না। এখন সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে থাকতে হবে। নৌকার প্রার্থী বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে। 

বৈঠক সূত্র জানায়, সভায় দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের নামের তালিকা এবং সংশ্লিষ্ট জেলা/উপজেলা/পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত রেজুলেশনে প্রস্তাবিত প্রার্থীর নামের তালিকা ধরে আলোচনা হয়। এ সময় বিগত নির্বাচনে যারা দলের প্রার্থীর বিপক্ষে গিয়ে নির্বাচন করেছিলেন তাদের কাউকে এবার নতুন করে প্রার্থী না দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত একটি সূত্র জানায়, সভায় বিগত নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করে বড় ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছিলেন এমন এক প্রার্থীর নাম আলোচনায় আসে। তখন একাধিক নেতা বলেন, দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ধরে রাখতে যারা দলের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে গিয়ে দলীয় প্রতীক নৌকার বিপক্ষে নির্বাচন করেছেন, তারা ‘জনপ্রিয়’ হলেও এবার তাদের দলের মনোনয়ন দেওয়া হবে না। দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা এতে সম্মতি দেন। তিনি বলেন, যারা অতীতে পৌরসভা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন তাদের পরিবর্তন করে সাংগঠনিক রিপোর্টের ভিত্তিতে তুলনামূলকভাবে পরিছন্ন ও জনপ্রিয় ব্যক্তিকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এই সতর্কবাণীর মধ্যে যদি আসন্ন নির্বাচনে কেউ দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা করে তবে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক রীতি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর