শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১২ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ মার্চ, ২০২১ ২৩:২৯

এনআইডি কার্ডে ভুতুড়ে কাণ্ড

উপজেলা নির্বাচন অফিসারের ইউজার আইডি ব্যবহার করে ১২ বছর বয়স সংশোধন, জানেন না কর্মকর্তা নিজেও

গোলাম রাব্বানী

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ভোটার মো. শাহীন হোসেন সারিং। জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর- ১৯৭৬৯৩১৬৬৫৫৯৫৭৩৭৩। তার এনআইডিতে জন্ম তারিখ ছিল ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৬ সাল। কিন্তু ২০১৮ সালে তিনি তার জন্ম তারিখ ১২ মে ১৯৮৮ সাল করতে নির্বাচন কমিশনে এনআইডি সংশোধনের আবেদন করেন। দুই বছরেও তার এনআইডি সংশোধন না হওয়ায়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সংশোধনী আবেদন বাতিল করতে ইসির মির্জাপুর উপজেলা অফিসে আবেদন করেন এই ব্যক্তি। সেইসঙ্গে ইসিতে জমা দেওয়া তার মূল জাতীয় পরিচয়পত্র ফেরত চান। পরে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মির্জাপুর উপজেলা নির্বাচন অফিসার ওই বাতিলের আবেদন ময়মনসিংহের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে পাঠান। কিন্তু গত ১ মার্চ বিকালে (৫টা ৪৯ মিনিট ২২ সেকেন্ড) হঠাৎ করেই তার আইডি কার্ড সংশোধন হয়ে যায়। এই সংশোধনী করতে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাচন অফিসার আবদুল বাতেনের ইউজার আইডি ব্যবহার করে প্রথমে আবেদনটি ‘গ’ ক্যাটাগরি থেকে ‘ক’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করা হয়। একই সময়ে ভুতুড়েভাবে জন্ম তারিখও (১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৮৮ সাল) সংশোধন করা হয়। সব কিছু ঠিকঠাকভাবে হলেও ময়মনসিংহের আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এই আবেদনটি চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করার সময় এমন ভুতুড়ে কান্ডের সন্ধান পান। এ বিষয়ে ময়মনসিংহ আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস মির্জাপুর উপজেলা নির্বাচন অফিসারের কাছে ব্যাখ্যা চাইলে তিনি জানান, ‘তার মোবাইলে কোনো ওটিপি পাঠানো ছাড়া কীভাবে, কখন তার ইউজার আইডি ব্যবহার করে, কে বা কারা এই সংশোধনী করেছেন তা তিনি  মোটেও অবগত নন।’

 

গত ১১ মার্চ জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো ময়মনসিংহের অতিরিক্ত  আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন স্বাক্ষরিক এক চিঠিতে এই ভুতুড়ে কান্ডের তথ্য উঠে এসেছে। জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনীর এই ভুতুড়ে কান্ডের বিষয়ে ইসির কেউ কিছু জানেন না। কীভাবে ১২ বছর বয়স সংশোধন করা হলো এই আইডি কার্ডে? তার ব্যাখ্যা নেই ইসির এনআইডি বিভাগে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা কোনো কথা বলতে রাজি হননি। এ বিষয়ে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাচন অফিসার আবদুল বাতেন এক চিঠিতে ময়মনসিংহের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। ব্যাখ্যায় তিনি বলেছেন, আমি এই সংশোধনীর বিষয়ে অবগত নই। এ ছাড়া একইসময়ে ক্যাটাগরি পরিবর্তন ও সংশোধন অনুমোদন করা হয়েছে। বিষয়টি যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘গ’ থেকে ‘ক’ ক্যাটাগরি করার ক্ষমতাও আমার নেই। সিএমএস থেকে আমার মোবাইলে কোনো ওটিপি আসেনি। জাতীয় পরিচয়পত্রের আবেদনের জন্ম তারিখ ১২ বছর সংশোধন আমার আওতাভুক্ত নয়, তা আমার জানা রয়েছে। তাই যাচাই করে প্রকৃত দোষী ব্যক্তিকে খুঁজে বের করে, তাকে এই দায় থেকে অব্যাহতি দিতে তিনি আবেদন করেছেন।  ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন নিয়ে এমন ভুতুড়ে কান্ডে এই প্রথম নয়, আগেও অনেক ঘটনা ঘটেছে। এই ধরনের বড় বড় সংশোধনী করে লাখ লাখ টাকাও হাতিয়ে নিয়েছেন ইসির এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তারা। অনেক সময় ইসির তদন্তে বড় বড় কর্মকর্তাদের নাম উঠে আসলেও তা ধামাচাপা দেওয়া হয়। ফলে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকেন অবৈধভাবে এনআইডি সংশোধনকারী কর্মকর্তারা। সম্প্রতি কুষ্টিয়ার ওয়াদুদ নামের এক ব্যক্তি ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে ভুয়া এনআইডি তৈরি করে একটি চক্র তার জমি বিক্রি করে দিয়েছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর