বুধবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২২ ০০:০০ টা

চারুকলার শিক্ষক ও দুই ছাত্রের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদের এক শিক্ষক এবং সাবেক ও বর্তমান দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ‘যৌন হেনস্তা’ ও ‘ইভ টিজিং’-এর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ১৪ এপ্রিল মঙ্গল শোভাযাত্রা ও এর আগের দিন পৃথক দুটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এমন অভিযোগ এনেছেন অনুষদের শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের চেয়ারম্যানসহ চারুকলা অনুষদের ডিনের কাছে লিখিত দুটি অভিযোগ দিয়েছেন তারা। এদিকে ‘ফ্যাক্ট চেকিং কমিটি’র মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানিয়েছেন অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন। প্রাথমিক যাচাইয়ে ঘটনার সত্যতা মিললে এ অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটিতে পাঠানো হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। অভিযোগপত্রে শিক্ষার্থীরা বলেছেন, মঙ্গল শোভাযাত্রা বেরিয়ে যাওয়ার পর চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণে সেখানকার বন্ধুদের সঙ্গে বুয়েটের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী বসা ছিলেন। এমন সময় অভিযুক্ত শিক্ষক বুয়েট শিক্ষার্থীকে দেখে ক্রমাগত বখাটে ধরনের শিস দিতে থাকেন। একপর্যায়ে নিপীড়িত শিক্ষার্থী তার দিকে সরাসরি তাকালে তিনি বেশ কয়েকবার চোখ টিপ দিয়ে অশ্লীল মুখভঙ্গি প্রদর্শন করেন। তৎক্ষণাৎ অভিযোগকারী ও তার বন্ধু এ নিয়ে প্রশ্ন করলে ওই শিক্ষক অস্বীকার করেন এবং সেখানে শোরগোলের তৈরি হয় বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন তারা। অভিযোগপত্রে ভুক্তভোগী, প্রত্যক্ষদর্শীসহ ১৩ জন শিক্ষার্থী সই করেছেন। এ ছাড়া মঙ্গল শোভাযাত্রার আগে ১৩ এপ্রিল রাতে জয়নুল শিশুকলা নিকেতন কক্ষে চারুকলা অনুষদ প্রথম বর্ষের (২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ) তিন নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে একই শিক্ষক ‘হেনস্তামূলক ও উগ্র আচরণ’ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বিভাগীয় চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো অভিযোগপত্রে অনুষদের সাবেক ও বর্তমান দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে ‘এসব ঘটনা অভিযোগপত্রে যেভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, সে রকম নয়’ বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষক। তিনি বলেন, ‘সোমবার ডিন অফিস থেকে চিঠি পাঠিয়ে আমার লিখিত বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছে। আমি বক্তব্য দিতে প্রস্তুত। আশা করি তদন্তের মাধ্যমে সত্য-মিথ্যা বেরিয়ে আসবে।’ তবে অভিযোগের বিষয়ে অন্য দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন বলেন, ‘আমরা অভিযোগ যাচাই করে দেখছি। আমাদের অ্যান্টি র‌্যাগিং কমিটি আছে, প্রিভেন্স কমিটি আছে। ওই কমিটির সদস্যদের নিয়ে আমরা একটা ফ্যাক্ট চেকিং কমিটি করেছি। যারা অভিযোগ উত্থাপন করেছিল তিন দিন ধরে তাদের মধ্য থেকে কয়েকজনের ইন্টারভিউ নিয়েছি। আর অভিযুক্ত দুজন ছাত্রের মধ্যে একজন বাড়ি চলে গেছে। একজনের সঙ্গে জুমে কথা বলেছি। আরেকজন সাবেক স্টুডেন্ট, তারটাও জুমে নেওয়ার চেষ্টা করছি।’ ডিন বলেন, ‘যারা অভিযোগ করেছে এবং যারা সাক্ষী ছিলেন প্রাথমিকভাবে আমরা তাদের বক্তব্য নিচ্ছি।

আমরা ফ্যাক্ট খুঁজছি। খুঁজে যদি দেখি এর ভিত্তি আছে, তখন আমরা তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।’

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর