বৃহস্পতিবার, ১ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা

লাশের পাশে রক্তমাখা কাঠ

মির্জা মেহেদী তমাল

লাশের পাশে রক্তমাখা কাঠ

চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামি থানা পুলিশের কাছে খবর আসে। সেখানকার একটি বাসায় এক নারী খুন হয়েছেন। দুর্বৃত্তরা ওই নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে পালিয়ে গেছে। গৃহবধূর স্বামী কামরুজ্জামান নিজেই ফোন করে জানিয়েছে পুলিশকে। এ খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ লাশটি উদ্ধারের সময় দেখতে পায় মাথায় আঘাতের চিহ্ন। ঘরের এক কোণে পড়ে আছে রক্ত লাগানো কাঠের টুকরা। পুলিশের সন্দেহ হয় স্বামীকেই। তাকে পর্যবেক্ষণে রাখে পুলিশ। ঘটনাটি ২০২০ সালের জানুয়ারির।

নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি থানার শেরশাহ বাংলাবাজারের গুলশান হাউজিং কলোনিতে তাদের বাসা। ২০১৭ সালে কামরুজ্জামানের সঙ্গে ফাতেমা লিপির বিয়ে হয়। বিয়ের পর কামরুজ্জামান ওমানে চলে যায়। ২০১৯ সালের মার্চে ফিরে আসে। এরপর থেকে তারা চট্টগ্রামে। তাদের বাড়ি নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলায়।

ওসি প্রিটন সরকার বলেন, ‘শুরু থেকেই কামরুজ্জামানের আচরণে আমাদের কাছে সন্দেহ লাগছিল। ৯৯৯ নম্বরে ফোন করায় এই সন্দেহ আরও বেশি হয়। তাকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিই। রাতভর জিজ্ঞাসাবাদের পর ভোর ৪টার দিকে সে হত্যার কথা স্বীকার করে পুরো ঘটনা আমাদের খুলে বলে।’ জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওসি প্রিটন জানান, ২০১৭ সালে কামরুজ্জামানের সঙ্গে লিপির বিয়ে হয়। বিয়ের পর কামরুজ্জামান ওমানে চলে যায়। ২০১৯ সালের মার্চে ফিরে আসে। কামরুজ্জামানের স্ত্রীর সঙ্গে এক ছেলের সম্পর্ক ছিল। এক সময় ওই ছেলের সঙ্গে লিপি পালিয়ে গিয়েছিল। পরে আবার কামরুজ্জামান তাকে ফিরিয়ে আনে। লিপি সারাক্ষণ মোবাইলে কথা বলত। ঠিকমতো রান্না করত না। এজন্য বিভিন্ন সময় কামরুজ্জামানকে বাসায় ফিরে ভাতের বদলে হালকা খাবার খেয়ে থাকতে হতো। ঘটনার দিন দুপুরে বাসায় ফিরে কামরুজ্জামান দেখে, তার স্ত্রী ভাত রান্না করেনি। এ সময় দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হলে লিপিকে থাপ্পড় মারে কামরুজ্জামান। তখন লিপি তার কলার চেপে ধরে। এভাবে ঝগড়ার একপর্যায়ে কামরুজ্জামান লিপির মাথায় কাঠ দিয়ে আঘাত করলে সে লুটিয়ে পড়ে। তখন কামরুজ্জামান ধর্ষণের নাটক সাজাতে তার জামা-কাপড় ছিঁড়ে রাখে। এরপর আবার কাজে চলে যায়। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে কামরুজ্জামান লিপিকে খুন করে। এরপর যেখানে কাজ করছিল সেখানে চলে যায়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ফিরে আসে। প্রথমে নিজের ভাইকে ফোন করে বলে, লিপি খুব অসুস্থ, ডাক্তার যেন নিয়ে আসে। তার ভাই স্থানীয় একজন প্র্যাকটিশনারকে নিয়ে বাসায় যান। তখন ডাক্তার লিপিকে মৃত ঘোষণা করেন এবং পুলিশকে খবর দেওয়ার কথা বলে বেরিয়ে যান। ভাইও বেরিয়ে যান। এরপর কামরুজ্জামান হটলাইনে ফোন করে জানায়, তার স্ত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। সন্ধ্যা ৭টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এদিকে লিপির বাবা মো. মাসুদ বাদী হয়ে কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মাসুদের অভিযোগ, ২০১৯ সালে দেশে ফেরার পর ব্যবসা করার জন্য তিনি কামরুজ্জামানকে এক লাখ টাকা দেন। এরপর আবারও লিপিকে টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে। টাকা না দেওয়ায় তার মেয়েকে খুন করা হয়েছে।

 

এই রকম আরও টপিক