বৃহস্পতিবার, ১১ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা

মাথা উঁচু করছে দুদক

ডিপিপি প্রণয়নে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠি, সেগুনবাগিচায় বহুতল ভবন, আগারগাঁওয়ে হচ্ছে প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, দ্বিগুণ হচ্ছে জনবল, ১৪ জেলায় নতুন অফিস

উবায়দুল্লাহ বাদল

মাথা উঁচু করছে দুদক

দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধে নিয়োজিত রাষ্ট্রীয় সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ের জন্য বহুতলবিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করা হবে। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অবস্থিত বর্তমান প্রধান কার্যালয়টিই ভেঙে তা নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষ ও প্রশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে একটি নিজস্ব বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট করা হচ্ছে। দুদকের বহুতল ভবন নির্মাণ করতে ‘ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (ডিপিপি)’ প্রণয়ন করতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির আগের সাংগঠনিক কাঠামো সংশোধন করে ১ হাজার ২৬৪ জনবল থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার ১৪৬ করা হয়েছে, যা আগের প্রায় দ্বিগুণ। পাশাপাশি চলমান ২২টি সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হচ্ছে আরও ১৪ জেলা অফিস। প্রতিটি অফিসের অধীন থাকছে একাধিক জেলা। ফলে প্রধান কার্যালয়ের বহুতল ভবনে মাথা উঁচু করে দুদক সারা দেশে আরও শক্তিশালী রূপে কার্যক্রম পরিচালনা করতে যাচ্ছে।

উল্লিখিত বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত করে দুদক কমিশনার ড. মোজাম্মেল হক খান গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘দুদকের আগের জনবলের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ করে ২০১৮ সালে জনবল কাঠামো সংশোধন করা হয়েছে। যেহেতু জনবল বেড়েছে তাই অফিসের অবকাঠামোও বাড়াতে হবে। দুদকের কাজের ধরন ও স্থান-কাল বিবেচনায় বর্তমান প্রধান কার্যালয়ের জায়গায় বহুতল ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষ ও প্রশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে একটি নিজস্ব বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। দুদক যেহেতু জনগণের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান তাই মানুষের অভিযোগ শুনতে হবে। সাধারণ মানুষ যাতে অভিযোগ দিতে পারে তেমন পরিবেশও তৈরি করতে হবে। এ কারণে ২২ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সঙ্গে আরও ১৪ জেলায় সমন্বিত কার্যালয় চালু করা হচ্ছে। দুদককে শক্তিশালী করতেই মূলত এসব সিদ্ধান্ত। সরকারের সহযোগিতা পেলে দুই বছরের মধ্যে প্রয়োজনীয়সংখ্যক জনবল নিয়ে দুদক পূর্ণোদ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।’

