শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১২ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ জুন, ২০২১ ০০:০২

লালমনিরহাট সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অবাধ যাতায়াত ভারতীয়দের

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

Google News

করোনা মহামারীর মধ্যেও লালমনিরহাট সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অবাধ যাতায়াত করছেন ভারতের নাগরিক। লালমনিরহাটের প্রায় ৫৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তে কমপক্ষে ২৭টি ছোট-বড় হাট-বাজারকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের গ্রামগুলোতে অবাধে যাতায়াত করছেন ভারতীয়রা। কাঁটাতারের বেড়ার ফাঁক দিয়ে বাংলাদেশিরাও যাচ্ছেন ভারতে। স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে জেলার আদিতমারী উপজেলার সীমান্তবর্তী দুর্গাপুর ইউনিয়নে করোনায় আক্রান্ত হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে জেলার সীমান্তঘেঁষা এলাকাগুলোতেও করোনার ডেল্টা ভেরিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া, সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ অবাধে বিচরণ করছেন জেলা শহরসহ সব জায়গায়। এতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সীমান্ত এলাকায় কঠোর নজরদারি, যারা ভারত থেকে আসছেন তাদের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে রাখাসহ সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এসবের কিছুই চোখে পড়ছে না। তবে বুড়িমারী স্থলবন্দরে স্বাস্থ্য সুরক্ষার সব ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলছে কর্তৃপক্ষ। আর বিজিবি বলছে, ডেল্টা ভেরিয়েন্ট কিংবা করোনা বিস্তার রোধসহ চোরাচালান ও অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি টহল জোরদার করা হয়েছে। করোনা প্রতিরোধ কমিটি জানিয়েছে, দুই দেশের সীমান্তের জিরো পয়েন্টে করোনারোধে জিরো টলারেন্স কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। পণ্যবাহী পরিবহন ও মানুষ পারাপারে শক্ত অবস্থানে রয়েছে তারা।

এ নিয়ে লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডা. নির্মলেন্দু রায় বলেন, সীমান্ত এলাকা হওয়ায় এখানে ডেল্টা ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। সংক্রমণরোধে স্বাস্থ্য বিভাগ, জেলা প্রশাসন, বিজিবি ও পুলিশ প্রশাসন সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

লালমনিরহাট-১৫ ব্যাটালিয়নের (বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেনেন্ট কর্নেল এস এম তৌহিদুল আলম বলেন, ডেল্টা ভেরিয়েন্ট কিংবা করোনা বিস্তার রোধসহ চোরাচালান ও অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি টহল জোরদার করা হয়েছে। এ ছাড়া সীমান্ত এলাকায় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করছে বিজিবি। লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বাবলু বলেন, সব ধরনের নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে। রপ্তানি হওয়া পণ্যবাহী ট্রাকের চালকদের জন্য মাসব্যাপী হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অপ্রয়োজনে সীমান্তের মানুষকে কোথাও পাড়ি না দিতে আহ্বানও জানানো হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর