শিরোনাম
বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ টা

গাড়ি নেই তবু তেলের বিল!

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভার মেয়র ও সহকারী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে বিধিমালা লঙ্ঘন করে বিভিন্ন পদে লোক নিয়োগ ও গাড়ি না থাকা সত্ত্বেও তেল কেনার নামে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

গতকাল দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আল আমিনের নেতৃত্বে একটি এনফোর্সমেন্ট টিম আড়ানী পৌরসভার মেয়র ও সহকারী প্রকৌশলীর অফিসে এ অভিযান পরিচালনা   করে। অভিযানের সময় দুদক টিম বিধিমালা লঙ্ঘন করে বিভিন্ন পদে লোক নিয়োগ প্রদান-সংক্রান্ত নথিপত্র সংগ্রহ করে। দুদক সূত্র জানায়, সহকারী প্রকৌশলীকে সচিব পদে নিয়োগের কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম না থাকার পরেও তাকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মাস্টার রোলে কর্মচারী নিয়োগের বিধান অমান্য করে দুজন অস্তিত্বহীন ব্যক্তির নামে প্রায় ৯ লাখ টাকা মেয়র উত্তোলন করেছেন। পৌরসভার নিজস্ব কোনো জিপগাড়ি নেই এবং এর জন্য কোনো তেল বরাদ্দ নেই, তবে অন্য যানবাহন আছে। সে ক্ষেত্রে যাচাইয়ের জন্য এনফোর্সমেন্ট টিম সংশ্লিষ্ট বরাদ্দ রেজিস্ট্রার সংগ্রহ করেছে। সব প্রকল্পের তালিকা, বরাদ্দের নথি এবং ব্যয় রেজিস্ট্রারের কপি দ্রুত সরবরাহের জন্য বলা হয়েছে। এ ছাড়াও প্রাথমিক অনুসন্ধানে সহকারী প্রকৌশলীর বেশ কিছু সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে যা তার আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে দুদক টিমের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। এ ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানে সুপারিশসহ কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবে দুদক এনফোর্সমেন্ট টিম। এ ছাড়া সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে শেখপাড়া হতে লাঙ্গলবাঁধ পর্যন্ত ২৬ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় যশোরের সহকারী পরিচালক মোহা. মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে গতকাল অপর একটি অভিযান পরিচালনা করেছে দুদক এনফোর্সমেন্ট টিম। দুদক টিম সরেজমিন ওই রাস্তাসহ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে এবং কাজের মান যাচাই করে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নতুন সামগ্রীর সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে পুরাতন সামগ্রী মিশানোর অনুমোদন আছে। এ ক্ষেত্রে কাজের অগ্রগতির দালিলিক প্রমাণের সঙ্গে বাস্তব অবস্থার অমিল রয়েছে বলে টিমের কাছে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর মনিটরিংয়ে এটি পরিলক্ষিত হয়েছে। ঠিকাদারকে কাজের বিপরীতে ইতিমধ্যে প্রায় ১৮ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রাপ্ত সব তথ্য-প্রমাণাদি যাচাইপূর্বক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবে দুদক টিম। এ ছাড়াও দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে আসা অভিযোগের প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক কমিশনকে অবহিত করার জন্য চারটি দফতরে দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিট থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এই রকম আরও টপিক

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর