শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৫ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৪ জুন, ২০২১ ২৩:৪৭

ক্রেতা কম বানেশ্বরে, হতাশ আম চাষিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

ক্রেতা কম বানেশ্বরে, হতাশ আম চাষিরা
Google News

আমের বড় হাট বসে বানেশ্বরে। ভরা মৌসুমে সেখানে উঠেছে প্রচুর আম। কিন্তু করোনার কারণে ক্রেতা নেই। ফলে দাম নেই আমের। এতে খরচও উঠছে না আম চাষি ও বাগান মালিকদের। চাষিরা বলছেন, এ মুহূর্তে বাজার ভরা আমে। করোনার কারণে বাইরের ক্রেতা না আসায় স্থানীয় ক্রেতারা আম কিনে বাইরে পাঠাচ্ছেন।

তারা আমের দাম বলছেন গড়পড়তা। এতে লাভ দূরের কথা, খরচই উঠছে না। গতকাল ছুটির দিনে হাটে ভিড় থাকার কথা ছিল বেশি। কিন্তু বানেশ্বর আম হাট ঘুরে দেখা গেছে ক্রেতাদের হাহাকার। এ সুযোগে মুনাফা লুটছেন স্থানীয় আড়তদার ও সরবরাহকারীরা। করোনার কারণে আগের জায়গা থেকে আমের হাট সরিয়ে বসানো হয়েছে বানেশ্বর সরকারি কলেজ মাঠে। সকাল থেকেই ভ্যান ও ভটভটি করে আম নিয়ে বাজারে আসেন স্থানীয় আম চাষি ও বাগান মালিকরা। রাজশাহী জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আম আনেন বিক্রেতারা। আম উঠেছে পাশের জেলা নাটোর থেকেও।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজার ভরা হিমসাগর বা ক্ষীরশাপাতি আমে। এ জাতের আম নামছে ২৫ মে থেকে। একই দিন থেকে নামছে লক্ষণভোগ বা লখনা আম। এখন প্রায় শেষের দিকে গোপালভোগ। নতুন করে নামতে শুরু করেছে ল্যাংড়া। যদিও প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা অনুযায়ী ল্যাংড়া নামার কথা ৬ জুন থেকে। ১৫ জুন থেকে আম্রপালি ও ফজলি নামবে। মৌসুমের শেষে ১০ জুলাই নামতে শুরু করবে আশ্বিনা ও বারি আম-৪। এ ছাড়া রঙিন আম খ্যাত বারি আম-১৪ নামবে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে।

গতকাল বানেশ্বর বাজারে প্রতি মণ গোপালভোগ বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায়। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় গোপালভোগের বাজার চড়া। হিমসাগর মিলছে ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা দরে। ল্যাংড়া বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায়। লক্ষণভোগ বা লখনা বিক্রি হচ্ছে গুটির দরে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়। বাজারে আছে কিছু গুটি জাতের আম। বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা মণ দরে। এ দামে খুশি ক্রেতারা। তবে খুশি নন আম চাষি ও বাগান মালিকরা। পুঠিয়ার শলুয়া এলাকা থেকে বানেশ্বর হাটে আম বিক্রি করতে এসেছিলেন বাগান মালিক শরীফ উদ্দিন। বাজারে আমের দাম নিয়ে অসন্তোষ আছে তারও। তিনি জানিয়েছেন, বাজারে গত বছরের চেয়ে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা কমে রকমভেদে প্রতি মণ আম বিক্রি হচ্ছে। এতে চাষি ও বাগান মালিক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। করোনার কারণে ক্রেতা না থাকায় এ সংকট। এ পরিস্থিতিতে আম সংরক্ষণ ও বিদেশে রপ্তানি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন এই আম চাষি। বানেশ্বরের কাপাশিয়া এলাকার আম চাষি আবুল কাশেম ভ্যানভর্তি ৫০ ক্যারেট ক্ষীরশাপাতি আম রেখে পাশের গাছের ছায়ায় বসে আছেন। তিনি জানালেন, তার প্রায় ১০ বিঘা আমের বাগান আছে। গোপালভোগ শেষ। এখন নামছে ক্ষীরশাপাতি। গাছেই পাকছে আম, কিন্তু বাজারে দাম নেই। গাছে আম রাখার উপায়ও নেই।

পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুল হাই মোহাম্মদ আনাছ বলেন, ‘আগে আমের হাট বসত রাস্তায়। এবার সবার সহযোগিতায় সেটি কলেজ মাঠে নেওয়া হয়েছে। ফলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে, ঝামেলামুক্তভাবে ক্রেতা-বিক্রেতারা তাদের ব্যবসা করতে পারছেন। আগে আড়তদাররা আম বিক্রি করতে আসা চাষিদের কাছ থেকে ৪৮ কেজিতে মণ নিতেন। এবার সে প্রথা বাতিল করা হয়েছে। কেউ ৪০ কেজির বেশি হিসেবে মণ ধরলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’