শিরোনাম
প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২০:০০

পেছাল জাতীয় পার্টির কাউন্সিল

নিজস্ব প্রতিবেদক

পেছাল জাতীয় পার্টির কাউন্সিল
সংগৃহীত ছবি

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি বলেছেন, জাতীয় পার্টির জাতীয় কাউন্সিল ৩০ নভেম্বরের পরিবর্তে ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। 

তিনি বলেন, ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে আমরা রাজনীতি করবো। যারা বলেছিলেন জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান পল্লীবন্ধু এইচএম এরশাদের অবর্তমানে জাতীয় পার্টি ভেঙে যাবে, তাদের ধারণা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। জাতীয় পার্টি অরও সু-শৃঙ্খল এবং শক্তিশালী হিসেবে বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠে থাকবে।

বুধবার বিকালে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বাংলাদেশ সেমিনার হলে জাতীয় ছাত্র সমাজের কেন্দ্রীয় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সাংগঠনিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, পল্লীবন্ধুর অভাব হঠাৎ করেই পূরণ করা সম্ভব নয়। তিনি ৩৬ বছর রাজনৈতিক জীবনের ২৭ বছরই ক্ষমতার বাইরে থেকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিবেদিত ছিলেন। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পল্লীবন্ধু আমরণ সংগ্রাম করেছেন। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক শূন্যতায় জাতীয় পার্টি আরও শক্তিশালী হয়ে, সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণের কর্মসূচি দিয়ে দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জাতীয় পার্টি আগামী দিনে রাজনীতির নিয়ামক এবং চালিকা শক্তি হয়ে থাকবে।

জাতীয় ছাত্র সমাজের নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্য জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, একটি সময়ে দেশের ছাত্র সংগঠনগুলো দল বা ব্যক্তির লেজুড়বৃত্তি ও লাঠিয়াল বাহিনীতে পরিণত হয়েছিল। আর এ কারণেই পল্লীবন্ধু এরশাদ ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করেছিলেন। 

তিনি উপদেশ দিয়ে বলেন, ছাত্রসমাজ যেন কারো লাঠিয়ালে পরিণত না হয়। ছাত্র সমাজকে প্রতিটি অন্যায় আর অসত্যের প্রতিবাদ করে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থাকতে হবে। 

ছাত্র সমাজের প্রতি সততা ও ন্যায়ের সঙ্গে রাজনীতি করতে আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাজনীতি করতে অর্থের প্রয়োজন আছে। কিন্তু অর্থের জন্য রাজনীতি করা দূর্বৃত্তায়ন। জাতীয় পার্টির আরও সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে, তাই জাতীয় ছাত্র সমাজকে আরও শক্তিশালী হতে হবে।

এসময় জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা এমপি বলেন, জাতীয় পার্টি এখন সকল ষড়যন্ত্র থেকে মুক্ত। ২০২৩ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় পার্টি আরও শক্তিশালী হচ্ছে। 

তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির যেসব নেতাদের সন্তানরা জাতীয় ছাত্র সমাজ করছে না, সেসব নেতারা কোন নির্বাচনেই জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন পাবে না। জাতীয় পার্টি সংসদে বিরোধী দলের অবস্থানে আছে। আমরা সরকারের সঙ্গে নির্বাচন করেছি, তাই তাদের সঙ্গে আমাদের একটা সু-সম্পর্ক আছে। তাই বলে সরকার যা বলবে জাতীয় পার্টি তা করবে না। জাতীয় পার্টি স্বচ্ছ বিরোধী দল হিসেবে বাংলাদেশে রাজনীতি করবে। 

ছাত্র সামজের উদ্দেশ্যে মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, এরশাদ ছিলেন একজন পরিষ্কার মানুষ, তাই জাতীয় ছাত্র সমাজের সকলকে পরিস্কার মানুষ হতে হবে।

জাতীয় ছাত্র সমাজ কেন্দ্রীয় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক জামাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব ফয়সাল দিদার দিপু'র উপস্থাপনায় সাংগঠনিক সভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, এড. রেজাউল ইসলাম ভুইয়া, ভাইস চেয়ারম্যান আহসান আদেলুর রহমান আদেল এমপি, যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু, সাংগঠনিক সম্পাদক নির্মল দাশ, এড.আব্দুল হামিদ ভাষানী, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ ইফতেকার আহসান হাসান, যুগ্ম-ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান মিরু প্রমুখ।

বিডি প্রতিদিন/১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯/আরাফাত


আপনার মন্তব্য