রবিবার, ১১ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা

প্রভার করোনার ভুল রিপোর্টে বিপত্তিতে সাবেক আইনমন্ত্রীর পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক

যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য কভিড টেস্টের সনদ নিতে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের পুত্রবধূ ও দুই নাতনি প্রভা হেলথ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে নমুনা দিয়েছিলেন। তারা করোনা পজিটিভ উল্লেখ করে প্রভা থেকে মেল পাঠালে বাতিল হয় যাত্রা, নষ্ট হয় ফ্লাইটের টিকিট। পরদিন আইইডিসিআরে পুনরায় দেওয়া নমুনার রিপোর্টে তারা তিনজনসহ পরিবারের পাঁচ সদস্যই নেগেটিভ বলে জানানো হয়।

সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের ছেলে মাহফুজ শফিক বলেন, ‘৯ জুলাই ভোর ৪টা ২৫ মিনিটে কাতার এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে আমার স্ত্রী ফারজানা রহমান, বড় মেয়ে বায়ান শফিক এবং ছোট মেয়ে জেইন শফিকের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথা ছিল। বিদেশগামী যাত্রীদের করোনা টেস্ট বাধ্যতামূলক হওয়ায় ৭ জুলাই বিকাল ৫টার দিকে প্রভা হেলথে তাদের তিনজনের নমুনা দেওয়া হয়।

ওই দিন রাত ১২টার দিকে আমার স্ত্রীর ফোনে মেসেজ দিয়ে জানানো হয় তিনি পজিটিভ। কিছুক্ষণের মধ্যে আলাদা মেসেজে দুই মেয়েও পজিটিভ বলে জানানো হয়। তাদের কোনো ধরনের উপসর্গ না থাকায় আমার সন্দেহ হয়। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে জানান ওই প্রতিষ্ঠানের মেশিন একদম নতুন এবং অত্যাধুনিক, ভুলের কোনো অবকাশ নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘যেহেতু তাদের সঙ্গে থাকি তাই আমিও আক্রান্ত কি না চিন্তা করে ওই দিন রাত দেড়টার দিকে গ্রিনলাইফ হাসপাতালে নমুনা দিয়ে আসি। আমার রিপোর্ট নেগেটিভ এলে প্রভার রিপোর্ট নিয়ে আমি তাদের অভিযোগ করি। কিন্তু বলেন পরে যোগাযোগ করবেন। আমার বাবা ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের বয়স ৮৫ আর মা ডাকসুর সাবেক ভিপি প্রফেসর মাহফুজা খানমের বয়স ৭৬ বছর। তাঁদের নিয়ে বেশি শঙ্কিত হয়ে পড়ি। এজন্য ৮ জুলাই আইইডিসিআরে ফোন করলে তারা বাড়ি থেকে পরিবারের সব সদস্যসহ মোট ২০ জনের নমুনা নিয়ে যান। ৯ জুলাই রাত ১২টায় তারা ইমেইল করে জানান আমাদের সবার রিপোর্ট নেগেটিভ। প্রভার ভুল রিপোর্টে ২২ ঘণ্টায় আমাদের পরিবারের ওপর দিয়ে ঝড় বয়ে যায়। নষ্ট হয়েছে তিনজনের ফ্লাইটের টিকিট, ভন্ডুল হয়েছে সব শিডিউল। ভুয়া রিপোর্টের এ বিপত্তি এবং ক্ষতি যেন আর কারও না হয় তা-ই আমাদের প্রত্যাশা।’ প্রভা হেলথের ভুয়া রিপোর্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

সর্বশেষ খবর