জানা গেছে, ঢাকায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ের জন্য বহুতল ভবন ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপন বিষয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন কমিশনার ড. মোজাম্মেল হক খান ও জহুরুল হক, পূর্ত সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, দুদক সচিব ড. মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতার এবং স্থাপত্য অধিদফতরের প্রধান স্থপতি মীর মনজুরুর রহমান। বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো হলো- দুদকের দাফতরিক স্পেস সংকট নিরসনে বর্তমান প্রধান কার্যালয়টি ভেঙে বহুতলবিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করা হবে। যেহেতু ঢাকায় জমির পরিমাণ অপ্রতুল তাই যতটুকু সম্ভব বহুতলবিশিষ্ট ভবন করতে হবে। এ বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে দাফতরিক চাহিদা চূড়ান্ত করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে পূর্ত মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিতে হবে। আগামী জুলাইয়ে বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ শুরুর লক্ষ্যে ফেব্রুয়ারির মধ্যে গৃহায়ণ ও পূর্ত মন্ত্রণালয়কে ডিপিপি প্রণয়ন করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠাতে হবে। বহুতল ভবন নির্মাণকাজ শুরুর জন্য বর্তমান ভবনের একটি অংশকে ভেঙে ফেলতে হবে। ওই অংশের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাফতরিক কাজ সচল রাখতে নতুন অফিস ভাড়ার উদ্যোগ নিতে হবে। এ ছাড়া কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষ ও প্রশিক্ষিত করতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নিজস্ব বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট করা হবে। এজন্য ওই এলাকায় দুদকের অনুকূলে একটি প্লট বরাদ্দের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে পূর্ত মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হবে। সিদ্ধান্তে আরও বলা হয়- দুদক প্রধান কার্যালয়ের পশ্চিমাংশ ভবনের প্রথম, দ্বিতীয় ও চতুর্থ তলা জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদফতর (এনএসআই) ব্যবহার করছে। ইতিমধ্যে তাদের নিজস্ব ২০ তলা ভবন নির্মাণ শেষ করেছে। তাই দুদকের পশ্চিমাংশের ভবনের তাদের ব্যবহারাধীন স্পেস তারা যেন দুদকের হাতে দ্রুত হস্তান্তর করে সে ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় চিঠি দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এদিকে দুদকের সংশোধিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুমোদনের তিন বছর পর কার্যকর হতে যাচ্ছে। ২০১৮ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর দুদকের সাংগঠনিক কাঠামোর পরিসর বাড়ানোর অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর অর্থ বিভাগ থেকে ওই বছরের ৮ অক্টোবর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানানো হয়। দুদকের নতুন সাংগঠনিক কাঠামোয় বিদ্যমান ছয়টি বিভাগীয় কার্যালয়ের সঙ্গে আরও দুটি নতুন বিভাগীয় কার্যালয় স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে চলমান ২২ জেলা কার্যালয়ের সঙ্গে আরও ১৪ নতুন জেলা কার্যালয় স্থাপনেরও অনুমোদন দেওয়া হয়। সম্প্রতি এ উদ্যোগে গতি পায়। ৬ অক্টোবর দুদকের এক প্রজ্ঞাপনে কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলা নিয়ে কক্সবাজার সমন্বিত জেলা কার্যালয় স্থাপনের ঘোষণা আসে। এরপর ১ নভেম্বর অন্য প্রজ্ঞাপনে আরও ১৩ জেলা কার্যালয় স্থাপন ও চালুর অনুমোদন দেওয়া হয়। এগুলো হলো- নারায়ণগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ), গাজীপুর (গাজীপুর ও নরসিংদী), মাদারীপুর (মাদারীপুর ও শরীয়তপুর), গোপালগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, জামালপুর (জামালপুর ও শেরপুর), নওগাঁ (নওগাঁ ও জয়পুরহাট), কুড়িগ্রাম (কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট), চাঁদপুর (চাঁদপুর ও লক্ষীপুর), বাগেরহাট (বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা), ঝিনাইদহ (ঝিনাইদহ, মাগুরা ও চুয়াডাঙ্গা) ও পিরোজপুর (পিরোজপুর ও ঝালকাঠি) সমন্বিত জেলা কার্যালয়। সূত্র আরও জানান, এর আগে বিলুপ্ত দুর্নীতি দমন ব্যুরো ৬৪ জেলায় ৬৬ কার্যালয়ের মাধ্যমে অফিস পরিচালনা করেছে। ওই সময় জেলা কার্যালয়ের পাশাপাশি রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল ও রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলেও ব্যুরোর ফিল্ড অফিস ছিল। ২০০৪ সালের ২১ নভেম্বর দুর্নীতি দমন ব্যুরো বিলুপ্ত করে কমিশন গঠন করা হয়। এর পর থেকে ৬৬ কার্যালয়ের পরিবর্তে ২০ জেলায় ২২ কার্যালয় দিয়ে কমিশন ৬৪ জেলায় কার্যক্রম চলছে। বর্তমানে দুদকের প্রধান কার্যালয় ছাড়াও চালু রয়েছে ঢাকা-১ মেট্রোপলিটন (ঢাকা মহানগরী), ঢাকা-২ (ঢাকা মহানগরীর বাইরে পাঁচ থানা ও মানিকগঞ্জ), ফরিদপুর (ফরিদপুর ও রাজবাড়ী), ময়মনসিংহ (ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা), টাঙ্গাইল, রাজশাহী (রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোর), পাবনা (পাবনা ও সিরাজগঞ্জ), বগুড়া, রংপুর (রংপুর ও গাইবান্ধা), দিনাজপুর, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন (চট্টগ্রাম মহানগর), চট্টগ্রাম (চট্টগ্রাম মহানগরের বাইরে উপজেলাগুলো), রাঙামাটি (রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি), কুমিল্লা (কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া), নোয়াখালী (নোয়াখালী ও ফেনী), খুলনা, যশোর (যশোর ও নড়াইল), কুষ্টিয়া (কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর), বরিশাল (বরিশাল ও ভোলা), পটুয়াখালী (পটুয়াখালী ও বরগুনা), সিলেট (সিলেট ও সুনামগঞ্জ) ও হবিগঞ্জ (হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার)।

এই রকম আরও টপিক

সর্বশেষ খবর