শিরোনাম
শনিবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৪ ০০:০০ টা

শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে তিন জেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

জানুয়ারিতে এসে জেঁকে বসেছে শীত। তিন জেলায় বইছে শৈত্যপ্রবাহ। মধ্যরাত থেকে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকছে দেশ। কুয়াশায় দৃষ্টিসীমা কমে আসায় গতকাল চার ঘণ্টা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামতে পারেনি কোনো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। দুর্ঘটনা এড়াতে বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে বন্ধ রাখা হয় চাঁদপুর-শরীয়তপুর নৌরুটের ফেরি চলাচল। ঘন কুয়াশার কারণে চাঁদপুরের মেঘনায় যাত্রীবাহী লঞ্চের সঙ্গে পণ্যবাহী জাহাজের সংঘর্ষে এক যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে দুটি নৌযানেরই। আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও কুড়িগ্রাম জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

উত্তরবঙ্গের অধিকাংশ স্থানে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে রয়েছে। কুয়াশার কারণে দুপুর অবধি দেখা মিলছে না সূর্যের। আজ যশোর, কুষ্টিয়া অঞ্চলসহ রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের দু-এক জায়গায় গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। আজ মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে, কোথাও কোথাও তা দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এতে বিঘ্ন ঘটতে পারে নৌ, বিমান ও সড়ক যোগাযোগে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন কামরুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, গতকাল ভোররাত ৪টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত ঘন কুয়াশার কারণে এ বিমানবন্দরে তিনটি যাত্রীবাহী বিমান ও একটি কার্গো বিমান অবতরণ করতে পারেনি। ফ্লাইটগুলো ডাইভার্ট হয়ে সিলেট ও কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণ করে, সকাল ৯টার পর ডাইভার্ট ফ্লাইটগুলো শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফিরে আসা শুরু করে। এদিকে ঘন কুয়াশার কারণে শরীয়তপুর-চাঁদপুর নৌরুটে বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয় বলে জানান বিআইডব্লিউটিসির নরসিংহপুর ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক মো. ইকবাল হোসেন।

ঘন কুয়াশায় বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতে চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বরিশালগামী যাত্রীবাহী লঞ্চ এমভি সুন্দরবন-১৬। মালবাহী কার্গো মার্কেন্টাইল-৩-এর ধাক্কায় লঞ্চটির তলা ফেটে যায়। এ ঘটনায় রীনা বেগম নামে এক নারী যাত্রী নিখোঁজ ও অন্য এক আহত যাত্রীকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

লঞ্চটিতে ৫ শতাধিক যাত্রী ছিল। মেঘনার মতলব উত্তর উপজেলার আমিরাবাদ এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনার পর পানি ঢোকা শুরু হলে চরে গিয়ে নোঙর করে লঞ্চটি। শীতের মধ্যে যাত্রীরা লাফিয়ে চরে নেমে পড়ে। পরে সুন্দরবন-১৪ ও সুন্দরবন-১৫ লঞ্চের মাধ্যমে যাত্রীদের বরিশাল পৌঁছে দেওয়া হয়। চাঁদপুর নৌপুলিশের এসপি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান, ঘটনার পর ধাক্কা দেওয়া কর্গো জাহাজটি পালিয়েছে। প্রচণ্ড ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশায় বীজতলা নিয়ে বিপাকে পড়েছে কৃষক। দিনাজপুরের বিরলের ঢেলপির গ্রামের কয়েকজন কৃষক বলেন, ‘বীজতলা বাঁচাতে চারার ওপর পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে হচ্ছে। এ ছাড়া বীজতলার পানি প্রতিদিন বদল করে দিচ্ছি। এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে চারাগাছ টিকবে কি না সন্দেহ।’ এদিকে হাড় কাঁপানো শীতে চরম বিপাকে উত্তরাঞ্চলের মানুষ। ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে শিশু ও বৃদ্ধের ভিড় বাড়ছে। শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ কাজে বের হতে পারছে না। শীতবস্ত্র না থাকায় দরিদ্র শ্রেণির মানুষের কষ্ট বহুগুণ বেড়ে গেছে। অনেকেই ভিড় করছে ফুটপাতে শীতবস্ত্রের দোকানগুলোয়।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর