শুক্রবার, ২৭ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা

যুব-স্বেচ্ছাসেবক দলে আসছে নতুন নেতৃত্ব

কাউন্সিলের পাঁচ মাসেও কমিটি নেই কৃষক দলের

মাহমুদ আজহার

দেড় বছরের বেশি সময় ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন নিয়ে আলোচনা চলছে। বর্তমান আংশিক কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা নিয়েও যেমন আলোচনা আছে, ঠিক তেমনি নতুনভাবে আহ্বায়ক কমিটি নিয়েও চলছে নানা কথাবার্তা। একইভাবে  জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলও প্রায় দুই বছর ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে পরিবর্তন আসার আভাস পাওয়া গেছে। সে ক্ষেত্রে আহ্বায়ক কমিটি হতে পারে বলে সংগঠনটির নেতা-কর্মীদের মুখে আলোচনা চলছে। এ দিকে কাউন্সিলের প্রায় পাঁচ মাসেও কমিটি দিতে পারেনি জাতীয়তাবাদী কৃষক দল। নেতৃত্ববিহীনভাবে এখন চলছে সংগঠনটি। এই তিন সংগঠন নিয়ে কাজ করছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শিগগিরই নতুন নেতৃত্বে এই তিন সংগঠন ঢেলে সাজাবেন তিনি। বিএনপির নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জাতীয়তাবাদী যুবদল : কোন প্রক্রিয়ায় হবে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি,  তা নিয়ে নানামুখী আলোচনা চলছে। কেউ কেউ বলছেন, বর্তমান আংশিক কমিটিই হতে পারে পূর্ণাঙ্গ। সংগঠনটির শীর্ষ নেতৃত্বের একটি অংশ সেই তৎপরতাই চালাচ্ছেন। এ নিয়ে তারা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে নানাভাবে বোঝানোর চেষ্টাও করছেন। জানা যায়, সম্প্রতি যুবদলের শীর্ষ নেতারা তারেক রহমানের সঙ্গে ভার্চুয়ালে বৈঠক করেন। সেখানে তারা সারা দেশের ইউনিট কমিটি গঠনের কথা তুলে ধরেন। এরপর তারেক রহমান তাদের ঢাকা মহানগর যুবদলের দুই শাখার আহ্বায়ক কমিটির নেতাদের নাম প্রস্তাব করে বলেন, কেমন হয়? নেতাদের সবাই  সমস্বরে বলেন, ‘ভালোই হবে’। যুবদলের একাধিক নেতা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, ঢাকার দুই শাখার আহ্বায়ক কমিটির ব্যাপারে তারা কেউই কিছু জানতেন না। এতে বোঝা যায়, তারেক রহমান বর্তমান নেতৃত্বের ওপর অসন্তুষ্ট। যদিও তিনি সরাসরি তা বুঝতে দেননি। এ জন্য যে কোনো সময় যুবদলে নতুন নেতৃত্ব আসতে পারে। আর সেটা আহ্বায়ক কমিটি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এ প্রসঙ্গে যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমরা যুবদলের আংশিক কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার চেষ্টা করছি। তবে কমিটি গঠন-পুনর্গঠন একটি চলমান প্রক্রিয়া। এক্ষেত্রে দলের হাইকমান্ড চাইলে যে কোনো সময় যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।’ সূত্রমতে, কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হলে যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরবকে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়ে যাওয়া হতে পারে। অতীতে যুব নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় তাকে যুগ্ম মহাসচিব পদে নিয়ে যাওয়া হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সিনিয়র সহসভাপতি মোরতাজুল করীম বাদরু, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান, যুগ্ম সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়ন ও ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের বিদায়ী সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর- এই পাঁচজন থেকে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক অথবা আহ্বায়ক-সদস্য সচিব করা হতে পারে। তবে বর্তমান নেতৃত্বের বাইরে সাবেক ছাত্রনেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আমিরুল ইসলাম খান আলিম, হাবিবুর রশীদ হাবিব, রাজিব আহসান, আকরামুল হাসান মিন্টু ও আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনকে নিয়েও আলোচনা আছে বিএনপির ভিতরে-বাইরে। এ ছাড়াও যুবদল নেতা আবদুল খালেক হাওলাদার, গোলাম রাব্বানী, মাহবুবুবল হাসান ভূইয়া পিঙ্কু, তরিকুল ইসলাম বনি ও আলী আকবর চুন্নুর কথাও বলছেন কেউ কেউ। ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি সাইফুল আলম নীরবকে সভাপতি ও সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে সাধারণ সম্পাদক করে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ‘সুপার ফাইভ’ কমিটি ঘোষণা করা হয়। মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় এক মাস পর ১১৪ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে বিগত দিনের সাবেক ছাত্রদল বা বঞ্চিত একঝাঁক যুবদল নেতার পদ দেওয়া হয়নি। যুবদল সূত্র জানায়, সারা দেশে সাংগঠনিক ৮২ জেলার প্রায় সব কমিটিই হয়েছে। পৌর, থানা, উপজেলা পর্যায়েও ৯৩৫টি ইউনিটের মধ্যে কমিটি হয়েছে ৭০০টির বেশি। এসব কমিটি গঠনেও নানা অভিযোগ রয়েছে দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের বিরুদ্ধে।

