শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ জানুয়ারি, ২০২১ ২৩:৪৭

গোলগাছের রসে গুড়

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

গোলগাছের রসে গুড়

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় গোলগাছ। এ গাছের নাম গোলগাছ হলেও দেখতে কিছুটা নারিকেল পাতার মতো।  নোনাজলে জন্ম, নোনা সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ। অথচ এর ডগা  থেকে বেরিয়ে আসছে মিষ্টি রস। সেই রস দিয়ে তৈরি হচ্ছে গুড়। সুস্বাদু এই গুড়ের চাহিদাও রয়েছে ব্যাপক। কলাপাড়ার প্রায় শতাধিক কৃষক এ গাছের রস ও গুড় বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। প্রতি বছরই শীতের শুরুতে প্রতিদিন সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে কৃষক বেরিয়ে পড়েন এ গাছের রস সংগ্রহ করতে। এরপর বাড়ির উঠানে বসে শুরু হয় রস দিয়ে গুড় তৈরির কাজ। আর সেই গুড় স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে চলছে এসব কৃষকের জীবন-জীবিকা। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবসহ রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, চাষাবাদের জমি বৃদ্ধি এবং একশ্রেণির বনকর্মীর কারণে ক্রমশই ধ্বংস হতে বসেছে  গোলগাছ।

জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া, কুয়াকাটা, রাঙ্গাবালী, গলাচিপা, দশমিনা, বাউফল, বরগুনার আমতলী, তালতলী, পাথরঘাটা, ভোলা ও খুলনা জেলার বিস্তীর্ণ এলাকাসহ চরাঞ্চলে গোলগাছের বাগান রয়েছে। শীত মৌসুমে গোলবাগানের মালিকরা এর রস দিয়ে গুড় উৎপাদন করে বাড়তি অর্থ উপার্জন করে থাকেন। এর রস দিয়ে সুস্বাদু পায়েশ তৈরি করা হয়। সংশ্লিষ্ট গোলগাছের মালিকরা জানান, প্রতিটি গোলগাছ পাতাসহ উচ্চতা হয় ১২ থেকে ১৫ ফুট পর্যন্ত। এর ফুল হয় হলুদ এবং লাল। ফুল থেকে গাবনা পরিপক্ব হলে  সেটি তালগাছের আঁটির মতো কেটে শাস খাওয়া যায়।  গোলপাতা একটি প্রকৃতিনির্ভর পাম জাতীয় উদ্ভিদ। এই ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদটি নদী-খালের কাদামাটি আর পানিতে প্রাকৃতিকভাবেই জন্ম নেয়। তবে গোলগাছ চাষাবাদ অত্যন্ত লাভজনক, সহজসাধ্য এবং ব্যয়ও খুব কম। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োজন হয় না। এতে কোনো পরিচর্যাও করতে হয় না।

উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের নবীপুর গ্রামে প্রতিদিন সকালে কৃষকরা গোল বাগান থেকে সংগ্রহিত রস বাড়ির উঠানে নিয়ে আসেন। আর সেই রস গৃহবধূরা পরিস্কার কাপড় দিয়ে ছেঁকে ঢোঙায় গোলের রস রাখেন। এর পর তাফালে আগুন জ¦ালিয়ে রস দিয়ে তৈরি করেন গুড়।  নবীপুর গ্রামে গোলগাছ চাষি নির্মল গাইন বলেন, প্রতিদিন কাকডাকা ভোরে কলস নিয়ে বাগানে যেতে হয়। এরপর প্রতিটি গাছ থেকে রস সংগ্রহ করতে হয়। অগ্রহায়ণ মাস থেকে শুরু হয়েছে। রস সংগ্রহ করা হবে চৈত্র মাস পর্যন্ত। প্রতি কেজি গুড় ১০০ টাকা দরে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়। বন বিভাগের কলাপাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুস সালাম জানান, এ উপজেলার চাকামইয়া, নীলগঞ্জ ও টিয়াখালী ইউনিয়নের লোন্দা গ্রামে পরীক্ষামূলকভাবে ৬০ হাজার  গোলগাছের বীজ রোপণ করা হয়েছে। এতে ব্যাপক সফলতা পেয়েছি। এ বছর আরও ২০ হাজার গোলগাছের বীজ রোপণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এ গাছগুলো উপকূলীয় এলাকার প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর