শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০৫

এত মৃত্যুর রেকর্ড কেন

এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ৭৭ জনের, শনাক্ত ৫৩৪৩

জয়শ্রী ভাদুড়ী

এত মৃত্যুর রেকর্ড কেন

করোনাভাইরাসে প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে আক্রান্ত-মৃত্যুর নতুন রেকর্ড। গতকাল দেশে করোনা আক্রান্ত হয়ে সর্বোচ্চ ৭৭ জন মারা গেছেন। এ পর্যন্ত করোনায় মারা গেছেন ৯ হাজার ৬৬১ জন। আক্রান্ত বাড়ায় প্রাণঘাতী ভাইরাসের ছোবলে দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর পরিসংখ্যান। ভাইরাসের থাবায় তছনছ হচ্ছে হাজারো পরিবার। আক্রান্ত রোগীর চাপ সামলাতে হাসপাতালগুলোতে হিমশিম অবস্থা। এ ব্যাপারে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, করোনা সংক্রমণ বাড়লে মৃত্যু বাড়বে। যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের আইসোলেশন নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। মৃত্যুঝুঁকি কমাতে টিকা নিতে হবে। আক্রান্তদের শতকরা ৯০ ভাগের মৃদু লক্ষণ থাকে। তাদের আইসোলেশন নিশ্চিত করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, অজানা উৎস থেকে বাঁচতে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। বদ্ধ ঘরে বেশি মানুষ গাদাগাদি করে থাকা যাবে না। এর মধ্যে যদি ফ্যান কিংবা এসি দেওয়া থাকে তাহলে খুব দ্রুত গতিতে করোনা ছড়ায়। অপ্রয়োজনে বাইরে ঘোরাঘুরি করা যাবে না। কর্মক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব এবং স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। মাস্ক পরে থাকতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, গতকাল ২৬ হাজার ৭৭টি নমুনা পরীক্ষা করে ৫ হাজার ৩৪৩ জনের শরীরে করোনার জীবাণু পাওয়া গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে মারা গেছেন ৭৭ জন। এর মধ্যে ৪৪ জনের   বয়স ৬০ বছরের বেশি। ১১-২০ বছর বয়সী একজন, ২১-৩০ বছর বয়সী তিনজন, ৩১-৪০ বছর বয়সী দুজন, ৪১-৫০ বছর বয়সী পাঁচজন, ৫১-৬০ বছর বয়সী ২২ জন। ঢাকায় সংক্রমণ ও মৃত্যু দুটোই ঊর্ধ্বমুখী। ৭৭ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে মারা গেছেন ৫১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৫ জন এবং রাজশাহী বিভাগে মারা গেছেন তিনজন। গতকাল ঢাকা ও বগুড়ায় তিনজন চিকিৎসক মারা গেছেন। এ বছরের মার্চ থেকেই বাড়তে থাকে করোনার সংক্রমণ। এপ্রিলে করোনা সংক্রমণের সঙ্গে বাড়তে শুরু করে মৃত্যুর ঘটনা। গত ১ এপ্রিল করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৪৬৯ জন, শনাক্ত হার ছিল ২২ দশমিক ৯৪ শতাংশ, মারা গেছেন ৫৯ জন। ২ এপ্রিল আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৮৩০ জন, শনাক্ত হার ছিল ২৩ দশমিক ২৮ শতাংশ, মারা গেছেন ৫০ জন। ৩ এপ্রিল আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ৬৮৩ জন, শনাক্ত হার ছিল ২৩ দশমিক ১৫ শতাংশ, মারা গেছেন ৫৮ জন। ৪ এপ্রিল করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৭ হাজার ৮৭ জন, শনাক্ত হার ছিল ২৩ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ, মারা গেছেন ৫৩ জন। ৫ এপ্রিল আক্রান্ত হয়েছে ৭ হাজার ৭৫ জন, শনাক্ত হার ছিল ২৩ দশমিক ৪০ শতাংশ, মারা গেছেন ৫২ জন। ৬ এপ্রিল আক্রান্ত হয়েছেন ৭ হাজার ২১৩ জন, শনাক্ত হার ছিল ২১ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ, মারা গেছেন ৬৬ জন। ৭ এপ্রিল আক্রান্ত হয়েছেন ৭ হাজার ৬২৬ জন, শনাক্ত হার ছিল ২২ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ, মারা গেছেন ৬৩ জন। ৮ এপ্রিল আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৮৫৪ জন, শনাক্ত হার ছিল ২০ দশমিক ৬৫ শতাংশ, মারা গেছেন ৭৪ জন। ৯ এপ্রিল করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৭ হাজার ৪৬২ জন, শনাক্ত হার ছিল ২৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ, মারা গেছেন, ৬৩ জন। গতকাল আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ৩৪৩ জন, মারা গেছেন ৭৭ জন। গত ১০ দিনে করোনায় মারা গেছেন ৬১৫ জন মানুষ।

তিন চিকিৎসকের মৃত্যু : গতকাল করোনায় তিনজন চিকিৎসক মারা গেছেন। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র কনসালটেন্ট কার্ডিয়াক সার্জন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মোজাদ্দেদ মেহেদী (৫২) করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এ বি এম মুসা করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। বগুড়ায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে ডা. গাজী সাইফুল আলম চৌধুরী (৬২) মারা গেছেন। তিনি বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শুক্রবার রাতে মারা যান। এর আগে গত ২০ ডিসেম্বর তার বড় ভাই ডা. গাজী শফিকুল আলম চৌধুরী (৭৭) করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। গাজী সাইফুল আলম রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সাবেক উপপরিচালক ছিলেন। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী বলেন, করোনা এ পর্যন্ত ১৪১ জন চিকিৎসক, ১৬ নার্স ও ১৪ জন স্বাস্থ্যকর্মীর প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। এই স্বাস্থ্যকর্মীদের অধিকাংশ রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন। করোনা ঠেকাতে সরকার পলিসি নির্ধারণ করছে, গণমাধ্যম সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করছে। কিন্তু মানুষ স্বাস্থ্যবিধিকে অবহেলা করে বাইরে ঘোরাঘুরি, কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছে। এই উপেক্ষার ফলে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ, বাড়ছে মৃত্যু। করোনা রুখতে সচেতন হতে হবে, স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে।