শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:১৮

মহাখালীতে চালু হলো দেশের সবচেয়ে বড় করোনা হাসপাতাল

নিজস্ব প্রতিবেদক

মহাখালীতে চালু হলো দেশের সবচেয়ে বড় করোনা হাসপাতাল
গতকাল উদ্বোধন করা হয়েছে করোনার সবচেয়ে বড় হাসপাতাল -বাংলাদেশ প্রতিদিন
Google News

করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে রাজধানীর মহাখালীতে ‘ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কভিড-১৯ হাসপাতালে’র সেবা কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল হাসপাতালের উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাহিদ মালেক বলেন, গত দেড় মাসে দেশে করোনা সংক্রমণের হার কয়েক গুণ বেড়েছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর হার। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে মাত্র ২০ দিনের মধ্যে এই হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম শুরুর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের পাশের দেশ ভারত করোনার চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। অনেক উন্নত দেশ খোলা আকাশের নিচে তাঁবু টাঙিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সেই জায়গায় আমরা একটি উন্নত পরিবেশে করোনা রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। গত বছর যখন দেশে করোনা রোগীর সংক্রমণ হার বেড়ে যায়, তখন রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টার এবং মহাখালী ডিএনসিসি মার্কেটে আইসোলেশন সেন্টার স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু পর্যাপ্ত রোগী না থাকায় বসুন্ধরা আইসোলেশন          সেন্টারের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। ডিএনসিসি মার্কেটে আইসোলেশনের পরিবর্তে বিদেশগামীদের করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখন এই আইসোলেশন সেন্টারেই ১ হাজার শয্যার হাসপাতাল করা হয়েছে। এখানে আইসিইউ রয়েছে ১১২টি, এইচডিইউ ১০০টি। ঢাকা শহরের জনসংখ্যা অনুপাতে আইসিইউর সংখ্যা কম জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এখন আইসিইউ সংকটের বিষয়টি সবার নজরে এসেছে। বাস্তবিক অর্থে ঢাকায় সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউর সংখ্যা কম। তবে করোনা রোগীদের জন্য আইসিইউর চেয়ে অক্সিজেনের দরকার বেশি হয়। তিনি বলেন, হাসপাতালে প্রতিটি শয্যায় অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের জন্য সেন্ট্রাল অক্সিজেন রয়েছে। পাশাপাশি ডায়ালাইসিসের জন্য পাঁচটি শয্যা রয়েছে। এ ছাড়া ১০টি ভিআইপি কেবিন ও ৮টি এসি কেবিন স্থাপন করা হয়েছে। এখন দেশে করোনা সংক্রমিতদের মধ্যে তরুণদের সংখ্যাই বেশি বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, তবে তরুণদের মধ্যে করোনা সংক্রমণের হার বেশি দেখা গেলেও মৃত্যুর হার কম। তারা বরং পরিবারের সবাইকে করোনায় আক্রান্ত করছেন। তাদের বয়স্ক বাবা-মাকে মৃত্যুর ঝুঁকিতে ফেলছেন। তাই অপ্রয়োজনে বাইরে ঘোরাঘুরি বন্ধ করতে হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ডিএনসিসি মার্কেট নির্মাণ করে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন কারণে মার্কেটটি চালু হয়নি। পরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে মার্কেটটিতে করোনা হাসপাতাল করার প্রস্তাব দিই। প্রধানমন্ত্রী সেই প্রস্তাব গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, এ মার্কেট নির্মাণে ১৭৫ কোটি টাকা ব্যয় করেছে ডিএনসিসি। যার খরচ দোকানিদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছিল। কিছু দোকানি এখনো দোকান ফেরত চান। তাদের মধ্যে ১১ জন আমার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন। এই দোকানির মধ্যে কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে তাকে চিকিৎসায় অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। দেশে প্রশিক্ষিত নার্স সংকটের কথা জানিয়ে ডিএনসিসি মেয়র বলেন, এই হাসপাতাল ক্যাম্পাসে নার্সিং কলেজ স্থাপনের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। আমি এখানে নার্সিং কলেজ স্থাপনের অনুরোধ করব। তাহলে দেশের স্বাস্থ্য খাত আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে যাবে। এ ছাড়া এই হাসপাতালে এখন করোনা চিকিৎসার পাশাপাশি অপারেশনের ব্যবস্থা করতে হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, ডিএনসিসি ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতালে পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন প্রমুখ বক্তব্য দেন।