স্বেচ্ছাসেবক দল : যুবদলের আগেই স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি হতে পারে বলে বিএনপির নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানিয়েছেন। সে ক্ষেত্রে আহ্বায়ক কমিটি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূঁইয়াকেই আহ্বায়ক করা হতে পারে বলে দলের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে। আর সদস্য সচিবের পদে আলোচনায় আছেন ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বজলুল করিম চৌধূরী আবেদ, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, ইয়াসিন আলী, ফখরুল ইসলাম রবিন, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাজীব আহসান প্রমুখ। ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঘোষিত কমিটিতে সংগঠনের সভাপতি করা হয় প্রয়াত শফিউল বারী বাবুকে। সাধারণ সম্পাদক হন আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল। মেয়াদ শেষের এক বছর পর গত বছর ১৯ সেপ্টেম্বর সুপার ফাইভ কমিটিকে ১৪৯ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে পরিণত করে আংশিক কমিটি করা হয়। এরপর আরেক দফায় ১০ জনকে সদস্য ও কিছু উপদেষ্টা ঘোষণা করা হয়। সব মিলিয়ে কমিটি এখন ১৭২ সদস্যবিশিষ্ট। সারা দেশে সাংগঠনিক ৮১টি জেলার প্রায় সব কটিরই কমিটি সম্পন্ন হয়েছে সংগঠনটির। এ ছাড়া ছয় শতাধিক জেলা ও থানার কমিটি হয়েছে। কমিটি গঠন প্রসঙ্গে আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, কমিটি গঠন বা পুনর্গঠন একটি চলমান প্রক্রিয়া। দলকে শক্তিশালী করতে হাইকমান্ডের যে কোনো সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে আমাদের আংশিক কমিটি এখনো পূর্ণাঙ্গ হয়নি। এটা পূর্ণাঙ্গ করে দীর্ঘদিন যারা রাজপথে আছেন, তাদের রাজনৈতিক স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন।

কৃষক দল : জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কাউন্সিল অনুষ্ঠানের পাঁচ মাস পার হলেও এখনো কমিটি ঘোষণা হয়নি। সর্বশেষ ২০১৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি কৃষক দলের কমিটি ভেঙে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান দুদুকে আহ্বায়ক এবং কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনকে সদস্য সচিব করে ১৫৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এরপর ১২ মার্চ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু অজানা কারণে এখনো কমিটি ঘোষণা হয়নি। এদিকে কেন্দ্রীয় কমিটি না থাকায় সাংগঠনিক কাজে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীরাও হতাশ হয়ে পড়ছেন। কার্যত তালাবদ্ধ হয়ে আছে কৃষক দলের নেতৃত্ব। জানা যায়, শিগগিরই কৃষক দলের কমিটি ঘোষণা হতে পারে। তারেক রহমান এ নিয়ে কাজ করছেন। নতুন নেতৃত্বে  সভাপতি পদে আলোচনায় আছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, যুগ্ম মহাসচিব হাবীব-উন নবী খান সোহেল ও নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম। সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় আছেন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, কৃষক দলের সাবেক সদস্য সচিব হাসান জাফির তুহিন, কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম ও কৃষক দলের কারাবন্দী নেতা শাহজাহান মিয়া সম্রাটের নাম।