শিরোনাম
শুক্রবার, ২০ মে, ২০২২ ০০:০০ টা

ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভায় চরম হট্টগোল

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আওয়ামী লীগের বিশেষ সভায় চরম হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলা হয়েছে। একজনের কথা বলা শেষ না হতেই আরেকজন কথা বলায় এই বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। পরে সভাপতির হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা জানিয়েছেন, গতকাল সংগঠনের শৃঙ্খলা নিয়ে বিশেষ একটি সভা ছিল। সভায় ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি নুরুল আমিন রুহুল এমপি বলেন, ঢাকা মহানগরী উত্তর বেশি কাজ করছে। তাদের প্রচারও বেশি হচ্ছে। আমরা পিছিয়ে আছি। আমাদের কাজ করতে হবে। প্রচার বাড়াতে হবে। এ সময় নুরুল আমিন রুহুলকে থামিয়ে দিয়ে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মোর্শেদ হোসেন কামাল বলেন, আমাদের কাজ হচ্ছে। প্রচারও আছে। আপনি (রুহুল) ৩ নম্বরে (ধানমন্ডি আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কার্যালয়) ঘোরাঘুরি করেন সে কারণে এটা বলছেন। এ সময় নুরুল আমিন রুহুল মোর্শেদ কামালকে উদ্দেশ করে বলেন, আমার কথা শেষ করার আগে আপনি কাউন্টার দিয়ে কথা বলতে পারেন না। সভায় কথা বলতে হলে একটা নিয়ম আছে। সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের অনুমতি নিয়েই কথা বলতে হবে- এটা আপনার জানা উচিত। এ সময় মোর্শেদ কামাল বলেন, কাকে কী শেখাতে আসছেন? আমি সব জানি। নিয়ম শেখাতে আসবেন না। এ সময় নুরুল আমিন রুহুল কাজী মোর্শেদ কামালকে উদ্দেশ করে আরও বলেন, আপনি সব সময় সিনিয়রদের অপমান করেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রের নাম ভাঙিয়ে চলেন। তাকে ভাঙিয়ে খান।

এভাবে চলতে পারে না। এ সময় উভয়ই চরম উত্তেজিত হন। পরে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ মন্নাফী উভয়পক্ষকে থামতে বলেন। সভাপতির হস্তক্ষেপের কারণেই দুজন শান্ত হন। মোর্শেদ কামালের আচরণে অনেক সিনিয়র নেতা ক্ষুব্ধ হন বলে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা জানান। এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, গতকাল একটি বিশেষ সভা ডাকা হয়।

এতে সিনিয়র সভাপতি নুরুল আমিন রুহুল এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোর্শেদ কামালের সঙ্গে এক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। আমার হস্তক্ষেপে তা শান্ত হয়। বৈঠকে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবিরসহ অধিকাংশ নেতাই উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বৈঠকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শ্যামপুর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবু ও সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সামিউল রহমানকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সর্বশেষ খবর