শিরোনাম
শনিবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০০:০০ টা

২০ শতক জমি ও ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে চাকরি!

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জে ২০ শতক জমি ও ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে একটি মাদরাসায় নিরাপত্তাকর্মী পদে আবু ত্বহা নামে এক ব্যক্তিকে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলী ইউনিয়নের হরিনাহাটা দাখিল মহিলা মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি টি এম মঞ্জু ও মাদরাসা সুপার ফরিদুল ইসলাম নিয়োগ পরীক্ষার আগেই এই নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন। নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়টি জানার পরেও শুক্রবার সকালে ডিজি প্রতিনিধি ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অর্থের বিনিময়ে আবু ত্বহাকে নিয়োগের জন্য সুপারিশও করেছেন। এ নিয়ে বহুলী ইউনিয়নে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। জানা যায়, হরিনাহাটা দাখিল মহিলা মাদরাসার নিরাপত্তাকর্মীর জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর পার্শ্ববর্তী খাগা গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে আবু ত্বহাসহ ১৩ জন প্রার্থী আবেদন করেন। আবেদনের পর আবু ত্বহা চাকরির জন্য সভাপতি মঞ্জুর কাছে তদবির করেন। এ সময় মঞ্জু ও মাদরাসা সুপার চাকরির জন্য ২০ শতক জমি ও ৫ লাখ টাকা দাবি করেন। দাবির প্রেক্ষিতে আবু ত্বহা ও তার স্বজনরা ২৮ নভেম্বর সিরাজগঞ্জ রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে মাদরাসার নামে ২০ শতক জমি লিখে দেন। একই সঙ্গে সভাপতি মঞ্জু ও সুপারকে ৫ লাখ টাকা প্রদান করেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরও পরীক্ষা স্থগিত হয়নি। বরং শুক্রবার সকালে মাদরাসায় স্বচ্ছ নিয়োগ পরীক্ষা দেখিয়ে আবু ত্বহাকে নিয়োগের জন্য কর্মকর্তাগণ সুপারিশ করেছেন। ডিজির প্রতিনিধি আতিকুল ইসলাম ও সদর উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা এলিজা সুলতানা অর্থের বিনিময়ে ত্বহাকে সুপারিশ করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অন্যান্য প্রার্থীসহ এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। চাকরিপ্রাপ্ত আবু ত্বহার মামি জানান, ভাগ্নে ত্বহার চাকরির জন্য ২০ শতক জমি ও ৫ লাখ টাকা দেওয়া হবে। মাদরাসার সুপার ফরিদুল ইসলাম বলেন, মাদরাসার জন্য ২০ শতক জমি ও অফিস বাবদ খরচের জন্য আবু ত্বহার কাছ থেকে নিয়োগের আগেই কিছু টাকা নেওয়া হয়েছিল। তবে স্বচ্ছ পরীক্ষার মাধ্যমে আবু ত্বহাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি টি এম মুঞ্জু বলেন, প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো জমি নেই। তাই কবরস্থান-সংলগ্ন ২০ শতক জমি রেজিস্ট্রি করে নেওয়া হয়েছে। অফিস খরচ বাবদ ৫ লাখ টাকাও নেওয়া হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেছেন। ডিজির প্রতিনিধি উল্লাপাড়া কামিল মাদরাসার প্রিন্সিপাল আতিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি মাদরাসার সভাপতি-সুপার জানেন। আমি কোনো কিছু বলতে পারব না বলে মোবাইলফোন কেটে দেন। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এলিজা সুলতানা বলেন, ত্বহাকে নিয়োগের সুপারিশ করার পর জমি রেজিস্ট্রি ও টাকা লেনদেনের বিষয়টি জানতে পেরেছি। এখন বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর