বুধবার, ১৬ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা

সুরে ও ছন্দে বর্ষাবরণ

সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক

সুরে ও ছন্দে বর্ষাবরণ

প্রকৃতির নিয়মে এসেছে আষাঢ়, নেমেছে বারিধারা। অঝর ধারায় সিক্ত তরুলতা। কদমফুলের অনিন্দ্য সৌন্দর্য বৃষ্টি¯œাত দিনে ষড়ঋতুর ভেজা শৈল্পিকতা। আর গুড়ুম গুড়ুম মেঘের ডাকে ময়ূরের পেখমতোলা নৃত্যের সুষমা। বর্ষার আগমনে আবহমান বাংলার এমন দৃশ্যকাব্যগুলো গ্রামীণ জীবনে প্রাণের সঞ্চার ঘটালেও যান্ত্রিক নগরীতে এসব এখন রূপকথার গল্পের মতোই। গতকাল ছিল পয়লা আষাঢ়। বাদল দিনের প্রথম কদম ফোটার দিন। করোনার রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে নাচ, গান, আবৃত্তিসহ নানা আয়োজনে বর্ষাবরণ করেছে ‘বর্ষা উৎসব উদযাপন পরিষদ’। করোনার প্রভাবে নাগরিক জীবনের বাসিন্দাদের যাপিত জীবন যখন নিরানন্দ ও বিষাদে ভরে গিয়েছিল তখন ক্ষণিকের জন্য হলেও বর্ষাবরণের এই উৎসব সুর, নৃত্য ও ছন্দে নাগরিকদের হৃদয়ের গহিনে দোলা দিয়েছে। রাজধানীর গেন্ডারিয়ার সীমান্ত গ্রন্থাগার প্রাঙ্গণের সীমান্ত-সাহার উন্মুক্ত মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়েছে এই আয়োজন।

হাওয়াইন গিটারে হৃদয়ছোঁয়া সুরের মূর্ছনায় সকাল সাড়ে ৭টায় উৎসবের উদ্বোধন করেন প্রবীণ শিল্পী মোহাম্মদ হাসানুর রহমান বাচ্চু।

এরপর বর্ষাকথন পর্বে অংশ নেন, অধ্যাপক ড. নিগার চৌধুরী, মোরশেদ আহমেদ চৌধুরী ও মানজার চৌধুরী সুইট।

সুরের খেলায়, নৃত্যের ছন্দে ও কবিতার দীপ্ত উচ্চারণে আবহমান বাংলার বর্ষারানীর সৌন্দর্য তুলে ধরেন শিল্পীরা।

অনুষ্ঠানে এককসংগীত পরিবেশন করেন কানন বালা সরকার, মহাদেব ঘোষ, বিজন চন্দ্র মিস্ত্রি, নবনিতা জাহিদ চৌধুরী ও শ্রাবণী গুহ রায়।

আষাঢ় মাইসা বৃষ্টিরে, আবার এসেছে আষাঢ়, বরষা এলো ওই বরষা, এসো সজল শ্যামল দেয়া, অনেক বৃষ্টি ঝরে তুমি এলেসহ গানে গানে অনুষ্ঠানস্থলে বর্ষার মুগ্ধতা তুলে ধরেন শিল্পীরা।

এতে ‘মেঘের ডমরু’, গানের সঙ্গে দলীয়নৃত্য পরিবেশন করে স্পন্দন, ‘রুমঝুম কে বাজায়’ গানের সঙ্গে দলীয়নৃত্য পরিবেশন করে বাফার শিল্পীরা। আবৃত্তি করেন বেলায়েত হোসেন ও আহসান উল্লাহ তমাল। আর দলীয়সংগীত পরিবেশন করে সত্যেন্দ্র শিল্পী গোষ্ঠী ও বাফার শিল্পীরা।

 

এই রকম আরও টপিক