শিরোনাম
প্রকাশ : ২৩ মে, ২০২০ ১৮:০৬

সাড়া মিলছে প্লাজমা থেরাপিতে

জয়শ্রী ভাদুড়ী

সাড়া মিলছে প্লাজমা থেরাপিতে

দেশে প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগে সাড়া মিলছে। এ পর্যন্ত আটজন রোগীর শরীরে পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে। অধিকাংশ রোগীর অবস্থা উন্নতির দিকে, বাকিদের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। তবে প্লাজমা দাতা সংকটে কাঙ্খিত পরিমাণ রোগীকে প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের হেমাটোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এম এ খান। 
কভিড-১৯ রোগে আক্রান্তদের সারিয়ে তুলতে সেরে ওঠা ব্যক্তিদের রক্তের প্লাজমা অসুস্থদের দেওয়ার চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ নানা দেশ। চিকিৎসকরা বলছেন, কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা এ ভাইরাস মোকাবিলা করে টিকে থাকতে অ্যান্টিবডি তৈরি করে। এই অ্যান্টিবডি করোনাভাইরাসকে আক্রমণ করে। সময়ের সাথে সাথে আক্রান্ত ব্যক্তির প্লাজমায় প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়।

ওই অ্যান্টিবডিই অসুস্থদের সারিয়ে তোলার জন্য ব্যবহার হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি সপ্তাহে করোনা আক্রান্ত পাঁচ হাজার রোগীকে প্লাজমা প্রয়োগ করা হচ্ছে। বিশে^র ৬০টি দেশে করোনা থেরাপি শুরু হয়েছে। তাতে সব জায়গাতেই ভালো ফল মিলেছে। চীনে আক্রান্ত রোগীদের প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগ করা হয়েছে। বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগের নির্দেশনা দিয়েছে। ইবোলো ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে এ পদ্ধতি কার্যকর ছিলো। 

ডা. এম এ খান জানান, আক্রান্ত হওয়ার পাঁচদিনের মধ্যে প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগ করতে পারলে কার্যকারিতা বাড়ে। দেরি হলে ভাইরাস ফুসফুসকে ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলে। শরীরে ভাইরাস বেশি থাকাকালীন প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগ করলে ফুসফুসকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচানো যায়। পরীক্ষামূলকভাবে আমরা দুজনের শরীরে প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগ করেছি। এ ছাড়া বিভিন্ন জায়গায় আরো ছয়জনকে প্লাজমা থেরাপি দেওয়া হয়েছে। তাদের অধিকাংশের অবস্থা উন্নতির দিকে, বাকিদেও অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানান এই চিকিৎসক।

প্লাজমা থেরাপি দেওয়া এক অধ্যাপকের ব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক জানান, আগে তার শ^াসকষ্ট হচ্ছিলো। শরীরে অক্সিজেনের সরবরাহ কম ছিলো। প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগের পরে তার শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ বেড়েছে। তার অবস্থা আগের চেয়ে অনেক উন্নতি হয়েছে। কিন্তু প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগে দাতা সংকট দেখা দিচ্ছে। করোনা আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়ে যাওয়া একজন ব্যক্তির শরীর থেকে প্লাজমা সংগ্রহ দুজন আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে প্রয়োগ করা যায়। সুস্থ হয়ে যাওয়া ব্যক্তিরা প্লাজমা দিতে এগিয়ে আসছেন না। তাই করোনাজয়ী তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন ডা. এম এ খান। 

প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগে এখনো সরকারি কোন বরাদ্দ মেলে নি। দাতার শরীর থেকে প্লাজমা সংগ্রহের জন্য একটি বিশেষ কিট প্রয়োজন হয়। এ ধরনের প্রতিটি কিটের দাম ১২ হাজার টাকা। প্লাজমাদাতার রক্তে অ্যান্টিবডির পরিমাণ জানতে যে পরীক্ষা করতে হয় সেজন্য স্পেন থেকে চারটি কিট আনার আদেশ দিয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। প্রতিটি কিটের দাম পড়বে দেড় লাখ টাকা করে। একটি কিটে ৯০টি নমুনা পরীক্ষা করা যায়। আপাতত ঢাকা মেডিকেলের নিজস্ব খরচে পরীক্ষামূলক পর্যায় শুরু করা হলেও বড় আকারে এ পদ্ধতি প্রয়োগ করতে গেলে সরকারের সহায়তা প্রয়োজন। 

বিডি প্রতিদিন/আল আমীন


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর