শিরোনাম
প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৫:১৫
আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৫:২০

নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে উপনির্বাচনে অংশ নিয়েছে বিএনপি: ওবায়দুল কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে উপনির্বাচনে অংশ নিয়েছে বিএনপি: ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচনে প্রচার না চালিয়ে পুলিং এজেন্ট না দিয়ে, মাঠে না থেকে অভিযোগের পর অভিযোগ করে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার বিএনপির সেই পুরনো কৌশল আজকে তারা আবার কাজে লাগাতে চেয়েছে। সেই পুরনো কৌশল আবারও প্রমাণ হয়েছে মরচে ধরে গেছে। 

আজ দুপুরে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটির উদ্যোগে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভা, কৃষকদের মাঝে উন্নত মানের বীজ বিতরণ, প্রতিবন্ধীদের মাঝে সহায়তা সামগ্রী ও বিভিন্ন হাসপাতালে উন্নত মানের মাস্ক বিতরণ কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন। সংসদ ভবনের সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন ওবাদুল কাদের। 

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, জনগণ আর বিএনপির মিথ্যাচারে বিশ্বাস করে না। দলের কর্মীরা নির্বাচন করতে চাইলেও নেতারা দিচ্ছেন না। তারা জনগণের মনের কথাই তো বোঝেন না, দলের কর্মীদের মনের কথাও বুঝতে পারেন না। লোক দেখানো অংশগ্রহণে বিএনপির তৃণমূলে নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপর ক্ষুব্ধ। নির্বাচনে হারার আগেই হেরে দাম্ভিক বৃত্ত থেকে বিএনপি এখনো বেরিয়ে আসতে পারে নাই। স্বতস্ফুর্তভাবে জনগনের উপনির্বাচনে অংশগ্রহণ, আমরা স্বাভাবিকভাবে উপনির্বাচনে এতো টার্নআউট কখনো লক্ষ্য করিনি যেটা ঈশ্বরদী আটঘরিয়ার নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ দেখিয়েছে। আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে বিজয়ী করার মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার প্রতি জনগণের আস্থা আবারও প্রমাণিত হয়েছে।

তিনি বলেন, বিএনপি নেতারা বিরামহীনভাবে তাদের নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতার, মিথ্যা মামলার ও কারান্তরীণ করছে বলে সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন। আমরা মনে করি, এই অভিযোগ সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপির চিরাচরিত মিথ্যাচার। বিএনপির কোন কেন্দ্রীয় নেতাকে কোন জেলা পর্যায়ের নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, জেলে দিয়েছে। আপনি বলুন মহাসচিব সাহেব। 

কাদের বলেন, সরকার দমননীতিতে বিশ্বাস করে না। আপনাদের সাথে মানবিক আচরণ করছে। নিজের দলের নেত্রীকে জেলে রেখে একটা মিছিল আপনারা করতে পারেন না, সেখানে বেগম জিয়ার জামিনের মেয়াদ বাড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা রাজনীতিতে মানবিকতার অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। সেটা কি আপনারা ভুলে গেছেন? শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞ না থেকে অবিরাম মিথ্যাচারের ফানুস উড়াচ্ছে বিএনপি।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, শিল্পাচার্য জয়নুলের আটকে পড়া গরুর গাড়ির মতো বিএনপির রাজনীতি এখন মিথ্যাচারের চোরাবালিতে আটকে আছে। দেশের আইন নিজস্ব গতিতে চলছে। বিচার বিভাগের উপরও সরকারের কোন হস্তক্ষেপ নেই। সরকার নিজের দলের কর্মীদেরও অপকর্মের জন্য শাস্তি দিতে এতোটুকুও কুণ্ঠিত নয়, সেটা বারবার ইতিমধ্যে প্রমাণ হয়েছে। দেশের মানুষ দেখেছে নিজ দলের সমর্থক বা নেতারাও অপরাধী হলে সরকার আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে কোথাও কোন বাধা দেয়নি। সিলেটের ঘটনার ব্যাপারেও আমি একই কথা বলতে চাই, সরকারের অবস্থা, শেখ হাসিনা অবস্থা এখানে অত্যন্ত কঠোর। কোন অবস্থাতে অপরাধী যেই হোক তাকে ছাড় দেয়া হবে না। তাকে বিচারের আওতায় আনা হবে এটাই শেখ হাসিনার নির্দেশ। 

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা জন্মদিন উপলক্ষে ‘প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুযোর্গ মোকাবিলায় মানবতার নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে  ও ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দীর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, দলের স্বাস্থ্য সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কনক কান্তি বড়ুয়া, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য অধ্যাপক ড. একিউএম মাহবুব, বাংলাদেশ প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. মফিজুর রহমান, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক অধ্যাপক কামরুজ্জামান।

বিডি প্রতিদিন/আল আমীন


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর